পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రిటy বিভূতি-রচনাবলী বিল, জলা, আখের ক্ষেত, মাঝে মাঝে ঘন অন্ধকারের মধ্যে জোনাকি-জবলা ঝোপ পার হয়ে উড়ে চলেচে, মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রাম, খড়ে-ছাওয়া বিশ-বিশটা চালাঘর এক জায়গায় জড়াজাড় করে আছে, দু-চার দশটা মিটমিটে আলো জলে অন্ধকারে ঢাকা গাছপালায় ঢাকা গ্রামগুলোকে কেমন একটা রহস্যময় রুপ দিয়েচে । & একটা বড় গ্রামের স্টেশনে অবনী তার বেী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে নেমে গেল । স্টেশনের বাইরে একখানা ছইওয়ালা গরর গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, বোধ হয় ওদেরই জন্যে । অবনীর বউকে এবার প্লাটফমে'র তেলের লন্ঠনের অস্পস্ট আলোয় দেখে আরও বেশী ক'রে মনে হ’ল যে মেয়েটি সত্যিই সশ্রী । বেশ ফস রং, সঠিাম বাহ দটির গড়ন, চলনভঙ্গী ও গলার সরের সবটাই মেয়েলি । এমন নিখত মেয়েলি ধরনের মেয়ে দেখবার একটা আনন্দ আছে, কারণ সেটা দশপ্রাপ্য। ট্রেনখানা প্রায় দশ মিনিট দাঁড়িয়ে রইল ; একজন লোক হারিকেন লণঠন নিয়ে ওদের এগিয়ে নিতে এসেছিল, ওরা তার সঙ্গে স্টেশনের বাইরে যেতে গিয়ে ফটক খোলা না পেয়ে দাঁড়িয়ে রইল, কারণ যিনি স্টেশন-মাস্টার তিনিই বোধ হয় টিকিট নেবেন যাত্রীদের কাছ থেকে—ফটকে চাবী দিয়ে তিনি গাড়"কে দিয়ে প্লাটফর্মের মধ্যে অাঁধারে লন্ঠনের আলোয় কি কাগজপত্র সই করাচ্ছিলেন। তারপর ট্রেন আবার চলতে লাগল—আবার সেই রকম ঝোপ-ঝাপ, অন্ধকারে ঢাকা ছোটথাটো গ্রাম, বড় বড় বিল, বিলের ধারে বাগদীদের কুড়ে । আমার ভারী ভাল লাগছিল— এই সব অজানা ক্ষুদ্র গ্রামে ঘরে ঘরে অবনীর বৌয়ের মত কত গহ হবধ ভারবাহী পশুর মত উদয়াস্ত খাটচে, হয়ত পেটপারে দ-বেলা খেতেও পায় না, ফস"া কাপড় বছরে পরে হয়ত দ্য দিন কি তিনদিন, হয়ত সেই পুজোর সময় একবার, কোন সাধ-আহমাদ পরে না মনের, কিছল দেখে না, জানে না, বোঝে না, মনে বড় কিছু আশা করতে শেখে নি, বাইরের দনিয়ার কিছ: খবর রাখে না—পাড়াগাঁয়ের ডোবার ধারের বাঁশবাগানের ছায়ায় জীবন তাদের আরম্ভ, তাদের সকল সুখ-দঃখ, আনন্দ, আশা-নিরাশার পরিসমাপ্তিও ঐখানে । * অবনীর বোঁ গহসহ বধদেরই একজন। অন্ততঃ ওদের একজনও তার সাধের সবগ'কে হাতে পেয়েচে । অন্ধকারের মধ্যে আমি বসে বসে এই কথাই ভাবছিলাম । . আমি কল্পনা করবার চেষ্টা করলাম অবনীর বোকে, যখন সে প্রথম নিস চৌধুরীর বাড়িতে এল—কি ভাবলে অত বড় বাড়িটা দেখে, “অত ঘরদোর --‘যখন প্রথম জানলে যে সংসারের দুঃখ দরে হয়েচে, প্রথমে যখন সে তার ছেলেমেয়েদের ফস কাপড় পরতে দিতে পারলে, আমি কল্পনা করলাম দশ-ঘরার হাট থেকে অবনী বড় মাছ, সন্দেশ, ছানা কিনে বাড়িতে এসেচে“অবনীর বেী এই প্রথম সচ্ছলতার মুখ দেখলে । তার সে খাশী-ভরা চোখমাখ অন্ধকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি !--- 행. ট্রেন আর একটা স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েচে । শান্তিরাম আলোয়ান মুড়ি দিয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে, মাঝে মাঝে ঢুলচে । স্টেশনে পানের বোঝা উঠচে । শান্তিরামকে বললাম— শাস্তিরাম, ঘামচি নাকি ? আমি একটা গল্প জানি এই রকমই, তোমার গল্পটা শনে আমার মনে পড়েচে সেটা, শুনবে ?-- কিন্ত শাস্তিরাম এখন গল্প শনেবার মেজাজে নেই । সে আরামে ঠেস দিয়ে আরও ভাল ক'রে মুড়িসুড়ি দিয়ে বসলো। সে একটু ঘামাবে। পণবাবর কথা আমার মনে পড়েচে, শান্তিরামের গল্পটা শনিবার পরে এখন। পণে‘বাব আমিন ছিল, পাটনায় আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। পাণবাবর বয়স তখন ছিল পঞ্চাশ কি বাহান্ন বছর । লম্বা রোগা চেহারা, বেজায় আফিম খেতো—দ্বতি প্রায় সব পড়ে গিয়েছিল, মাথার চুল সাদা,—নাক বেশ টিকলো, অমন সন্দের নাক কিস্ত আমি কম দেখেছি,