পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাত্রাবদল 8Οά পড়েচে, রাগী-পত্তর নেই, ডাক নেই, এই বাজারে দটো সংসার চালোনো কি সোজা কথা রে, বাবা ? আমরা চলে গেলে, ও তব খানিকটা খোলসা হয়--তা ছাড়া কাশীতে আমার বন্ধবান্ধব ভক্তি", আহা, কত কান্ডই করেচি সব এক সময়, কাশীতে কাকে না চিনি ? উমাপদ আবাল্য এসব গল্পের সঙ্গে পরিচিত, সে বলিল—পাগল হয়েচেন ? আপনার ছেলেবেলার আমলের তারা কি আর কেউ এখন আছে ভাবচেন ? সে সব কি—- সতীশ কথাটা পছন্দ করিল না, বাধা দিয়া বলিল—তুমি কি ক'রে জানলে নেই ? আমাদের সে ডানপিটে দলের ছেলে হঠাৎ মরবার নয় জেনো ( "ছেলে’ কথাটা অসতক মহেন্ত্তে' মখ দিয়া বাহির হইয়া গেল )—সব আছে, হে"-হে হঠাৎ আমরা মরচি নে । তুমি জানো না, আমাদের সে দলের কথা—শনবে তবে ? উমাপদ ব্যস্ত হইয়া বলিল—ইয়ে, জ্যাঠামশায় আর একদিন বরং এসে—আজ একটু কাজ আছে—উঠি এখন । দিন পনেরো পরে সতীশ একদিন কাশী টেশনে দপেরেবেলা নামিল । স্ত্রীকে মেহেরপরে ছোট শালার কাছে রাখিয়া আসিয়াছে । আসিবার সময় বাড়ির চাধিটা আন্নাকালীর হাতে দিয়া আসিয়াছে, বিনয় আসিলে দিবার জন্য । ছেলেকে কোন খবর দেয় নাই—কেন মিছামিছি তাহাকে বিব্রত করা । 歌 কাশীতে নামিয়া মনে একটা অপবে উৎসাহ ও উত্তেজনা অনুভব করিল—বাল্যের সেই কাশী ! এতদিন কি করিয়া ভুলিয়াছিল সে ! বাংলা দেশের একটা জঙ্গলে-ভরা ছোট পাড়াগাঁয়ে জীবনের ত্রিশটি বছর— সারাদিন ধরিয়া সে কাশীর পথে পথে ঘরিয়া বেড়াইল । পঞ্চগঙ্গা ঘাটে স্নান করিল, বিশ্বনাথ দশন করিল। বাল্যের দিনগুলির সঙ্গে জড়িত যে সব জায়গায় একদিনের মধ্যে পায়ে হাঁটিয়া যাওয়া সম্ভব, তাহা সে বড় বাদ দিল না । কিন্তু ধীরে ধীরে তাহার মনে হইতে লাগিল—কাশী, তাহার সে চল্লিশ বছর আগেকার কাশীকে সে যেন খুজিয়া পাইতেছে না, সে কাশী কোথায় গেল ? এ কাশীকে তো চেনে না। গণেশ-মহল্লায় পরাতন সঙ্গীদের সম্প্রধান কেহ জানে না, কেবলরামজীবনবাবরে মেজছেলে পতিতপাবন পৈতৃক বাটীতে এখনও বাস করিতেছে। পতিতপাবন সতীশকে দেখিয়াই চিনিতে পারিল । বলিল, সতীশ-দা, তোমার চেহারা তো এখনো বেশ আছে । আমারও ধরো এই বাষটি হোল, আমি তোমার চেয়ে বড়ো হয়ে গেছি—মানে, অবলের অসুখে আমার —এতদিন ছিলে কোথায় ? নানা পরাতন দিনের গল্প হইল। পতিতপাবনের অবস্হা ভাল নয়, ব্যবসায় বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া সববিাস্ত হইতে বসিয়াছিল । তারপর উপরি উপরি দটি উপযুক্ত ছেলে মারা গিয়াছে । ছোট ছেলেটি রেশমের কাপড়ের ব্যবসা করে বিশ্বনাথের গলির মধ্যে— তাতেই কোনোরকমে চলে। ভাইগুলির মধ্যে কেবল ছোট ভাইটি বাঁচিয়া আছে, পাটনাতে শ্বশুরবাড়ি বাসা বধিয়াছিল, বহুদিন হইল সেইখানেই আছে। সন্ধ্যাবেলা সতীশ দশাশ্বমেধ ঘাটে চুপ করিয়া বসিল । সম্মুখের হাসি-মাখা, কত অজানা BB BBSBBSBBBB BBBSSSBBBB BB BB BBBD S DBBB DDDDD —দাদা, আমি চাকরি করলে তোমার ভাবনা থাকবে না। দিব্যেন্দ জানে না যে, তাহার দাদা লুকাইয়া কাশী চলিয়া আসিয়াছে। এই দশাশ্বমেধ ঘাটে, এই সন্ধ্যাবেলা যেন প্রত্যেক বালককেই মনে হইতে লাগিল দিব্যেন্দ্র । দিব্যেন্দ না সে পঞ্চান্ন বছর আগেকার নিজে ?