পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఇ00 विठूठ-ज्ञाळ्नावलौ —তোমার একটি ছোট ভাই আছে শনছিলাম, সে কি করে ? —সেও দোকানে বেরোয় । খুব ছোট নয়, তার বয়েস এই সাতাশ বছর হল। জগন্নাথ চাটুজে বললে, বাবাজি বিয়ে করেছ কোথায় ? —কই, আমি বিয়ে তো করি নি এখনও । কেদার জানতেন না যে প্রভাস অবিবাহিত। প্রভাসের সম্বন্ধে এ কথা তিনি কারো মুখে শোনেন নি । তিনি বিস্ময়ের সরে বললেন, বিয়ে করো নি । তা তো জানতাম না । জগন্নাথ চাটুতেজ বললেন, আমিও জানতাম না। বাবাজির বয়েস অবিশ্যি এখনও— বয়েসটা কত হ’ল বাবাজি ? —আজ্ঞে, একত্রিশ যাচ্ছে । —ওঃ, একত্রিশ । যথেষ্ট সময় আছে। তোমাদের এখনো যথেস্ট— —সে জন্যে নয় কাকাবাব, বিয়ে আমার করবার ইচ্ছে নেই। —বলো কি বাবাজি ! তোমাদের রাজার মত সম্পত্তি, বাড়িঘর, বিয়ে করবে না কি রকম ? প্রভাস হাসি-হাসি মুখে চুপ করে রইল । জগন্নাথ চাটুজে বললে, রাস-দাদা কিছল বলেন না এ নিয়ে ? — অনেক বড় বড় সম্বন্ধ এনেছেন । হুগলী বালিতে একবার পচিশ হাজার টাকা দেবে আর হীরে জহরতের জড়োয়া—বাবা কিছুতেই ছাড়বেন না। বাবাকে বললাম, অমন সম্বন্ধ এর পরে জোটবার অভাব হবে না, যদি আমি বিয়েই করি । বাবা তাদের জানিয়ে দিলেন, কিন্তু তবুও তারা পীড়াপীড়ি করতে লাগল এমন যে, আমি ওয়ালটেয়ার পালিয়ে গেলাম —সেখানে আমাদের বাড়ি আছে কি না ! বছর পাঁচ-ছয় হ’ল বাবা হাইকোটের সেলে কিনেছিলেন । কেদার বললেন, কি জায়গাটা বললে বাবাজি—কোথায় সেটা ? —ওয়ালটেয়ার। সমুদ্রের ধারে । সমুদ্র কোন দিকে কত দরে, কেদারের সে সম্বন্ধে সম্পন্ট ধারণার অভাব ছিল, কিন্তু জগন্নাথ চাটুজের জামাই রেলে কাজ করে, সে গত প্জোর সময়,সঙ্গীক পাশ নিয়ে পরী গিয়েছিল । জগন্নাথ চাটুঞ্জের জানা আছে মাত্র এইটুকু যে পরী নামক প্রসিদ্ধ তীর্থসহানটি সমাদের ধারে—সে সমুদ্র যত দরেই হোক বা যে দিকেই হোক । সুতরাং সে জিজ্ঞেস করলে —পরীর কাছে বাবাজি ? —না, পরী থেকে অনেক নিচে । বলা বাহুল্য, পরীর নিচে বা ওপরে কি ভাবে আর একটা জায়গা থাকতে পারে এ কথা জগন্নাথ বা কেদার কারো কাছেই তেমন পরিস্ফুট হ’ল না । সে দিক থেকে বরং সমস্যা জটিলতর হয়ে দাঁড়াতো এদের কাছে, কিন্ত শরৎ দোরের কাছে দাঁড়িয়ে ওদের কথাবাত্তা শনেছিল, সে তার বাবার মুখের দিকে চেয়ে বললে—পরীর আরও দক্ষিণে হ’ল তা হলে— না বাবা ? r. W কেদার বিপন্নমুখে বললেন, হাঁ—দক্ষিণে ?—তাই—ইয়ে দক্ষিণেই তো তা হলে গিয়ে— প্রভাস হঠাৎ শরতের মুখের দিকে একটু বিস্ময়-মিশ্রিত প্রশংসার দটিতে চেয়েই তখনই আবার চোখ ফিরিয়ে নিয়ে জগন্নাথের দিকে চেয়ে বললে, ঠিক বলেছেন উনি। দক্ষিণেই হ’ল । এবার সকলে পকূরের পাড়ের জঙ্গলের মধ্যে ঢুকলো ইট দেখবার জন্যে । হাতিম-বনের