পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৪৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


800 বিভূতি-রচনাবলী সত্যি ঐতিহাসিক ব্যক্তি হয়ে থাকেন—কিন্তু চাইবে সবাই বন্দাবনের সেই কিশোর শ্ৰীকৃষ্ণকে । সতরাং আমাদের দেশের লোকের রক্তে ওই শ্ৰীকৃষ্ণরপেী ভগবানের রপে নত্য করচে—আমাদের দেশের হাওয়ায় তাঁর বাঁশি বাজে, পাখীরা তাঁর নাম করে—এদেশের মাটিতে তাঁর চরণচিহ্ন সন্বলি । এদেশে ভগবানের সাকার মাত্তির কথা ভাবতে গেলে শ্ৰীকৃষ্ণ মুক্তিই এসে পড়ে মনে । যে ভালবাসে ওই মত্তিকেই ভালবাসে, যে না ভালবাসে সেও পাকে-চক্লে ওই মত্তির কথাই ভাবে, শেষে ভালবাসা এসে পড়ে মনে কোন অলক্ষ্য দ্বারপথ বেয়ে । কলকাতা শহরের একটা অদ্ভুত রুপ আছে, যেটাকে দেখতে হলে বিকেল ছ-টা থেকে রাত এগারোটা পৰ্য্যস্ত জনবহল কোয়ার, সাধারণ পাক, সিনেমা, থিয়েটার, ভাল ক্লাব প্রভৃতি ঘরে বেড়ানো দরকার । কোনও পাটিতে গিয়ে সহাণবৎ আচল হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিলে শহরের এ ঐশ্বয*্য, রংপ হারিয়ে ফেলতে হয়। এক জায়গায় বেশীক্ষণ থাকলে হয় না—ট্রামে বা বাসে ঘরে বেড়াতে হয়, মোটর যদি না থাকে। আলো না জবললে শহরের রপে খোলে না। আজ ভোরে বেরিয়েছিলাম একখানা ট্রামের all day ticket কেটে । কারণ নানা জায়গায় ঘরতে হচ্চে, রবিবার ভিন্ন সবিধে হয় না। কমলাদের হোস্টেল হয়ে মণীন্দ্রলালের ওখানে গিয়ে দেখি পুরো আভা বসেচে–পরেশ সেন বিলেতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করচে, ভূপতি, মহিম, নরেনদা সবাই উপস্হিত। সেখানে ঠিক হোল ওবেলা ছ-টার সময় বিজলীতে সবাই মিলে "She" দেখতে যাওয়া হবে । মণি বন্ধনের নাচ হবে আজই ইনস্টিটিউটে, আমায় মণি বন্ধনি একখানা কাড" দিয়েচে সে-কথা বললাম। ওরা উড়িয়ে দিলে। তখন ঝমােঝম বৃটি নামল। সেই বটি মাথায় ট্রামে ও বাসে সাঁতরাগাছি গিয়ে পোছই ননীর বাড়ি । ননীরা বাসা বদলে আর একটা বাড়িতে এসেচে। ‘বিজলীতে এসে দেখি শুধ পরেশ সেন এসেচে। একটু পরে মণীন্দ্র ও ভুপতি এল । আমরা সবাই ফিলম দেখলাম। "বিজলী'তে এমন একটা atmosphere আছে সেখানে বসে ফিলম দেখে সুবিধে হয় না। ভাল সঙ্গ, ভাল পারিপাবিক অবস্হা ভিন্ন যেখানে সেখানে বসে, ছবি বা থিয়েটার বা যে কোনও আমোদ-প্রমোদ ভাল লাগে না । আলোকোছজনল প্রেক্ষাগহ, সুবেশা তরণীর দল, পরিপাটী আসন—এ সবের খুব বড় একটা স্হান আছে ছবি বা থিয়েটার দেখাতে । ওখান থেকে বেরিয়ে ট্রামে আলিপুর ও খিদিরপর হয়ে বাসায় ফিরলাম। পথের বণ্টিনাত গাছপালার ওপর শ্যাওলা পড়ে বেশ দেখতে হয়েচে, কাজ’ন পাকে ফুল ফুটে আছে, নরনারীর চিত্ৰ—বেশ লাগল। কলকাতার এই প্রমোদসজ্জা অতি চমৎকার । এত বড় একটা শহরের এ রপে ভাল করে দেখবার জিনিস । পরদিনই বিকেলে তরদের বাড়ি গেলাম শ্যামবাজারে, সেখান থেকে সম্প্রধ্যায় রঙমহলে বিধায়ক ভট্টাচায্যের নাটক দেখতে গেলাম ‘কালের মন্দিরা বাজে’ ও ‘অতি আধুনিক’ । নাটক দ'খানা কিছুই নয়, অতি বাজে, তবে গান ও variety show হিসেবে অনেকগুলো গণী লোককে একত্র করেচে বটে, নাটকের সঙ্গে তার কোনও সম্পক নেই। হেমেনদা এসে এক কোণে চুপ করে বসে আছেন। দেখা করে এলাম। সবাই মিলে এক সঙ্গে বসে খব জমিয়ে আভা দিতে দিতে থিয়েটার দেখা গেল । গত শক্রবারে শ্রীরামপারে দিদির মেয়ে প্রভার বিয়ে হোল । আমি প্রথমে গেলাম লীলাদিদিদেরবাড়ি। লীলাদিদির শরীর প্রথমে খবই খারাপ হয়েছিল। এখন কিছর সেরেচে। অমিয় কলেজ থেকে এল রমেশ কবিরাজকে সঙ্গে করে । ওখানে অপেক্ষণ বসেই দিদির বাড়ি গেলাম। ওরা সকলে মিলে স্ত্রী-আচারের সময়ে বরকে ঘিরে আলো নিয়ে প্রদক্ষিণ করলে।