পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২২o বিভূতি-রচনাবলী যখন তাঁর মনে পড়ে হঠাৎ তখন বড় অন্যমনস্ক হয়ে যান কেদার । যেখানেই থাকুন, মনে হয় এখনি ছটে একবার তার কাছে চলে যান । আহা, এত রাত পয্যন্ত মেয়েটা একা এই জঙ্গলে-ঘেরা বাড়ির মধ্যে থাকে, কাজটা ভাল হচ্ছে না—ঠিক নয় কেদারের এতক্ষণ বাইরে থাকা । দোরে ঘা দিয়ে কেদার ডাকলেন, ও শরৎ, মা ওঠো, দোর খোলো— দু-তিনবার ডাকের পর শরতের ঘমেজড়িত কঠের ক্ষীণ সাড়া পাওয়া গেল । —উঠে দোর খ,লে দে-ও শরৎ— শরৎ বিরক্টিভরা মুখে দোর খুলতে খলতে বললে, আমি মরবো মাথা কুটে কুটে তোমার সামনে বাবা । পারি নে আর—সন্দে হয়েছে কি এ যুগে ! রাত কাবার হয়ে গেল—এখন তুমি বাড়ি এলে ! পাবে ফস হবার আর বাকি আছে ? —না না, আরে এই তো বামনপাড়ায় চৌকিদার হেকে গেল—রাত এখনও অনেক আছে । আর বকিস নে, এখন ভাত দে দিকি । খিদে পেয়েছে যা--- কেদার খেতে বসলে শরৎ ঝাঁঝের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলে, কোথায় ছিলে এতক্ষণ ? —কোথায় আর থাকবো ? আমাদের দলের মহলা হচ্ছে, সেখানে আমি না থাকলেই সব মাটি । যেদিকে আমি না যাবো সেদিকেই কোনো কাজ হবে না । শরৎ একটু নরম সরে বললে, যাত্রা কোথায় হবে ? আমি কিন্ত যাবো তোমার সঙ্গে । —তা ভালই তো । বাড়ির মেয়েদের জন্যে চিক দিয়ে দেবে, যাবি তো ভালই। শরৎ একটু চুপ করে থেকে বললে, বাবা, আজ প্রভাসদা এসেছিল । কেদার বিস্ময়ের সরে বললেন, কোথায় ? কখন ? —তুমি বেরিয়ে চলে গেলে তার একটু পরেই। এখানে এসে বসলো। তার সঙ্গে আর একজন ওর বন্ধ । দু-জনকে চা করে দিলাম—খাবার কিছু নেই, কি করি—একটুখানি ময়দা পড়েছিল, তাই দিরে খানকতক পরোটা ভেজে দিলাম । —বেশ বেশ । কতক্ষণ ছিল ? —তা অনেকক্ষণ—প্রায় ঘণ্টাতিনেক । সম্প্রধ্যা হবার পরও খানিকক্ষণ ছিল । —কি বলে গেল ? —বেড়াতে এসেছিল। প্রভাসদা’র বন্ধ কলকাতার কোন বড়লোকের ছেলে, বেশ চেহারা। নাম অরণ মখোজে। আমাদের গড়বাড়ির গল্প শনে সে এসেছিল প্রভাসদা’র সঙ্গে দেখতে । অনেকক্ষণ ঘরে ঘরে দেখলে । —বড়লোকের কাল্ড, তুইও যেমন ! ঘরে পয়সা থাকলেই মাথায় নানা রকম খেয়াল গজায় । তার পর, দেখে কি বললে ? —খব খুশী । আমাদের এখানে এসে কত রকম কথা বলতে লাগল, অর্ণবাব আবার আসবে, ফটোগ্রাফ নিয়ে যাবে ! কি লিখুবে নাকি আমাদের গড়বাড়ি নিয়ে । আমায় তো একেবারে মাথায় তুললে । —ওই তো বললাম, বড়লোকের যখন যেটি খেয়াল চাপবে । কলকাতায় মানুষের অভাব নেই—আমাদের মত দুঃখ-ধান্দা করে যদি খেতে হত— শরতের হাসি পেল বাবার দুঃখ-ধাদা করে খাবার কথায় । জীবনে তিনি তা কখনো করেন নি। কাকে বলে তা এখনও জানেন না । কিসে কি হয় তা শরৎ ভাল করেই জানে । যেমন আজকের দিনের কথা । শরৎ হবেহা সত্য কথা বলে নি। ঘরে কিছই ছিল না । ওরা গেল ভাঙা ইট কাঠ দেখতে, গড়বাড়ি ঘরতে—সেই ফাঁকে শরৎকে উদ্ধ বাসে ছটতে হল রাজলক্ষীদের বাড়ি ময়দা ও ঘি ধার করতে। সেখানে পাওয়া গেল তাই মান রক্ষে ।