পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రిy: বিভূতি-রচনাবলী প্রথমে বরিশালে যেদিন এক ভদ্রলোকের বাড়িতে খেতে বসেচি, শুধু দিয়ে গেল ভাঙ আর এক বাটি ডাল, তখন আমি তো অবাক। অতিথিকে শুধু ডাল দিয়ে ভাত দেওয়ায় আমি প্রথমটা একটু আশ্চর্য না হয়ে পারিনি, কিন্তু তারপর শুধু ডাল দিয়ে ভাত খাবার পরে অস্কান্ত অনেক ব্যঞ্জন একে একে অসিতে শুরু করলে। এখানে অবিহি তা হল না । ডালের পরে অন্ত কোনো ব্যঞ্জন এসে পৌছলো না দেখে শুধু ডাল দিয়ে ভাত মেখই ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে হল। সন্ধ্যার দিকে আবার বাড়বকুণ্ড থেকে চন্দ্রনাথের পথে উঠলুম। আসবার সময় পাণ্ডাঠাকুরের মা আমার নাম-ঠিকানা লিখে নিলেন, পুনরায় আসতে বার বার অনুরোধ করলেন। দেখলুম, তিনি এমন খুশী, যেন খুব একজন বড়লোক যজমান পেয়ে গিয়েছেন, এবার থেকে যেন তার সকল দুঃখ ঘুচবে। কষ্ট হল ভেবে যে এই দরিদ্র পরিবার আমার কাছে যে আশা করেচেন, আমার দ্বারা তা কতটুকু পূর্ণ হবে! হায়রে মানুষের আশা । সন্ধ্যার কিছু পরে সীতাকুও গ্রামে ফিরে এসে দেখি আমি যার সঙ্গে এসেছিলুম, তিনি জরুরী চিঠি পেয়ে চাটগ চলে গিয়েচেন। আমায় আরও তিনদিন এখানে থাকতে বলেচেন, তিনি আবার আলবেন তিনদিন পরে। পাণ্ডাঠাকুর আমাকে যত্ব করে ভালো বিছানা পেতে দিয়েচে বাড়ির মধ্যে একটা ঘরে। আমি যেতেই বললে, বাবু, আপনার জন্তে চায়ের জল চড়ানো রয়েচে, বসুন বেশ আরাম করে। আমার স্ত্রীকে বলে দিয়েচি, বাবুর সামনে বেরুবে, কথা বলবে, তাতে কি। উনি তো আমাদের যজমান, বাড়ির লোক । আমি বললুম-ঠিক, উনি তো মায়ের মতো। আমার সামনে আসবেন, এ আর বেশি কথা কি । কিছুক্ষণ পরে পাওঠাকুরের স্ত্রী চা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। বয়েস তেইশ চব্বিশ, একহারা গৌরবর্ণ মেয়ে। মোট লালপাড় শাড়ি পরনে। আমার চাটগারের বুলিতে যা বললেন তার মর্ম এই যে, আমি রাত্রে ভাত খাই, না রুটি খাই ? আমি বললুম—যা ইচ্ছে করুন মা, আমার খাওয়ার কিছু বাধাবাধি নেই। আর কিছু ন বলে তিনি ঘর থেকে চলে গেলেন। যেন কত সঙ্কুচিত, লজ্জিত হয়ে আছেন নিজেদের আতিথ্যের ক্রটির জন্তে । বাড়বকুণ্ডতে দেখেচি, এখানেও দেখলুম এই সব দরিদ্র পাণ্ডাঠাকুরের অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র । সুদূর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্র পল্লীতে বাস করে বলে এর নিতান্ত অনাড়ম্বর, সরল। বাইরের জগৎ সম্বন্ধে বিশেষ কোনো খবর এর রাখে না। একটু পরেই সেটা কি চমৎকার ভাবেই ফুটে উঠেছিল পাওঠাকুরের কথাবার্তার মধ্যে। রাত্রে আহারাদির ব্যবস্থা এ অঞ্চলে সব জায়গায় যেমন দেখেচি তেমনি। প্রথমে শুধু ভাত আর এক বাটি ডাল। অন্ত কিছুই নেই এর সঙ্গে। ভাল দিয়ে মেখে কিছু ভাত খাওয়ার পরে এল বেগুন ভাজ। শুকনো ভাত দিয়ে বেগুন