পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা రి8్ఫ তার পাবপরীষের অভু্যদয়ের দিনের শত পণ্য অনুষ্ঠানে এ বাড়ির মাটি পবিত্র, এ বাড়ির সে মেয়ে, আবাল্য যে এ-সব এইখানেই দেখে এসেছে—তার ভয় কিসের ঐ উত্তর দেউলের দেবী বাহারী তাদের মঙ্গল করবেন। সে ঘরে ফিরে ডুমসরের চচ্চড়ি রান্না করবে বাবা আর জ্যাঠামশায়ের জন্যে । জ্যাঠামশায় অনেক ডুমর পেড়ে এনেছেন আজ কোথা থেকে । জ্যাঠামশায় বেশ লোক । ওকে সে আর কোথাও যেতে দেবে না। উনি না থাকলে কে তাকে আনতো কাশী থেকে ? বাবার সঙ্গে কে আবার দেখা করিয়ে দিত ? যতদিন উনি বাঁচেন, সে ওর সেবা-যত্ন করবে মেয়ের মত । শরতের হঠাৎ মনে পড়ল, রাজলক্ষীকে তার খবশুরবাড়ির সে পরানো চিঠিখানা আনবার জন্যে মনে করিয়ে দেওয়া হয় নি আর একবার । টুঙি-মাজদিয়া । কত দিন সেখানে যাওয়া হয় নি। কে-ই বা আছে আর সেখানে ? চিঠি লিখেছেন বোধ হয় খড়শাশুড়ী । তাই হবে—তা ছাড়া আর কে ? সেখানকার সব কিছল যখন শেষ হয়ে গিয়েছে, তখন ভাল জ্ঞানই হয় নি শরতের । এক উৎসব-রজনীর চাঁপাফুলের সুগন্ধ আজও যেন নাকে লেগে আছে। কত কাল আগে বিস্মত মহত্তগুলির আবেদন—আজও তাদের ক্ষীণ বাণী অপষ্ট হয়ে ষায় নি তো ! বিস্মতির উপলেপন দিয়ে রেখেছে চলমান কাল, সেই মহত্তগুলির ওপর । তবে সে ভালবাসে নি, ভালবাসলে কেউ ভোলে না। তখনও বোঝবার, জানবার বয়স হয় নি তার । _. টুঙি-মাজদে তার বশরবাড়ি । ওখানকার ভাদুড়ীরা তার বশরবংশ–এক সময়ে নাকি ভাদুড়ীদের অবস্হা খুব ভাল ছিল । এখন—তাদেরই মত । টুঙি-মাজদে ! নামটা সে ভুলেই গিয়েছিল । রাজলক্ষসী আবার মনে করিয়ে দিলে । বনের মধ্যে কোথায় গভীর সবরে হতুম প"াচা ডাকছে, শনলে ভয় করে—যেন রাত্রিচর কোনো অপদেবতার কুস্বর । শরৎ অপটি অন্ধকারের মধ্যে ধরে গিয়ে রান্নাঘরে খিল দিয়ে রান্না চড়িয়ে দিলে । অনেক রাত্রে কেদার এসে ডাকাডাকি করেন—ও মা শরৎ, দোর খোলো—ওঠো— দিন দশেক পরে একদিন রাজলক্ষয়ী এসে বললে, চললাম শরৎদি— শরৎ বিস্ময়ের সরে বললে, কি রে ? কোথায় চললি ? —সব ঠিক । আমার বিয়ে হচ্ছে সতেরোই আঘাণ—জানো না ? -—তোর ? সত্যি ? —সত্যি না তো মিথ্যে ? —বল শনি—সত্যি ? কোথায় ? রাজলক্ষী বেশী কিছ জানে না বোঝা গেল । এখান থেকে মাইল দশেক দরে দশঘরা বলে আজ এক পাড়াগাঁয়ে। যার সঙ্গে সম্বন্ধ হয়েছে, তার বয়েস নাকি তত বেশী নয়, বিশেষ কিছু করে না, বাড়িতেই থাকে। শরৎ বললে, তোর পছন্দ হয়েছে ? —পছন্দ হলেও হয়েছে, না হলেও হয়েছে— —তার মানে ? —তার মানে বাবার যখন পয়সা নেই, আমি যদি বলি আমার বর হাকিম হোক, হরকুম হোক, দারোগা হোক, তা হলে তো হবে না। যা জোটে তাই সই। —এখন যা হয় হলে বাঁচি, না কি ? —তোমার মন-ভু ।