পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২১২ विङ्कडि-ब्रध्नांबलैौ বেরুনো গেল। বনগার পথে এ গাড়িরও একথান টায়ার গেল। বনশায়ে পৌছে বাজার করে বেলেডাঙ্গ পৌছুতে বেলা নয়টা। বটতলায় গিয়ে কাঠ কুড়িয়ে সবাই মিলে রোধে খেলাম। স্বামাচরণদাদাদের বাড়ি এলাম—সেখান থেকে নৌকা করে নকু-দুলের ঘাট পর্যন্ত বেড়ালুম—সবাইপুরের ঘাটে স্বান করলুম। তারপরে সেদিন রাত্রে দমদমাতে ফিরে থেয়ে আবার এলুম বাসাতে । এবার বাড়ি গিয়ে বড় গোলমাল। ক'দিন বেশ কেটেছিল, শু্যামাচরণদাদার স্ত্রীর স্নেহ বড় উপভোগ করেচি–বোঁদি বড় ভাল মেয়ে—আমার শ্রদ্ধা হয়েচে । বর্ষী-বাদলার দিনে পুটিদিদিদের বাড়ি গরু-বাছুরের সঙ্গে একঘরে বাস করে মনটা থি চড়ে উঠেছিল । ওখানে এবার তুফন ঠাকরুন মারা গেলেন। আসবার আগের দিন তার শ্রাদ্ধ হল। রোজ বিকেলে বকুলতলায় বসতুম। জগ ছড়া বলত— “অৰ্শন বসন রণে সদা মানি পরাজয়, দুনয়নে বারিধারা গঙ্গা যমুনা বয়— কথায় কথায় তুমি যেতে বল যমালয়,"—ইত্যাদি ছেলেমানুষের মুখে বেশ লাগত। কিছুদিন কলকাতা গিয়ে রইলাম। একদিন নীহার রায়ের "পানে গেলাম, সেখানে তার অনেক বন্ধুবান্ধব বসে আছে, ‘অপরাজিত সম্বন্ধে অনেক কথাবার্তা হল । নীঙ্গর বললে— 'অপরাজিত একটা (ireat Book, আমি এদের সেই কথাই বলছিলাম, আপনি আসবার আগে। ধূর্জটাবাবুর বাড়িতে একদিন ‘অপরাজিত নিয়ে আলোচনা হল আমার সঙ্গে। ভদ্রলোক অনেক জায়গা দাগ দিয়ে পড়েচেন, মার্জিনে নোট লিখে। তারপর নীরদের বাড়িতে চা-পার্টি উপলক্ষে সুনীতিবাবু ও রঙীন হালদারের সঙ্গে সে সম্বন্ধে অনেক কথা হল। রবিবারে গেছলাম, আবার পরের রবিবারে ফিরি। সেদিন রাণাঘাটে নেমে কি ভয়ানক বর্ষা । গোপালনগরে নামলাম, অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে। অতি কষ্টে গাড়ি যোগাড় করে ফিরলাম। হাটবার, সুশীলবাবু একটা মোট পাঠিয়েছিলেন হামাচরণদাদাদের জন্তে— সেটা তাদের দিলাম । কাল খুব গুমট হয়েছিল। বৈকালে জেলি, সরলা এরা পড়তে এল—বকুলতলায় চেয়ার পেতে বসে খুকুর সঙ্গে খুব গল্প করলুম। রিমঝিম বর্ষার মধ্যে মেঘভর আকাশের তলা দিয়ে কুঠার মাঠে বেড়াতে গেলাম। ওপারে বর্ষস্রোত বয়, গাছপাল, সবুজ তৃণভূমি—বৃষ্টিতে চারিধারে ধোয়া-ধেীয়া—তারপর গেলাম ওপাড়ার ঘাটে । জল গরম—নেমে স্নান করতে করতে চারিদিকে চেয়ে সে কি আননা পেলাম—মাথার উপর উড়ন্ত সজল মেঘরাশি, জলের রং কাকের চোখের মত, কি মুনীর কদম গাছটার রূপ—মনে হল ভাগলপুরের সেই অপূর্ব সবুজ কাশবনের চর-সুদূরপ্রসারী প্রস্তিরের সেই সুন্দর প্রাণ-মাতানো স্মৃতিট—সেও এমনি বর্ধসন্ধ্যা, এমনি মেঘেভরা আকাশ-হাতীর পিঠে চড়ে আমীনের সঙ্গে সেই বেড়ানোটা । আমি