পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা එOද් সে যে সামান্য বংশের মেয়ে নয়, তা দেখলে আর বুঝতে বাকী থাকে না। তাই তো ছটে এলাম, বলি দেখে আসি তো— শরৎ বড় লৎজা পায় রাপের প্রশংসা শনলে । এ পয্যন্ত তা সে অনেক শুনেছে—রপের প্রশংসাই তার কাল হয়ে দাঁড়াল জীবনে, আজ এই দশা কেন হবে নইলে ? কিন্ত সে-সব কথা বলা যায় না কারো কাছে, সতরাং সে চুপ করেই রইল । কালোর মা বললেন, খোকা তো মাসীমা বলতে অজ্ঞান । তবু একদিনের দেখা । কি গণে তোমার মধ্যে আছে ভাই, তুমিই জানো— বকাসীদের বড় বউ বললে, একটু আমাদের বাড়ি পায়ের ধলো দিতে হবে ভাই— —এখন কি করে ষাবো বলুন, ছয়টি যে ফুরিয়ে এলো— —তা শনবো না, নিয়ে যাবো বলেই এসেছি—দিদিও চলন,রেণকো ভাই তুমিও এসো— খোকাকে কোলে নিয়ে শরৎ ওদের বাড়ি চলল সকলের সঙ্গে । বড় বউ বললে, ভাই তোমার কোলে কালোকে মানিয়েছে বড় চমৎকার ও যেমন সুন্দর, তুমিও তেমন । মা আর ছেলে দেখতে মানানসই একেই বলে— ওদের বাড়ি যে জলযোগের জন্যেই নিয়ে যাওয়া একথা সবাই বুঝেছিল । হ’লও তাই, শরতের জন্যে ফলমল ও সন্দেখ—বাকি দুজনের জন্যে সিঙ্গাড়া কচুরির আমদানিও ছিল । বউ দটির অমায়িক ব্যবহারে শরৎ মগধ হয়ে গেল। খানিকক্ষণ বসে গল্পগজবের পর শরৎ বিদায় চাইলে । বড় বউ বললে, আপার কিন্ত আসবেন ভাই, এখন যখন খোকার মাসীমা হয়ে গেলেন, তখন খোকাকে দেখতে আসতেই হবে মাঝে মাঝে— —নিশ্চয়ই আসবে ভাই— to থোকা কিন্ত অত সহeেr তার মাস মাকে যেতে দিতে রাজী হ’ল না । সে শরতের অচল ধরে টেনে বসে রইল, বললে—এখন টুমি যেও ন মাছীমা— --যেতে দিবি নে ? —না । —আবার কাল আসবো । তোর জন্যে একটা ঘোড়া আনবো— —না, টুমি যেও না । শরৎ মগধ হয় শিশ; কত সহজে তাকে আপন বলে গ্রহণ করেছে তাই দেখে । যেন ওর কতদিনের জোর, কতদিনের ন্যায্য অধিকার । সব শিশ, যে এমন হয় না, তা শরতের জানতে বাকী নেই । খোকা ওর ছোট্ট মাঠি দিয়ে শরতের অচিলে কয়েক পাক জড়িয়েছে। সে পাক খলবার সাধ্য নেই শরতের, জোর করে তা সৈ খলতে পারবে না, চাকরি থাকে চাই যায়। শরতের হৃদয়ে অসীম শক্তি এসেছে কোথা থেকে, সে ত্রিভুবনকে যেন তুচ্ছ করতে পারে এই নবাডিজ"ত শক্তির বলে, জীবনের নতুন অথ' যেন তার চোখের সামনে খালে গিয়েছে। যখন অবশেষে সে বাড়ি চলে এল, তখন সন্ধ্যার বেশী দেরি নেই । মিনার কাকীমা মুখ ভার করে বললেন, রোজ রোজ তোমার বেড়াতে যাওয়া আর এই রাত্তিরে ফেরা ! উননে অচি পড়লো না এখনও, ছেলেমেয়েদের আজ আর খাওয়া হবে না দেখছি । আটটার মধ্যেই ওরা ঘুমিয়ে পড়বে— —কিছ হবে না, আমি ওদের খাইয়ে দিলেই তো হ’ল— —তোমার কেবল মুখে মথে জবাব । এ বাড়িতে তোমার সবিধে দেখে কাজ হবে নাআমার সবিধে দেখে কাজ হবে, তা বলে দিচ্ছি। কাল থেকে কোথাও বেরতে পারবে না।