পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిసిశి বিভূতি-রচনাবলী যা অনেকদিন কলকাতায় থেকে অনুভব করি নি। নৌকার ওপর বসে বসে যেন জীবনট আর একটা dimension-এ বেড়ে উঠল—ঘন লতাপাতার সুগন্ধে বহু অতীত জীবনের কথা মনে পড়ে—খুকী দ্বিতীয়ার দিন আমার সঙ্গে আবার গেল বারাকপুরে—সেদিন আবার ভ্রাতৃদ্বিতীয়া । জাহ্নবী আমাকে ফোট দিলে—খুকী দিলে থোকাকে। পরে আমরা দুজনে পাকা রাস্তার ওপরে বেড়াবো বলে বেরুলাম--কিন্তু যাওয়া হয়ে গেল একেবারে বারাকপুরে —গাছপালা, প্রকৃতির সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠ যোগ স্থাপন করে যে জীবন—তাই হয় সুখের, পরিপূর্ণ আনন্দের। এ আমি ভাল করে বুঝলাম সেদিন । কয়দিন এখানে এসেও বেশ আনন্দেই কাটল—উযাদেবী এখানে এসেচেন ঢাকা থেকে, তার ওখানে মধ্যে একদিন চায়ের নিমন্ত্রণে গিয়ে অনেকক্ষণ আলাপ করলুম—বেশ মেয়েটি— বেশ শিক্ষা আছে, সাহিত্য বিষয়ে সমঝদার ও খুব সুন্দর। সুনীতিবাবুর বাড়িতে একদিন আমি ও সজনীবাবু গিয়ে–অনেকগুলা গ্রীকৃ ও শক মুদ্র, অনেক ছবি, আবুরাজ্যের প্রাচীর গাত্রে উৎকীর্ণ কতকগুলো মূর্তির ফটাে—এই সব দেখে এলাম-প্রবাসী আপিসে আড্ডা যা চলচে ক'দিন, তাও খুব । কাল জগদ্ধাত্রী পূজা—আমাদের চারদিন ছুটি আছে, রাত্রে গেলাম বিভূতিদের বাড়ি, অন্ত অন্ত বছরের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে—আজ কোথাও কিছু নেই—রাত ন’টার সময় অক্ষয়বাবু ছোট বৈঠকখানায় রেডিও শুনচেন—অন্ত বছর যে সময় আগন্তুক ও নিমন্ত্রিতের ভিড়ে সিড়ি দিয়া ওঠা সম্ভব হত না, কোথায় সে উৎসব গেল বাড়ির—যেন দীনহীন, মলিন সব ঘরগুলো, সিড়িটা, দালানটা । আমাকে অবশ্ব খাওয়ার বিশেষ অনুরোধ করা ছিল— অক্ষয়বাবু ও খগেনবাবু বাইরে নিমন্ত্রণে গেল মেজ খোকাবাবুর বাড়ি। অনেক রাত্রে আমি, শীতল, বিভূতি একসঙ্গে বসে নিরামিষ ভোজ থেলাম। রাত বারোটাতে বাসায় ফিরলাম। শুয়েচি–চারিধার নিস্তব্ধ, নির্জন । চাদটা পশ্চিম আকাশে নিম্প্রভ হরে ঢলে পড়েচে– নক্ষত্রগুলো পরিষ্কার ও উজ্জল হয়েচে, "অপরাজিত'র অপুর বন্ত-জীবনের গোড়াটা লিখচি– তাই বসে বলে ভেবে এই বিচিত্র জীবনধারার কথা মনে হল—ভারি আনন্দ পেলাম। আজ জগদ্ধাত্রী পূজার সকালবেলাটি ; মনে পড়ে অনেক বছর আগে এই ঘরেই বসে বসে হার্ডির ছোট গল্প পড়তুম এইখানে। আজও সেই ঘরটি তেমনি নিস্তব্ধ, নিশ্চল । কিন্তু পরিবর্তনও কি কম হয়েচে । তখনকার বিভূতি কত বড় হয়ে গিয়েচে—তখনকার সবাই কে কোথায় চলে গিয়েচে । আগামী রবিবারে মুনীতিবাৰু, অশোকবাবু, আমি ও সজনীবাবু-চারজনে মোটরে পথের পাচালী’র দেশ দেখতে যাওয়ার কথা আছে বৈকালের দিকে । দেখি কি হয়। এইমাত্র মহেন্দ্রচন্দ্র রশ্ন তার নব প্রকাশিত ‘কিশলয়’ বইখানা পাঠিয়েচেন, দেখলাম । খুব ভাল লাগল বইটি।