পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উমি্মখের 8షిరి বৈকালে যখন, খরকু, আমি আর কালো নৌকোতে বনগ্রামে আসি, তখনও দেখলাম দধারে গাছপালার কি অপরপে রপে, বনের ফুলের কি শোভা । ছকু মাঝিকে জিজ্ঞেস করলাম-ওটা কি ফুল ছকু ? ছকু বললে—কোয়ারা--- খন্ধুেকে কাশফুল দিয়ে একটা বাংলা সেটেন্স তৈরী করতে দিলাম । রাঙা-রোদ বৈকালটি মেঘমুক্ত আকাশে, নদীতীরে অপদেব" শোভা বিস্তার করচে । কাল রাত্রের ট্রেনে তারাভরা আকাশের তলা দিয়ে যখন এলমে, সেও বেশ লাগছিল । আজ স্কুলের ছয়টি হবে । সুন্দর প্রভাতটি । 觀 আজ সকালটি বড় সন্দের । গয়া নদীতে হাতমুখ ধয়ে এসে বটতলায় এসেচি—দরে সবুজ পাহাড়শ্রেণী—সকালের হাওয়ায় একটু যেন শীতের আমেজ। কাল ঘন জঙ্গলের পথে আমরা অনেকদরে গিয়েছিলাম, পথে পড়ল দখোনা সাঁওতালী গ্রাম । বরমডেরা কুলামাতো । আর বছর যে রাস্তা ধরে সাটকিটা গ্রামে যাই, এবার সে রাস্তায় না গিয়ে চললাম সোঝা ধনঝরি পাহাড়ের দিকে । বামে সিদ্ধেশ্বর ভুংরি । সামনে ডাইনে পিছনে চারিদিকেই পাহাড় । নীলঝরণার ওদিকের পাহাড়ের বড় বড় সামনের চাইগলি নীল আকাশের পটভূমিতে লেখা আছে । ছোট একটি পাহাড়ী ঝরনা এক জায়গায়। ঝরনা পার হয়ে দু-ধারে শাল, মহীয়া, তমালের বন, বনো শিউলি গাছও আছে । একটা ভাল জায়গা দেখে নিয়ে আমরা চা খাবো ঠিক করলাম। বন সামনের দিকে ক্রমেই ঘন হচ্চে, ক্ৰমে একধারে উচু পাহাড়ের দেওয়াল, বড় বড় বনের গাছে ভরা, আর বা দিকে অনেক নিচে একটা ঝরণা বয়ে যাচ্চে ঘন-সন্নিবিষ্ট গাছপালার মধ্য দিয়ে। আমরা দরে থেকে ওর জলের শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। সবাই মিলে নেমে গিয়ে বড় বড় গাছ ও মোটা কাছির মত লতা দিয়ে তৈরী প্রকৃতির একটি ছায়াশীতল ঘন কুঞ্জবনে একখানা বড় চৌরস কালো শিলাখণ্ডের ওপর দিয়ে বসে চা পান করা গেল । টাঙি হাতে একজন সাঁওতাল জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাচ্ছে, বললে—বেশী দেরি করবেন না, একটু পরে এখানে বনো হাতী জল খেতে নামবে । গাছপালার মাথায় মাথায় শরতের অপরাহের রাঙা রোদ ৷ সামনে পেছনে বড় বড় পাথর, একথানার ওপর আর একখানা আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে–ওদিকে আরও ঘন জঙ্গলের দিকে ঝরনার পথ ধরে খানিকটা বেড়িয়েও এলমে । বেলা পড়লে রওনা হয়ে ছায়াভরা পান্বত্যপথে হেটে আমরা এলমে নীলঝরনার উপত্যকার মুখ পয্যন্ত । ডাইনে সিদ্ধেশ্বর ভুংরি মাথা খাড়া করে আছে। আশেপাশের বন্য সৌন্দয্য সন্ধ্যার ছায়ায় আরও সন্দেরতর হয়েচে—সেইদিনই যে সদরে পথে ইছামতীতে আসবার সময় আমাদের ভিটেটাতে গিয়ে মায়ের কড়াখানা দেখেছিলাম—সে কথা মনে পড়চে । নীরদবাব ও আমি নীল ঝরনা বেড়িয়ে অনেক রাত্রে বাংলোতে ফিরি। সকালে উঠে সবণরেখার পলের ধারে মাছ কিনতে এলমে । সকালটি বড় চমৎকার, নিমে'ব নীল আকাশের দিকে চাইলে কত কালের কত সব কথা যেন মনে পড়ে। পল থেকে চারি ধারে চেয়ে দেখি মাছ বা জলের সম্পকও নেই কোনো ধারে। নিচে নেমে ছায়ায় একটা শিলাখণ্ডে অনেকক্ষণ বসে রইলাম—ভাবচি সপ্রভার পত্রের আজ একটা উত্তর দেব । ওখান থেকে ফিরে এসে বাংলোর পেছনে যে পাহাড়ী নদী—তাতে নাইতে গেলাম আমি আর শঙ্কর। সন্দের নদীর ঘাটটি, পাথর একখানা বড় ঘাটে ফেলা আছে, জলের ধারে একটা অবখ গাছের নীচে জলজলিলি ফুটে । সামনে থৈ থৈ করচে পাহাড়শ্রেণী, ঘন সবুজ তার সানদেশ । দরে Governor's pool-এর কাছে একটা গাছের অাঁকাবাঁকা মাথা সবুজ পাহাড়ী ঢালর পটভূমিকে দেখা যায়। এ ক-দিনের প্রখর সন্যালোক আর বছরের এ সময়ের বর্ষা-বাদলের