পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՀԵ বিভূতি-রচনাবলী ঠিকানা বিনিময়ের পর প্রীতি পায়ের ধলা লইয়া প্রণাম করিয়া বিদায় লইল । আবার অপর এ-কথা মনে না হইয়া পারিল না-কাল মহাকাল, সবারই মধ্যে পরিবত্তন আনিয়া দিবে-তোমার বিচারের অধিকার কি ? আরও মাস দই কোন রকমে কাটাইয়া অপ পাজার সময় দেশে গেল।” সেদিন ষষ্ঠী, বাড়ির উঠানে পা দিয়া দেখিল পাড়ার একদল মেয়ে ঘরের দাওয়ায় মাদর পাতিয়া বসিয়া হাসিকলরব করিতেছে—অপ উপস্হিত হইতে অপণা ঘোমটা টানিয়া ঘরের মধ্যে ঢুকিল । পাড়ার মেয়েদের সে আজ ষষ্ঠী উপলক্ষে বৈকালিক জলযোগের নিমন্ত্রণ করিয়া নিজের হাতে সকলকে আলতা সি’দর পরাইয়াছে । হাসিয়া বলিল, ভাগ্যিস এলে ! ভাবছিলাম এমন কলার বড়াটা আজ ভাজলাম— —সত্যি, কৈ দেখি ? —বা রে, হাত মুখ ধোও—ঠা"ডা হও—অমন পেটুক কেন তুমি ?”পেটুক গোপাল কোথাকার ! পরে সে রেকাবিতে খাবার আনিয়া বলিল,—এগুলো খেয়ে ফেলো, তারপর আরও দেব —দ্যাখো তো খেয়ে, মিষ্টি কম হয় নি তো ?—তোমার তো আবার একটুখানি গড়ে হবে नी । 尊 -খাইতে খাইতে অপ ভাবিল—বেশ তো শিখেছে করতে ! বেশ— পরে দেওয়ালের দিকে চোখ পড়াতে বলিল,—বাঃ, ও-রকম আলপনা দিয়েছে কে ? ভারী সন্দের তো ! অপণা মদ হাসিয়া বলিল,—ভাদ্র মাসের লক্ষীপ জোতে তো এলে না । আমি বাড়িতে পজো করলাম,—মা করতেন, সিদিরমাখা কাঠা দেখি তোলা রয়েছে, তাতে নতুন ধান পেতে—বামন খাওয়ালাম । তুমি এলেও দটি খেতে পেতে গো—তারই ঐ আলপনা— —তাই তো ! তুমি ভারী গিনী হয়ে উঠেছ দেখছি । লক্ষীপুজো, লোক খাওয়ানো— আমার কিন্তু এসব ভারী ভাল লাগে অপণা—সত্যি, মাও খুব ভালবাসতেন—একবার তখন আমরা এখানে নতুন এসেছি—একজন বড়োমত লোক আমাদের উঠোনের ধারে এসে দাঁড়িয়ে বললে,—খোকা ক্ষিদে পেয়েছে, দটো মুড়ি খাওয়াতে পারো ?—আমি মাকে গিয়ে বললাম, মা, একজন মাড়ি খেতে চাচ্ছে, ওকে খানকতক রীটি করে খাওয়ালে ভারী খুশী হবে,—খাওয়াবে মা ? মা কি করলে বলো তো ? —রটি তৈরী ক'রে বঝি— —তা নয়। মা একটু করে সরের ঘি ক’রে রাখত, আমি বোডিং থেকে বাড়িটাড়ি এলে পাতে দিত। আমায় খুশী করবার জন্য মা সেই ঘি দিয়ে আট-দশখানা পরোটা ভেজে লোকটাকে ডেকে, দাওয়ার কোলে পিড়ি পেতে খেতে দিলে। লোকটা তো অবাক, তার মুখের এমন ভাব হ’ল ! রাত্রে অপণা বলিল—দ্যাখো, মা চিঠি লিখেছেন,—পজোর পর মুরারি-দা আসবেন নিতে, পাঁচ-ছ'মাস যাই নি, তুমি যাবে আমাদের ওখানে ? অপর বড় অভিমান হইল। সে এত আশা করিয়া পাজার সময় বাড়ি আসিল, আর এদিকে কিনা অপণা বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য পা বাড়াইয়া আছে ? সে-ই তাহা হইলে ভাবিয়া মরে, অপণার কাছে বাপেরবাড়ি যাওয়াটাই অধিকতর লোভনীয় । অপ: উদাস সরে বলিল—বেশ, যাও । আমার যাওয়া ঘটবে না, ছটি নেই এখন। কথাটা শেষ করিয়া সে পাশ ফিরিয়া শইয়া বই পড়িতে লাগিল। অপণা খানিকক্ষণ পরে বলিল—এবার যে বইগলো এনেছ আমার জন্যে, ওর মধ্যে একখানা চয়নিকা’ তো আনলে