পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


800 বিভূতি-রচনাবলী আন্নাকালীর মখ মনে পড়িল—যখন গরর গাড়ির পাশে দাঁড়াইয়া ঘরের চাবিটা তার হাতে দিয়াছিল, সে সময়কার তার ছলছল চোখ দু'টি মনে পড়িল । ঃ, সে ডানপিটে সে আর নাই । কাশীও তার কাছে আর কিছুই না। তার সে কাশী হারাইয়া গিয়াছে। রাত্রে ঘমে হইল না কত রাত পয্যন্ত । শইয়া শ্যইয়া ঠিক করিল সে ফিরিয়া যাইবে । আন্নাকালীর জন্য কাশীর কোঁটা লইতে হইবে, ছেলেমানষে, খুশি হইবে এখন । দিব্যেন্দর জামার উপযুক্ত খানিকটা সিল্ক, পতিতপাবনের কাছে ধারে লইয়া গেলেই হইবে, গিয়া দাম পাঠাইবে । ভাল পট--বেীমা ছবি ভালবাসে । কিন্তু সকালে উঠিয়াই সে পতিতপাবনকে বলিল—তুমি একটা উপকার করো ভাই আমার । তোমার এখানে আর ক'দিন থাকবো ? তুমি একটা বাজার-সরকারী গোছের কাজ জটিয়ে দাও দিকি আমায় । অভাবে রাঁধনীগিরিতেও রাজী আছি। খুব ভাল রাঁধতে পারি, দেখে নেবে তারা । নাঃ, সে ছেলেকে বিরত করিতে ফিরিবে না । ছেলে পারিয়া উঠিবে কেন ? শেষে কি দিব্যেন্দর কলেজের পড়া বন্ধ হইবে ? বৌমার গহনা বন্ধক দিতে হইবে, ছিঃ– একটা-পেটের জন্য কাশীতে আবার ভাবনা ? স্বাত্রাবদল ভাটপাড়াতে পিসিমার বাড়ি গিয়েছিলাম বড়দিনের ছয়টিতে। সারাদিন বাড়িতে বসে থেকে ভাল লাগল না, । বিকেলের দিকে নৈহাটি স্টেশনে বেড়াতে গেলাম। তখন দেশেই থাকি, বিদেশে বেরনো অভ্যেস নেই, এত বড় স্টেশন ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখবার সুযোগ বড় একটা ছয় নি। ডাউন প্ল্যাটফর্মের ওধারে প্রকান্ড ইয়াডটা মালের ওয়াগান ভত্তি', ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে যাত্রীরা পোটলাপ:টলি নিয়ে যাতায়াত করচে, নানা ধরনের লোকের ভিড়, নানা রকমের শব্দ—দখোনা পাইলট এঞ্জিন ইয়াডের মধ্যে ওয়াগনের সারি টানাটানিতে ব্যস্ত--- ওপারের গাড়ি একখানা ছেড়ে গেল, আর একখানা এখনি আসবে“বাজারের দিকে সাইডিং লাইনে দখোনা কেরোসিন তেলের ট্যাংক বসানো গাড়ি থেকে তেল নামাচ্চে ।--এত মাছিও প্ল্যাটফমে', কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়াবার জো নেই, বসফার জো নেই, যেখানে যাই সেখানেই মাছি ভন ভন করে ; চা খাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু স্টলের অবস্থা দেখে সেখানে বসে কিছ খেতে প্রবত্তি হোল না। প্ল্যাটফমেরি ওধারে একটা ছোট ঘর, দোর বন্ধ, ঘরটার আশেপাশে পরোনো স্লিপার ও ফিশ-প্লেট পড়ে আছে রাশীকৃত, একটি ক্ষুদ্র কুলীপরিবার সেখানে তেরপলের তাঁবু খাটিয়ে তোলা উননে অচি দিয়েচে । হঠাৎ প্ল্যাটফর্মের সবাই একটু সম্প্রস্ত হয়ে উঠল । সবাই যেন প্ল্যাটফমে'র ধারে ঝু'কে কলকাতার দিকে চেয়ে কি দেখবার চেষ্টা কত্তে লাগল—একজন হিন্দুস্হানী যাত্রীপ্ল্যাটফমের নিতান্ত ধারে দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে ব্যস্ত-ওপার থেকে একজন কুলী তাকে হে’কে বল্লে—এ অখি পছনেওয়ালা, হঠ যাইয়ে, ডাকগাড়ি আতা হ্যায়— কাছের একটি ভদ্রলোক যাত্রীকে জিজ্ঞেস কল্পমে—কোন ডাকগাড়ি মশাই ? তিনি বলেন, দাডিজলিং মেলের সময় হয়েচে— একটু পরেই ধলো কুটো উড়িয়ে একটা ছোটখাটো ঘণি* ঝড়ের সন্টি করে স্টেশন