পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


òyw बिछूउि-क्लनाबञौ বয়েসের শৈশব । এখন সেই কথা ভাবি ৷ বয়েস আর কমলো না—বেড়েই উঠতে লাগল। বাকী ক’বছরের মধ্যে আমার চেয়ে বড় কোনো ছেলে এসে ভত্তি হোল না আমার ক্লাসে, আমিই সকলের দাদা রয়ে গেলাম। এর পরে ক্লাসে আমি পড়াশুনোতে খুব ভাল হয়ে ফাস্ট, সেকেণ্ড হয়ে উঠতোম—কিস্ত তাতে আমার গৌরব বাড়লো না। আমি সকলের চেয়ে বয়েসে বড়, আমি পড়াশনোতে ভাল করবো, এতে বাহাদরিটা কি ? এই সময় আবার আমার গোপ বেরল একটু একটু—সেই ড্রেডেড গোপ, যার কথায় চিরকাল খোঁচা খেয়ে আসচি—যখন সত্য সত্যই সেটা বের লো—তখন মরণীয়া হয়ে সহ্য করলাম। প্রথম প্রথম বড় লৎজা হোত—শেষে সয়ে গেল । একবার আমাদের ওখানে রামেন্দবাব উকীলের বাড়িতে তাঁর ভাগ্নে এল—তার নাম প্রসাদ, কলকাতায় কলেজে বি. এ. পড়ে । খুব ভাব হয়ে গেল তার সঙ্গে—হঠাৎ কথায় কথায় একদিন সে তার বয়েস বল্লে উনিশ বছর, আমি মনে হিসেব করে দেখলাম আমারও ওই বয়েস—অথচ আমি এবার ম্যাট্রিক দেবো—আর ও পড়ে বি. এ. থাড' ইয়ার ক্লাসে । ক্লাসের সবাই ঠিক বলে, আমার বয়েস বেশী, আমি যে পড়াশনোতে ভাল করবো এ আর বিচিত্র কি ? r ম্যাট্রিক দেবার সময়ে হেডমাস্টারের কাছে ফম" লিখবার সময় অন্য সব ছেলে লিখলে ষোল, সতেরো । ধীরেন বলে একটা ছেলে ষোলর চেয়েও কম বলে তাকে হেড মাস্টার পরীক্ষা দিতেই দিলেন না—আর আমি লৎজায় মুখ নীচু করে, কান লাল করে বয়সের জায়গায় লিখলাম—উনিশ বছর কমাস । এমন বিড়ম্বনাতেও মানুষ পড়ে ? এই সময় আমি আর এক দভাবনায় পড়ে গেলাম। অনেক দিনে আমার আট-ন বছর বয়েসে আমার মামা এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। তাঁর গোপ বেরিয়েছিল, খুব লম্বাচওড়া—তাঁকে আমার খুব বড় বলেই মনে হোত—আমি তাঁর বুকে হেলান দিয়ে বসতাম সে সময়—আমাকে কাঁধে পিঠে করে নিয়েও কত খেলা করেচেন। তখন শুনেছিলাম মা’র মুখে যে মামার বয়েস বাইশ বছর । উঃ, সে কত বয়েস ? তার দিকে তখন ভাবতেই পারতুম না, আমার শৈশব মনের জগতের অনন্ত কালসমুদ্রে ‘বাইশ বছর বলে একটা পরিচিত, একটা সদর দ্বীপ—আমার বয়োবন্ধ মামা ছিলেন সেই দ্বীপের অধিবাসী—তার ওদিকে কি আছে আমি জানতাম না, ভাবতেও চেণ্টা করি নি তখন ; সেই থেকে বাইশ বছরের সম্বন্ধে আমার একটা ধারণা ছিল যে—ষার বয়েস বাইশ বছর, তার জীবন ফুরিয়ে এল । এই ম্যাট্রিক দেবার বছরে আমার হঠাৎ মনে হোল, আমার বয়েস কুড়িতে পড়বার আর দেরি নেই—এবং সেই ভীষণ বাইশ বছরে আসবার দেরি মাত্র দু'টি বছর । আরও মশকিল বাধলে এই যে—এতদিন ছিল গোপ, এইবার আমার এমন অবস্হাতে এসে পৌছতে হোল যে দাড়ি না কামালে আর চলে না । গোঁপ ও দাড়ি দুই-ই হোল । গোপ-দাড়ি এবং কুড়ি বছরে পা দেবার দেরি মাস কতক মোটে—তার পরে-বছর দুই পরেই বাইশ বছর। কিন্ত তখনকার দু'বছর অনেক সময়—আজকালকার মত নয় । মন ছিল চিন্তাশন্যে, ক্ষত্তিবাজ, কৌতুকপ্রিয়,—দু’বছর আসতে দেরি হয়ে গেল । এল বাইশ বছর, চলেও গেল । তখন যদি কেউ বলতোও যে আমার বয়েস কম, বাইশ বছর আর এমন কি বয়েস— তাহোলেও হয়তো তার কথা আমার বিশ্বাস হোত না, যেমন বারো বছর বয়েসে বিশ্বাস করি নি মায়ের কথা যে আমি ছোট—কিন্তু আসলে সে-কথা আমাকে কেউ বলেও নি। বরং আরো একটা ঘটনায় তার উল্টো কথাটাই একবার শনলাম । তেইশ বছর বয়েসে আমার বিবাহের জন্য কোথা থেকে একটা সম্মবন্ধ এল—আমি তখন থাড" ইয়ারে পড়চি ।