পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা రి8. শরং বললে, দাম জানি নে খড়ীমা, বাবা ভাজনঘাট থেকেই এনেছেন। দবার ফিরিয়ে দিয়ে তবে ঐ পাড় পছন্দ– নীরদা বললে, দিদির পছন্দ আছে । চলন দিদি, ও ঘরে একটু তাস খেলি আপনি আমি রাজলক্ষী আর ছোট খড়ীমা— রাজলক্ষীর মা শরৎকে পাশের ঘরে নিয়ে বললেন, মা, কাল তুমি আসতে পারো আর না পারো, আজ সন্দের পর এখান থেকে দখোনা লাচি খেয়ে যেও—রাজলক্ষী আমায় বার বার করে বলেছে— o - সবাই মিলে আমোদ গফত্তিতে অনেকক্ষণ কাটলো—বেলা পড়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল। বিয়েবাড়ির ভিড়, গ্রামের অনেক ঝি-বউ সেজেগজে বিকেলের দিকে বেড়িয়ে দেখতে এল । মখোজে-বাড়ির মেজ বউ পেতলের রেকবে ছিরি গড়িয়ে নিয়ে এলেন । রাজলক্ষীর মা বললেন, বরণ-পি’ড়ির আলপনাথানা তুমি দিয়ে দ্যাও দিদি—তুমি ভিন্ন এসব কাজ হবে না— এক হৈমদিদি আর তুমি—তারকের মা তো বগে গেছেন—আলপনা দেবার মানুষ আর নেই পাড়ায়—তারকের মা কি আলপনাই দিতেন ! শরৎ বললে, বাবাকে একটু খবর দিন খড়ীমা, কালীকান্ত কাকার চন্ডীমণডপে গানের আড্ডায় আছেন। যাবার সময় আমাকে যেন সঙ্গে নিয়ে যান এখান থেকে । অন্ধকার রাত, ভয় করে একা থাকতে । পরদিন সকাল আটটার সময় শরৎকে আবার রাজলক্ষীদের বাড়ি থেকে ডাকতে এল । নিরামিষ দিকের রান্না তাকে রাঁধতে হবে, গাঙ্গলীদের বড় বউয়ের জর কাল রাত্রি থেকে । তিনিই রান্না করে থাকেন পাড়ায় ক্লিয়াকমে । রাজলক্ষী প্রায়ই রান্নাঘরে এসে শরতের কাছে বসে রইল । শরৎ ধমক দিয়ে বলে—যা রাজি, দধিমঙ্গলের পরে হটর হটর করে বেড়ায় না । এখানে ধোঁয়া লাগবে চোখে মুখে—অন্য ঘরে বসগে যা— রাজলক্ষী হেসে বললে, কারো ধমকে আর ভয় খাই নে । এই বসলাম পিড়ি পেতে— দেখি তুমি কি করো। নীরদা এসে বললে, শরৎদি, একটা অথ" বলে দাও তো ? আকাশ গম গম পাথর ঘাটা সাতশো ডালে দটি পাতা— শরৎ তাকে খন্তি উ'চিয়ে মারতে গিয়ে বললে, ননদের কাছে চালাকি—না ? দশ বছরের খলকিদের ওসব জিজ্ঞেস করগে যা ছড়ি— গরীবের বিয়ে-বাড়ি, ধুমধাম নেই, হাঙ্গামা আছে । সব পাড়ার বউ-ঝি ভেঙে পড়ল সেজেগজে। প্রথম প্রহরের প্রথম লগ্নে বিবাহ। শরৎ সারাদিন খাটুনির পরে বিকেলের দিকে নীরদাকে বললে, গা হাত পা ধয়ে আসবো এখন । বাড়ি যাই—কাউকে বলিস নে— বাড়ি ফিরে সে সন্ধ্যাপ্রদীপ দেখাতে গেল । শীতের বেলা অনেকক্ষণ পড়ে গিয়েছে, রাঙা রোদ উঠে গিয়েছে ছাতিমবনের মাথায়, ঈষৎ নীলাভ সাদা রঙের পাঞ্জ পাঞ্জ ছোট এড়াঞ্চির ফুল শীতের দিনে এই সব বনঝোপকে এক নিষ্ঠজন, ছন্নছাড়া মত্তি দান করেছে। শুকনো বাদড়নখ ফল তাদের বাঁকানো নখ দিয়ে কাপড় টেনে ধরে। থমথমে কৃষ্ণা চতুদশীর অন্ধকার রারি। এক জায়গায় গিয়ে হঠাৎ সে ভয়ে ও বিস্ময়ে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। একটি লোক উপড়ে হয়ে পড়ে আছে উত্তর দেউলের পথ থেকে সামান্য দরে বাদড়নখী জঙ্গলের মধ্যে। শরৎ কাছে দেখতে গিয়ে চমকে উঠল—কলকাতার সেই গিরীনবাব ।