পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ఫిS& পাই নি কাউকে । অন্যায় দোষ দিলে ধমে সইবে না । রাজলক্ষী প্রশংসমান দটিতে শরতের সংগঠিত সন্দের দেহের দিকে চেয়ে চেয়ে বললে—. সে যদি কেউ পারে, তবে তুমিই পারবে শরৎদি, তা আমি জানি । তোমায় দেখলে আমাদের মনে সাহস আসে । শরৎ দশমির হাসি হেসে রাজলক্ষীর মুখের দিকে সন্দর ভঙ্গিতে চেয়ে বলল—ইস । বলিস কি রে! সত্যি ? সত্যি নাকি ? 矚 রাজলক্ষীও উৎসাহের সরে হাসিমুখে বললে, বাঃ, কি সন্দের দেখাচ্ছে তোমায় শরৎ দিদি ? কি চমৎকার ভাবে চাইলে ? আমারই মন কেমন করে ওঠে, তবুও আমি মেয়েমানুষ । শরৎ কৃত্রিম কোপের সঙ্গে বললে, আবার । বারণ করে দিলাম না ? ওসব কথা বলবি নে। মেয়ের এদিকে নেই ওদিকে আছে ? চল বাসনগলো কিছ নে দিকি হাতে করে— —বেলা আর নেই। এখন ছিটির কাজ বাকি ! বাড়ি ফিরে রাজলক্ষী বললে,চলে যাই শরৎ দিদি—সন্দে হলে যেতে ভয় করবে। শরৎ তাকে যেতে দিলে না । বললে—ও কিরে ! তোকে বিছ খেতে দিলাম না যে : তা হবে না। এইবার চা করি, আর কিছু খাবার করি । * —না শরৎদি, পায়ে পড়ি ছেড়ে দাও আজ। আর একদিন এসে খাবো এখন। শরৎ কিছুতেই শুনলে না—কখনো সে রাজলক্ষীকে কিছল না খাইয়ে ছেড়ে দেয় না, নিজে সে গরীব, গরীব ঘরের মেয়ে রাজলক্ষীর দুঃখ ভাল করেই বোঝে । বাড়িতে হয়তো বিকেলে খাবার কিছুই জোটে না-আসে এখানে, গল্প করে—ওকে খাওয়াতে পারলে শরতের মনে তৃপ্তি হয় বড়। শরৎ চা করে দিলে ওকে, নিজের জন্যে একটা কাসার গ্লাসে ঢেলে নিলে । হালয়া করে ওকে কিছু দিয়ে বাকিটা বাবার জন্য রেখে দিলে । রাজলক্ষী বললে, ওকি শরৎদি, তুমি নিলে না ? —আমি একেবারে সন্দের পরই তো খাবো । এখন খেলে আর খিদে পায় না, তুই খা । রাজলক্ষসী চা ও খাবার পেয়ে একটু খুশীই হল । বললে, কি সন্দের হালয়া তুমি করো শরৎদি— --যাঃ, আমার সবই তো তোর ভালো । —তা ভালো লাগলে ভালো বলবো না ? বা রে—তোমার সবই আমার যদি ভালো লাগে, তবে কি করি বলো না ? —আমারও ভাল লাগে তুই এলে, বুঝলি ? এই নিবান্দা পরীর মধ্যে একা মুখটি বাজে সদাসৎব’দা থাকি, কেউ এলে গেলে বড় ভাল লাগে । বাবা তো সব সময় বাড়ি থাকেন না—তোর সঙ্গে বেশ একটু গল্পগজব করে বড় আমোদ পাই । —আমারও, শরৎদি ! গায়ের আর কোনো মেয়ের সঙ্গে মিশে তেমন আমোদ পাই নে, তাই তো তোমার কাছে আসি । রাজলক্ষীর বিবাহের বয়স পার হয়েছে—কিস্ত বাপ-মায়ের পয়সার জোর না থাকায় এখনও কিছ: ঠিকঠাক হয়নি। শরতের মনে এটা সব্বদাই ওঠে, যেন তার নিজেরই কন্যাদায় উপস্হিত। কেদারকে দিয়ে শরৎ দু-এক জায়গায় কথাবাত্তা তুলেছিল, কিন্তু শেষ পয্যন্ত পয়সাকড়ির জন্যে সে-সব সম্মবন্ধ ভেঙে যায়। আজ দিন দশ-বারো হল, কেদার আর একটা সম্মবন্ধ “এনেছিলেন—শরতেরও শনে মনে হয়েছে সেখানে হলে ভালই হয়। পবে এ নিয়ে