পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিযাত্রিক ৪২৭ ওদের বলেও দেয় না। চিরকাল যা করে আসচে ওদের গ্রাম্য অঞ্চলে, ওরাও তাই করে । কল্পনাহীন মনে নতুন ছবিও জাগে না। সেই ঠেসাঠেলি খোলার চালা, ফণিমনসার ঝোপ, রাঙা মাটির দেওয়াল, গোরু ও মহিষের অতি অপরিষ্কার ও নোংরা গোয়াল বাড়ির সামনেই —তাল বা শালগাছের কড়িতে খোলার চালের নীচে শুকনো ভূটার বীজ বুলচে–মেয়েদের পরনে রঙীন ছাপাশাড়ি, যা বোধ হয় তিনমাস জলের মুখ দেখেনি—হাতে রুপোর ভারী ভারী পৈছে ও কঙ্কণ, বাহুতে বাজু—পায়ে ততোধিক ভারী কাসার মল। এইসব বস্তি প্লেগ ও কলেরার বিশেষ নীলাভূমি—একবার মহামারী দেখা দিলে সাত-আট দিনের মধ্যে বস্তি সাফ করে দেয় । আমরা গিয়ে এমনি একটা খোলার ঘরের দাওয়ায় বসলুম একটা দড়ির চারপাইয়ের ওপর। বন্তির ছোট ছোট ছেলেমেয়ে একরাশ এসে জুটলো সামনে । তাদের চেহারা দেখে মনে হয় আজন্ম ওরা স্নান করেনি, কাপড়ও কাচেনি । আমরা জিগ্যেস করলুম—গ্রামে পাঠশালা আছে ? বুদ্ধ বললে—এ টোলায় নেই—সহদেবটোলায় আছে। প্রাইমারী স্কুল। —ছেলেরা সব যায় সেখানে ? —সবাই যায় না বাবুজি, বড় হয়ে গেলে ছেলের গোরু মহিষ চরায়, ক্ষেত-খামারে কাজ করে—লেখাপড়া করলে কি সকলের চলে বাবুজি! বুদ্ধ আমাদের হাতমুখ ধোবার জল নিয়ে এল । জিজ্ঞেস করে জানা গেল ইদারার জল । তবুও অনেকটা ভালো। বস্তির মাঝখানে যে ছোট পুকুর দেখে এসেচি তার জল হলে আমাদের জল ব্যবহার স্থগিত রাখতে হত । —আপনার আট খাবেন, না ছাতু ? —যা আপনাদের সুবিধে হয়। তবে আটাই বোধহয়— —আচ্ছা আচ্ছ, বাবুজি। আপনারা চুপ করে বসে বিশ্রাম করুন—আমি সব বন্দোবস্ত করে দিচ্চি। ওরা আমাদের জন্তে রণধবার বন্দোবস্ত করে দিলে । সে এক-হিসেবে ভালো বলেই মনে হল আমাদের কাছে। নিজের চোখে জিনিসগুলো দেখে ধুয়ে বেছে তবুও নিতে পারা যাবে। w এদের আতিথ্য অভ্যস্ত আন্তরিক ও উদীর—এদের সারল্য অন্তরকে স্পর্শ না করে পারে না—কেবল মনে হয়, যদি কেউ এদের স্বাস্থোর বিধি-নিষেধগুলো বলে দেওয়ার থাকতো ! আমরা পাশের একটা ছোট চালায় রান্না চড়ালুম। গ্রামের লোকে অনেকে এসে উকিঝুঁকি দিয়ে দেখতে লাগলে আমাদের রান্না। আলু ও লাউএর তরকারি আর আটার রুটি। চাটনির জন্তে ছিল চুকো পাল, কিন্তু আমরা চাটনি কি করে রাখতে হয় জানিনে। হেমেন বললে তার অনেক হাঙ্গম, সুতরাং চাটনি রান্না বন্ধ রইল। দুজনে পরামর্শ করে অতিকষ্টে লাউএর তরকারি নামালুম ; এদের কাছে ধরা না পড়ি যে, আমরা রান্না জানি না। ৰখাবার্তা চললে খাওয়া-দাওয়ার পরে। এই অঞ্চলের পল্পীজীবনের অনেক তথ্য সংগ্ৰহ