পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৈদার রাজা ২৬৯ এদের কথাবাত্তার গতি কেদার বুঝতে পারলেন না, একবার বলে মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে ন, আবার বলে পাওয়া গিয়েছে—গিয়ে যদি থাকে, তবে কি তাকে সাংঘাতিক আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে ? নইলে এরা তার পরে আবার কিন্তু" বলে কেন ? মহত্তে'র মধ্যে, কেদারের মনে এই কথাগুলো খেলে গেল—কিন্তু তাঁর হতবুদ্ধি ওষ্ঠাধর বাক্যে এর রপ দেওয়ার প্বেই গিরীন আবার বললে—হয়েছিল কি জানেন, আপনার মেয়ে—বল না হে প্রভাস ! প্রভাস বললে, বলবো কি, আমারও হাত-পা আসছে না । আপনার সামনে একথা বলতে, অরণের সঙ্গে কাল শরৎ-দি কোথায় চলে গিয়েছিল—কাল রাত্রে তারা সারারাত আসে নি । আজ সকালে—মানে— গিরীন ওর কাছ থেকে কথা লুফে নিয়ে বললে, মানে আমরা কাল সারারাত খোঁজাখুজি করেছি—পাই নি। আপনার কাছেই বা কি বলি, কার কাছেই বা কি বলি– তার পর আজ সকালে একটা কুশ্রেণীর মেয়ের বাড়িতে এদের দুজনকে পাওয়া গিয়েছে। এসব কথা বলতে আমাদের মাথা কাটা যাচ্ছে লজ্জায়। প্রভাস তো বলেছিল, আমি কাকাবাবরে কাছে গিয়ে এসব বলতে পারবো না। আমি বললাম - না চলো, বলতেই যখন হবে আমিই বলবো এখন । তিনিও তো ভাববেন । তাই ও এল, নইলে ও আসতে চাইছিল না । কেদার নিবোধের মত ওদের মখের দিকে চেয়ে সব কথা শুনছিলেন–কিন্তু কথাগলোর অর্থ তাঁর তেমন বোধগম্য হয় নি বোধ হয়—কারণ কিছমাত্র না ভেবেই তিনি প্রশ্ন করলেন, তাকে তোমরা আনলে না কেন ? তার অসুখ-বিসুখ হয় নি তো ? গিরীন হাত নেড়ে একটা হতাশাসচেক ভঙ্গি করে বললে, সে চেস্টা করতে কি আর আমরা বাকি রেখেছিলাম ? আসতে চাইলেন না । কেদার বিস্ময়ের সরে বললেন, আসতে চাইলে না । —তবে আর বলছি কি ছাই আপনাকে । আমি আর প্রভাস গিয়ে আজ সকাল থেকে কত খোশামোদ । তা বললেন, আমি যাবো না। এখানে বেশ আছি । কুশ্রেণীর দুটো মেয়ে আছে সে বাড়িতে, দিব্যি দেখলাম সাজিয়েছে । আমায় বললেন, দেশে আর সে জঙ্গলে ফেরবার আমার ইচ্ছে নেই। এই বেশ আছি । অরণে তাঁকে সখে রাখবে বলেছে । কলকাতা শহর ফেলে তিনি আর জঙ্গলে ফিরতে চান না, এই গেল আসল কথা । বললেন, আমি সাবালিকা, আমার বয়স হয়েছে, আমি এখন যা খুশি করতে পারি। আমি যাবো না। এখন যেমন ব্যাপার বুঝছি অরণের সঙ্গে ওর-মানে মনের মিল হয়ে গিয়েছে— বয়েসও তো এখনও—বঝেলাম যতদর তাতে-- কেদার অধীর ভাবে বললেন, আমার কথা বলেছিলে ? —আজ্ঞে হ্যাঁ । এই জিজ্ঞেস করন না প্রভাসকে । সকাল থেকে ঝুলোকুলি করেছি আমরা। কিছু কি আর বাদ রেখেছি।--কাল থেকে কলকাতা শহর তোলপাড় করে বেড়িয়েছি। ওদিকে অরণের সঙ্গে ওখানে গিয়ে উঠেছেন তা কি করে জানবো ? তা আপনার কথা বলতে বললেন, বাবাকে দেশে ফিরে যেতে বলন । আমার এখন সেখানে যাবার ইচ্ছে নেই-এই জিজ্ঞেস করন না প্রভাসকে ? - প্রভাস বিষন্ন মুখে বললে, সে-সব কথা আর কি বলি ? কত রকম করে বোঝালম । তা ওই এক বলি মুখে । আমি আর ফিরবো না দেশে, বাবাকে গিয়ে বলো গে যাও । আমি এখানে বেশ আছি । এসব কথা কি আপনার কাছে বলবার কথা, লজ্জায় মাথা কাটা যায় —কি করি বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। আমি কি চেস্টার গুটি করেছি কাকাবাব ? এখন এক