পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক \రి) বললে—কোথা থেকে আলচেন ? —কলকাতা থেকে— —হিন্দু না খ্ৰীষ্টান ? —হিন্দু। একটি অল্পবয়সী পাণ্ডাঠাকুর আমায় একপাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললে—আমি সস্তায় আপনার কাজ করিয়ে দেবো–পাচসিকে পয়সা দেবেন আমায়। আমি বড় গরিব, বাবা মারা গিয়েচেন আজ দুবছর হল, সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেচে। আমার যা দেবেন, তাই নেবো । ছেলেটির ওপর মমতা হল। আমি বললুম—বেশ, তোমায় আমি একটা টাকা দেবে— কিন্তু কোনো কাজকর্ম করার দরকার নেই আমার । তোমার প্রণামী স্বরূপ টাকাটা নাও— ও বললে—আমার বাড়ি এবেল খেয়ে যান—দুপুর ঘুরে গেল, না খেয়ে গেলে কষ্ট হবে। দরিদ্র পাণ্ডাঠাকুরের ঘরবাড়ি দেখবার আগ্রহেই আমি তার সঙ্গে তার বাড়ি গেলাম। পাহাড়ের একপাশে কয়েকটি ক্ষুদ্র মূলী-বাশের ঘর, তারই একখানাতে সে আর তার বিধবা মা বাস করে । আমি যেতে ওর মা বার হয়ে এসে হাসিমুখে আমার জন্তে একখানা মোটা বুহ্বনির শীতল পাটি পেতে দিলেন। আমি তাকে প্রণাম করে একটা টাকা স্তায় পায়ে রাখলুম। পাণ্ডাঠাকুরের মায়ের খাটি দেহাতী চাটগায়ে বুলি আমার পক্ষে ভীষণ দুর্বোধ্য হয়ে উঠলো । তিনি বললেন-বাবা, তুমি কি চা-পানি থাও? —না মা, এত বেলায় আর চা খাব না। —আমাদের বাড়ি চা নেইও। যদি অসুবিধে হয় তবে দোকান থেকে আনিয়ে দিতাম, তোমরা কলকাতার লোক কিনা, চা না খেলে হয়তে কষ্ট হতে পারে, ভাই বলচি । আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললুম, চ খেয়ে আমি সীতাকুণ্ড থেকে রওনা হয়েচি সকালে, এখন না খেলে আমার কোন কষ্ট হবে না। তারপর আহারের ব্যবস্থা। আমি নগদ একটাক প্রণামী দিয়েচি বলে আমার খাডির করতে র্তারা বিশেষ ব্যগ্র হয়ে পড়লেন–কিন্তু দরিত্রের সংসারে অনেক চেষ্টাতেও কিছু যোগাড় করতে পারলেন না। কিছু পরেই সে কথা বুঝলুম। খাবার এল ভাত আর ডাল, এর সঙ্গে আর কোনো ভাজান্ডুজি পর্যন্ত নেই। আমি প্রথমে ভাবলুম ডাল দেবার পরে আরও কিছু দেবে। এদেশে তাই করে থাকে। ডালই এদেশে একটা পৃথক তরকারির মধ্যে গণ্য। বরিশাল থেকে শুরু করে কক্সবাজার পর্যন্ত দেখেচি সর্বত্র এই একই নিয়ম।