পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হেডপণ্ডিত বলিলেন, আমার উনিশ বছরের মধ্যে— জ্যোতির্বিবনোদ বলিলেন, আমার সতের বছরের মধ্যে— বোঝা গেল, সকলেই বৰ্ত্তমান ব্যবস্থার উপর অসন্তুষ্ট। নতুন কিছু হইলেই খুশী । সকলেরই উন্নতি হইবে, বাজার-খরচ সচ্ছলভাবে করিতে পারিবেন, বাসায় ফিরিয়া পরোটা জলখাবার থাইতে পরিবেন, দুই-একটা জাম বেশী করাইতে পারিবেন, বাড়ীতে অনেকেরই বাসনপত্র কম—কিছু থালা বাটি কিনিবেন, কন্যার বিবাহের দেন কেহ বা কিছু শোধ করিতে পরিবেন। - কাল হইতে স্কুলে ছেলেদের জন্য টিফিনের বন্দোবস্ত হুইবে । ডি. পি. আই”-এর সারকুলার অনুযায়ী ছেলেদের নিকট হইতে কিছু কিছু খরচা লইয়া স্কুল ছেলেদের টিফিনের সময় জলখাবারের আয়োজন করিবে। সাহেব ঠিক করিয়াছেন—লাল আটার রুটি আর ডাল, ঠাকুর রাথিয় তৈরি করানো হইবে, প্রত্যেক ছেলেকে দুটি পয়সা দিতে হইবে খাবার বাবদ —দুইখানা রুটি ও ডাল মাথা-পিছু । মিঃ আলম বলিলেন, শুকুন, মীটিং ভাঙবার আগে আর একটা কথা আছে। কাল থেকে টিফিন দেওয়া হবে ছেলেদের, ওর হিসেবপত্র আর ছেলেদের দেওয়া-খাওয়ার তদারক করতে হবে একজন টীচারকে, আপনাদের মধ্যে কে রাজী আছেন ? সাহেব আমাকে লোক ঠিক করতে বলেচেন । ক্ষেত্রবাবু বলিলেন, কে আবার ওই হাঙ্গামা ঘাড়ে নেবে, থাকি টিফিনের সময় একটু 巴r弧一 হেডপণ্ডিত বলিলেন, আমাদের শরৎ-ভায় বরং করে—ইয়ং ম্যান। তুমি কি বিনোদ– হিসাবপত্র করিতে হইবে এবং তিনশো ছেলেকে ডাল রুটি দেওয়ার ঝঞ্চাট পোহাইতে হইবে বলিয়া কেহই রাঙ্গী হয় না। মিঃ আলম বলিলেন, তাই তো, একটা যা হয় ঠিক করে ফেলতে হবে । - যদুবাবু চুপ করিয়া ছিলেন। বললেন, তা, তবে—যখন কেউ রাজী হয় না, তখন আর কী হবে, আমাকেই করতে হবে। সাহেবের অর্ডার, না মেনে তো উপায় নেই ! --আপনি নেবেন তা হলে ? –তাই ঠিক রইল মিঃ আলম 1, কী আর করি, একটু কষ্ট হবে বটে কিন্তু চাকরি যখন করছি— - কৰ্ত্তব্যকার্য্যে এতখানি অঙ্গুরাগ যদুবাবুর বড় একটা দেখা যায় না, সুতরাং অনেকে বিস্মিত হইলেন। মিঃ আলম বলিলেন, আপনারা নিৰ্ভয়ে নেমে যান। সাহেব টুইশানিতে বার হয়েছে, মেমসাহেবও নেই। কেউ টের পাবে না। সকলে ভয়ে ভয়ে নীচে নামিয়া গেল। চায়ের মজলিসে রামেন্দুবাবু বলিলেন, আমাকে আপনারা এর মধ্যে কিন্তু টানবেন না।