পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী অবিনাশবাবু যুদ্ধের আলোচনা করিতে বসেন। তোজো বা ওয়াভেল বা চাচ্চিল যাহা না ভাবিয়াছেন, অবিনাশবাবু তাহা ভাবিয়া বুঝিয় বিজ্ঞ হইয়া বসিয়া আছেন। সিঙ্গাপুর বা ব্ৰহ্মদেশ কী করিলে রক্ষা পাইতে পারিত, ব্রিটিশের কী ভূল হইল, কোন পথ ধরিয়া কী ভাবে যুদ্ধ করিলে আপার বর্খা এখনও রক্ষা হয়—এসব কথা অবিনাশবাৰু খুব ভালই জানেন। কলিকাতায় দিন পনেরোর মধ্যে বোমা পড়িবে, এ বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ। বোমারু বিমানের আক্রমণের চিত্র তাহার মত কেহ আঁকিতে পারে না। শুনিয়া শুনিয়া যদুবাবুর কী হইয়াছে, আজকাল তিনি যেন সৰ্ব্বদাই সশঙ্ক। একদিন রাত্রে আহার করিতে বসিয়া হঠাৎ উৎকর্ণ হইয়া শুনিলেন, এরোপ্লেনের শব্দের মত একটা শব্দ না ? স্ত্রীকে বলিলেন, দাড়াও, ও কিসের শব্দ গো ? -कहे ? - -- ওই যে শোন না—আলো সরাও, আলো ঘরে নিয়ে যাও, ঘরে নিয়ে যাও । জাপানী প্লেন হতে পারে— —তোমার হল কী ? ও তো গুবরে পোকা উড়ছে জানালার বাইরে। —না না, গুবরে পোকা কে বললে ? দেখে এস আগে—দুধ দিতে হবে না, আগে দেখে এস— যদুবাৰুর গ্ৰী কাটার আগায় পোকাটাকে উঠানে ফেলিয়া দিয়াবলিল, জাপানী এরোপ্লেন বাট দিয়ে তফাত করে রেখে এলাম গে। এখন নিশ্চিন্দি হয়ে বসে দুধ দিয়ে ভাত ছুটি খাও। এক চাৰুলা আম দিই। সংসারের বড় কষ্ট, অথচ ভয়ে যদুবাৰু কলিকাতায় গিয়া স্কুলে প্রভিডেন্ট ফণ্ডের টাকার খোজখবর করিতে পারেন না। স্কুলে চিঠি লিখিয়াও জবাব পাইলেন না। ম্যালেরিয়াপ্রধান স্থান, শরীরের মধ্যে অস্থখ চুকিল—প্রায়ই অমুখে ভোগেন। অথচ ঔষধ নাই, পথ্য নাই। থাকিবারও খুব কষ্ট। . যন্ধুবাবু বলেন, এর চেয়ে বেড়াবাড়ী ছিল ভাল। যন্ধুবাবুর স্ত্রী বলে, সেখানেও যে স্থখ, তা নয় ; তবে তুমি সঙ্গে থাকলে আমি বনেও থাকতে পারি। সে বার তুমি আমায় ফেলে এলে একা-কী করে থাকি বল তো ? বহুবাৰু বলেন, তুমি অবনীর দিদিকে একখানা চিঠি লেখে। আম-কঁঠালেরসময় আসছে, চল যাই। কতকাল বেড়াবাড়ী বাস করি নি। আসল কথা কী জান, কলকাতা ছাড়া কোন জায়গায় মন টেকে না। কথা বলবার মাঙ্গুষ নেই-আমার যে সব বন্ধু ছিল কলকাতায়, তাদের কেউ পোস্ট-গাস্টার, কেউ মাৰ্চেণ্ট অফিসের বড় কেরানী, জু শো টাকার কম মাইনে নয়। স্কুল-মাস্টারকে সবাই খাতির করত। শিক্ষিত লোক শিক্ষিত লোকের স্বৰ্গ বোঝে। —কেন, ওই অবিনাশবাৰু—উনিও তো ভাল চাকরি করেন। —ওই,ৰবিনাশটা জারে রামো, রেল-জাপিলে কাজ করে, সেকালের এস্ট্রান্স পাম