পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૭૭ বিভূতি-রচনাবলী তৈরী করে খাওয়ালেন ও জলখাবার,দিলেন । তার সঙ্গে সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করলাম। এদের বাড়ির কাছেই খুকীর শ্বশুরবাড়ি। একবার সাক্ষাৎ করবার ইচ্ছা ছিল। লোকও পাঠালাম—কিন্তু লোক ফিরে এসে বললে কারুর সঙ্গে দেখা হল না । সভায় যখন আসচি–ওদের বাড়িটা দেখলাম—ভাঙা দোতলা বাড়ি—একটা কয়লার গোলার পাশ দিয়ে পথ। সভার কার্য শেষে আবার ভূরিভোজনের ব্যবস্থা। সমবেত ভদ্রলোকেরা আমাকে একটা বড়লোকের বাড়ির দোতলার হলে নিয়ে গেলেন—সেখানেই একটা বড় শ্বেতপাথরের টেবিলে নানারকম ফলমূল, মিষ্টান্ন, শরবৎ সাজানো। এত খাই কি করে ? এই শ্ৰীলীলারানী দেবীর ওখান থেকে খেয়ে আসচি। কে সে কথা শোনে ? আনাতোল ফ্রাসের Procurator of Judea গল্পটি খেতে খেতে ওঁদের কাছে করলুম— রসের বৈচিত্র্য ও quaintness হিসেবে। ওরা ট্রেনে তুলে দিয়ে গেল । ট্রেনে একটা লোকের সঙ্গে আলাপ হল—বাড়ি জিরেটবলাগড়, বিড়ি খাওয়ালে, অনেক গল্প-গুজব করলে। হাওড়া স্টেশন থেকে হেঁটে বাসায় এলাম। পথে পানিতরের বামনদাস দত্তের সঙ্গে দেখা। আজ পয়লা মে | একটা স্মরণীয় দিন। আজকার সভার জন্তে বা এসব আদরের জন্তে নয়—আজ ১৩ বৎসর হতে সেই ১লা মে-তে—কিন্তু সেকথা আমিই জানি, আর কেউ জানে না। জানবার কথাও নয়। বোলবও না কাউকেও ৷ বেশ হাওয়া, বাসায় এসে বারানায় বিছানা পেতে শুয়ে রইলাম। আজ মনে একটা অপূর্ব আনন্দ পেলাম—অনেক কাল পরে। মনে পড়ে গেল বাল্যে দুপুরে আহার সেরে এই সব দিনে বাড়ির পেছনে বাশবনে মুখ ধুয়ে আসতাম। বাশবনে গিয়ে আঁচালে তবে মনে একটা আনন্দ আসত—কত তুচ্ছ জিনিস, কিন্তু একদিন ও থেকে কি গভীর আনন্দই পেয়েছি ...সেই ভিটে, সেই গ্রাম আজও তেমনি আছে—আমিই কেবল বদলে গিয়েচি । আজ রবিবার ফণিকাকার তাড়াতাড়ি করচে এত রাত্রে হরি রায়ের বাড়িতে তাস খেলতে যাবে বলে—আনন্দ করচে বিটুকীপোতার বাওড়ে বড় রুই মাছের বাচ হচ্চে বলে—হাটে আজ মাছ সস্তা হয়েচে বলে—আমিও যদি গ্রামে থাকতুম-আমিও ও-থেকে আনন্দ পেতুম ওদেরই মতন–কিন্তু আমি বদলে গিয়েছি একেবারেই। Sophisticated হয়ে পড়েচি, hampered হচ্চি। দৃষ্টির স্বচ্ছতা নষ্ট হয় নি বলে এখনও এসব বুঝতে পারি। আকাশের অগণ্য তারার তারার কড দেবলোক, কত পৃথিবী, কত জগৎ—কত অগণিত প্রাণীকুল, কত দেবশিশু-আনন্দের কি মহান, অসীম ভাণ্ডার । দুঃখও যত বৃহৎ তাদের— আনঙ্গও তত বৃহৎ। এই ভেবেই, চৈতন্তের এ প্রসারতা শুধু আমার আজ রাত্রে। আজ সকালে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছিল, কারণ কাল অনেক রাত্রে দম্‌দম্‌ থেকে ফিরেচি। সেখানেই রাত্রে খেলাম, আগামী রবিবারে Outing-এর নক্স করলাম, তারপর