পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত \ هو সঙ্গেই ছেলে কমিতে শুরু করিল। অপু এ ঘণ্টায় পিছনের বেঞ্চিতে বসিয়া লাইব্রেরী হইতে লওয়া ইতিহাস, উপন্যাস বা কবিতার বই পড়ে, অধ্যাপ-কর কথার দিকে এতটুকু মন দেয় না, শুনিতে ভাল লাগে না । সেদিন একমনে অন্ত বই প তছে হঠাৎ অধ্যাপক তাহাকে লক্ষ্য করিয়া কি প্রশ্ন করিলেন। প্রশ্নটা সে শুনিতে পায় নাই, কিন্তু ক্লাস হঠাৎ নীরব হইয়া যাওয়াতে তাহার চমক ভাঙ্গিল, চাহিয়া দেখিল সকলেরই চোখ তাহার দিকে। সে উঠিয়া দাড়াইল । অধ্যাপক বলিলেন—তোমার হাতে ওখানা লজিকের বই ? অপু বলিল—না স্তর, প্যালগ্রেভের গোলডেন ট্রেজারি— —তোমাকে যদি আমার ঘণ্টায় পার্সেণ্টেজ না দিই? পড়া শোনো না কেন ? অপু চুপ করিয়া রহিল। অধ্যাপক তাহাকে বসিতে বলিয়া পুনরায় অধ্যাপনা আরম্ভ করিলেন। জানকী চিম্টি কাটিয়া বলিল—হ'ল তো ? রোজ রোজ বলি লজিকের ঘণ্টায় আমাদের সঙ্গে পালাতে—ত শোনা হয় না—আয় চলে— দেড়শত ছেলের ক্লাস। পিছনের বেঞ্চের সামনের দরজাটি ছেলেরা ইচ্ছা করিয়া খুলিয়া রাখে পালাইবার সুবিধার জন্য। জানকী এদিক ওদিক চাহিয়া মুড়ৎ করিয়া সরিয়া পড়িল। তাহার পরে বিরাজ। অপুও মহাজনদের পথ ধরিল । নীচে আসিলে লাইব্রেরীয়ান বলিল— কি রীর মশায়, আমাদের পার্বণীটা কি পাব না ? অপু খুব খুশী হয়। কে তাহাকে চিনিত পাচ মাস আগে ! এতবড় কলিকাতা শহর, এতবড় কলেজ, এত ছেলে। এখানেও তাহাকে রায় মশায় বলিয়া থাতির করিতেছে, তাহার কাছে পার্বণী চাহিতেছে! হাসিয়া বলে—কাল এনে দেব ঠিক সত্যবাবু, আজ ভুলে গিইচি– আপনি এক ভলুম গিবন দেবেন কিন্তু আজ— উৎসাহে পড়িয়া গিবন বাড়ি লইয়া যায় বটে কিন্তু ভাল লাগে না। এত খুঁটিনাটি বিরক্তিকর মনে হয় । পরদিন সেখানা ফেরত দিয়া অন্ত ইতিহাস লইয়া গেল । পূজার কিছু পূর্বে অপুদের বাসা উঠিয়া গেল। খরচে আয়ে অনেকদিন হইতেই কুলাইতেছিল না, সুরেশ্বরের ভাল টিউশনিটি হঠাৎ হাতছাড়া হইল—কে বাড়তি খরচ চালায় ? নির্মল ও জানকী অন্ত কোথায় চলিয়া গেল, সুরেশ্বর গিয়া মেসে উঠিল। অপুর যে মাসিক আয়, কলেজের মাহিনা দিয় তাহা হইতে বারে টাকা বাচে—কলিকাতা শহরে বারো টাকায় যে কিছুতেই চলিতে পারে না, অপুর সে জ্ঞান এতদিনেও হয় নাই । সুতরাং সে ভাবিল বারে টাকাতেই চলিবে, খুব চলিবে । বারো টাকা কি কম টাকা! কিন্তু বারো টাকা আয়ও বেশী দিন রহিল না, একদিন পড়াইতে গিয়া শুনিল, ছেলের শরীর খারাপ বলিয়া ডাক্তার হাওয়া বদলাইতে বলিয়াছে, পড়াশুনা এখন বন্ধ থাকিবে। এক মাসের মাহিনী তাহারা বাড়তি দিয়া জবাব দিল । টাক কয়টি পকেটে করিয়া সেখান হইতে বাহির হইয়া অপু আকাশ-পাডাল ভাবিতে ভাবিতে ফুটপাথ বাহিয়া চলিল। মুরেশ্বরের মেসে সে জিনিসপত্র রাখিয়া দিয়াছে, সেইখানেই