পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৌরীফুল ఫిసిరి মেলে না, বাঙালীর মুখ মোটে দেখতে পাওয়া যায় না। তাই আপনার আজ এসেছেন শুনে ভারী আনন্দ হোল। উনি চায়ের কথা যেমন তুললেন, আমি বললাম—তার আর কি, আমার বাসা যখন নিকটেই রয়েছে, তখন কি আর.ভা আপনারা কতদূর যাবেন সব ? —আমরা সাইকেলে দিল্লী যাবো বলে বেরিরেছি, ও-পার থেকে আসছি কি না ? এইখানে নদী পার হয়ে ভাগলপুরের পথ ধরে গিয়ে গ্রাগুট্টাঙ্ক রোডে উঠবো ইচ্ছে আছে— ভাগলপুরের গাড়িটা ঠিক এখানে কটায় পাওয়া যাবে কাল সকালে ? তারপর অনেক কথাবার্তা ও আমাদের ভ্রমণ সম্বন্ধে অনেক কৌতুহলপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এবং কথিত ট্রেন-ঘটিত নানা আবশ্বকীয় সংবাদের আদান-প্রদানের পর কথাবার্তার বেগ মন্দীভূত হয়ে পড়লো। কারুরই ঘুম পাচ্ছিল না, বিশেষ করে গরম চা খাবার পরেই আলস্য ও তঞ্জার ভাবট কেটে গিয়ে সকলেরই শরীর যেন বেশ তাজ হয়ে উঠেছিল। নির্বাণোন্মুখ কথাবার্তার শিষটাকে পুনরায় খোচ দিয়ে প্রদীপ্ত করার জন্তেই আমি হঠাৎ বলে উঠলাম—হঁ্যা মশাই, আপনাদের এ ওয়েটিংক্রমের বাথরুমে ভূতটুত নেই তো ? এ প্রশ্বের পরেই সলিলের সেই অজ্ঞাত স্টেশনটির বাথ-রুম ও ছোকরা এঞ্জিনীয়র সাহেবের গল্প পুনরায় ফিরে এল। পুনরায় আমাদের একচেটি হাসি হোল এবং কেউ কেউ এমন ভাবের ভান করলেন যে এ-স্টেশনের বাথ-রুম সম্বন্ধেও তারা ভয়ের ধারণা পোষণ করেন । রমেন বললে—যত সব গাঁজাখুরি .. হরিদাসবাবু অনেকক্ষণ কোনো কথা বলেন নি। আমাদের উপহার দেওয়া সিগারেটের চতুর্থটির ছাই ঝাড়তে ঝাড়তে তিনি হাই তুলে ধাড়া হয়ে বসলেন। বললেন—আপনার হাসবেন হয়তো কিন্তু আমার নিজের জীবনের একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা এখানে বলছি শুমুন। পরে তিনি পঞ্চম সিগারেটটি ধরিয়ে নিজের অভূত গল্পটি বলে গেলেন। অনেকদিনের কথা। আমার বয়স তখন খুব বেশী না হলেও বারো-তেরোর কম নয়। আমার এক কাকা ফরেস্ট ডিপার্টমেণ্টে কাজ করতেন এবং সে সমরে তিনি খুলনা মরেলগঞ্জ আউট-পোস্টে থাকতেন। একবার কি উপলক্ষে তা এখন ঠিক স্মরণ হয় না, আমি আমাদের বাড়ির সকলের সঙ্গে কাকার কাছে বেড়াতে যাই। কাকা তখন ছিলেন খুলনার বাসাতে, সেইখানেই অনেকদিন আমরা ছিলাম। বেশীদিন থাকবার কথাবার্তা হওয়াতে আমি সেখানকার একটা স্কুলে ভর্তি হয়ে গেলাম । আমরা পূজোর পরটাতেই সেবার খুলনা যাই। কয়েক মাস পড়বার পরে গ্রীষ্মের ছুটি হোল প্রায় একমাসের ওপর । কাকাকে ধরলাম তার সঙ্গে তার কার্যস্থান মরেলগঞ্জে যাবো। কাক আমার নিয়েও গেলেন। সেই সময়টা মোম-মধু সংগ্রাহকদের লাইসেন্স নতুন করে করবার সময়। কেউ ফাকি দিয়ে পুরানো লাইসেন্সের বলে জঙ্গলে মোমমধু