পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ర్ఫి8 বিভূতি-রচনাবলী —কি আর করবে,সম্ববনাশ করেছে মশাই। আমাদের ঐ ইস্টিশনের মোড়ে রুটিবিস্কুটের কারখানা আর দোকান—দেখেচেন বোধ হয়, বাব তোওইখান দিয়েই যান আসেন। আমার নাম রতন ঠাকুর, শ্রীরামরতন বড়িয্যে । আজ্ঞে পরিচয় দিতে লৎজা হয়,কি করি পেটের দায়ে— আমি বাধা দিয়া বলিলাম—তারপর কি হয়েচে বলছিলেন ? সে এক লম্বা গল্প করিয়া গেল । বন্দিনাথ ওখানে বসিয়া আন্ডা দিত, আমার সহোদর ভাই এবং নাম সরেন এই পরিচয় দিয়া সেখানে খুব খাতির জমাইয়াছিল। বলিত, দাদার সঙ্গে বনিতেছে না, শীঘ্রই সে নাকি পৃথক হইবে । রাধাবল্লভতলায় একখানা বাড়ি আছে, তাহারই ভাগে পড়িবে সেখানা। তখন সে-ও রতন ঠাকুরের রুটি-বিস্কুটের ব্যবসায় যোগ দিবে, কিছু মলধন ফেলিতেও রাজী আছে। রতন ঠাকুর তাহাকে বিশ্বাস করিয়া দোকানে বসাইয়া মাঝে মাঝে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিজের ভেন্ডারদের কাছে যাইত—এরকম আজ মাস দুই চলিয়া আসিতেছে, রতন কোন অবিশ্বাস করিত না। ইদানীং রতন তাহারই উপর কেনাবেচার ভার দিয়া হয়তো দু’পাঁচ ঘণ্টার জন্য দোকানে অনুপস্হিত থাকিত । গত কল্য রতন চাকদায় গিয়াছিল কি কাজে ; বন্দিনাথকে দোকানে বসাইয়া গিয়াছিল। আজ সকালে ক্যাশ মিলাইতে গিয়া রতন দেখে ছাখিবশ টাকা তেরো আনা ক্যাশ বাক্স হইতে উধাও হইয়াছে। নিশ্চয়ই এ বন্দিনাথ ছাড়া আর কাহারও কাজ নয়, হইতেই পারে না, তাই সে সকালেই ছটিয়া আমার কাছে আসিয়াছে। কোনো রকমে বুঝাইয়া ভরসা দিয়া রতন ঠাকুরকে বিদায় দিলাম । যখন আমার সহোদর ভাই বিশ্বাসে রতন ঠাকুর তাহাকে প্রশ্রয় দিয়াছে, তখন সে আমার যেই হোক-টাকা মারা যাইবে না রতনের । না হয় আমি নিজেই দিব । বন্দিনাথকে রতনের সামনে ডাকানো আমি উচিত বিবেচনা করিলাম না, ঘরের ভিতর তক"াতকি কথা-কাটাকাটি আমি পছন্দ করি না । রতন চলিয়া গেলে বন্দিনাথকে ডাকাইয়া বলিলাম—আমার এখানে থাকা তোমার পোষাবে না বন্দিনাথ, তুমি অন্য জায়গা দেখে নাও । বিকালে বন্দিনাথ পেটিলা-পাটলি লইয়া বিদায় হইল । এর পরে বন্দিনাথকে দেখি নাই আর অনেক দিন । মাস পাঁচ ছয় পরে ট্রেনে কলিকাতা হইতে ফিরিতেছি, বারাকপুরের প্ল্যাটফমে হঠাৎ দেখি অতি মলিন এক কাচা গলায় বন্দিনাথ। ব্যাপার কি ? সেজমামা ও মামামা দিব্য সহ দেহে বৰ্ত্তমান আছেন, গত শনিবারেও দেখা করিয়া,আসিলাম, তবে বন্দিনাথের গলায় কাচা কিসের ? ব্যাপারটা ভাল করিয়া বুঝিবার পর্বেই বন্দিনাথ আমার গাড়ির দরজাতে আসিয়া পে"ছিল এবং ইনাইয়া বিনাইয়া যাত্রীদের কাছে বলিতে লাগিল যে সম্প্রতি তাহার মাতৃবিয়োগ হইয়াছে, তাহার আর কেহ নাই, কি করিয়া মাতৃদায় হইতে উদ্ধার হইবে ভাবিয়া ভাবিয়া রাত্রে ঘমে হয় না, অতএব—ইত্যাদি । আমি দেখিলাম, আমার কামরায় আসিল বলিয়া, অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া তাড়াতাড়ি সে কামরা হইতে নামিয়া অন্য একখানা গাড়িতে গিয়া উঠিলাম। কি বিপদ ! কি বিপদ । এমন বিপদেও মানুষে পড়ে । একদিন বড়মামার বাসায় গিয়া গল্পটা করিলাম। বড়মামা বলিলেন—ওর কথা আর বোলো না। মধ্যে কি মাসটা এখানে তো এল । তোমার মামৗমা বল্লেন, বোদে তুই তো এলি—তোর পকেটে তো একটা পয়সাও নেই দেখছি—আমার কিন্ত ভয় হচ্ছে রে । বোদে বল্লে, আমারও ভয় হচ্ছে জ্যাঠাইমা, টুনীর গলার হার, ছোট খাকীর বালা সামলে রাখো ।