পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবাগত २&> লবণের গুদাম আর আড়ৎ ছিল নাহারা হ্রদের পাড় থেকে মাইল খানেক দূরে পাহাড়ের কোলে । সে সময় সে দেখেচে হ্রদের ওপর আকাশ হঠাৎ গভীর রাত্রে যেন দিনের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠলো—কেমন যেন অদ্ভুত শস্থ হচ্ছে হ্রদের জলে । মোটের উপর রাত্রে হ্রদের ধারে কেউ যায় মা—অনেক দিন থেকেই স্থানীয় লোকেদের মধ্যে এ ভয় রয়েচে । একবার এক মেষপালক রাত্রিকালে হ্রদের ধারে কাটিয়েছিল, সকালবেলা তাকে সম্পূর্ণ উন্মাদ অবস্থায় নিমকের গুদামের কাছে পায়চারি করতে দেখা যায়। আমার ঠাকুরদাদা এসব গালগল্প শুনবার লোক ছিলেননা। তিনি বুঝতেন স্কৃত্তি, শিকার, হল্লা, হৈ-চৈ। লোকটাও ছিলেন দুঃসাহসী ও একগুঁয়ে ধরণের। তিনি যাবেনই ঠিক করলেন। বৃদ্ধ ভীল তাকে বল্লে—হুজুর, হাসের দল যদি জলে নামে, তবে সেরাত্রে কোনো ভয় নেই জানবেন! ঠাকুরদাদা জিজ্ঞেস করলেন–কিসের ভয় ? বাঘের } —তার চেয়েও ভয়ানক কোনো জানোয়ার হতে পারে—কি জানি হুজুর, আমার শোনা কথা মাত্র। ঠিক বলতে পারিনে —তুই সঙ্গে থাক না ? বকশিশ দেবে। — —মাপ করবেন, হুজুর। একশো রূপেয়া দিলেও না, রাত কাটাবে কে নাহারা নিপটের ধারে ? প্রাণের ভয় নেই ? আমরা ভীল, বাঘের ভয় রাখি নে—এই হাতে তীর দিয়ে কত বাঘ মেরেচি, কিন্তু হুজুর, বাঘের চেয়েও ভয়ানক কোনো জীব কি দুনিয়ায় নেই ? আমার ঠাকুরদাদ। নাহার। হ্রদ ভালো জানতেন না । ঠিক আমাদের অঞ্চলে হ্রদটা নয়, আমাদের গ্রাম থেকে চল্লিশ মাইল দূরে । তখনই তিনি ভৗলদের গ্রাম থেকে রওনা হয়ে সাত আট মাইল হেঁটে পাহাড় ডিঙিয়ে সমতল ভূমিতে নামালেন,দূরে মস্ত বড় হ্রধটার লবণাক্ত জলরাশি প্রখর সূৰ্য্যতাপে চকু চকু করচে । জনপ্রাণী নাই কোনো দিকে। বেল। তখনও অনেকখানি আছে, এমন সময়ে ঠাকুরদাদা হ্রদের ধারে পৌছে গেলেন এবং নলখাগড়া ও শুকনো ঘাস দিয়ে সামান্য একটু আবরণ মত তৈরি করে নিলেন জলের ধারেই, যার আড়ালে তিনি বন্দুক নিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারেন, হাসের দল তাকে না টের পায়। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়ে গেল—রাঙা রোদ দূরের পাহাড়ের গা থেকে মিলিয়ে গিয়েচে অনেকক্ষণ। সুন্দর চাদ উঠলো পূবের পাহাড় ডিজিয়ে, কৃষ্ণপক্ষের আঁধার রাত্রি। একদল সবুজ বনটিয়া জলের ধারে নেমে আবার উড়ে গেল। নির্জন নিস্তব্ধ মরুভূমি আর হ্রদ । দুই দ্বও পরে জ্যোৎস্না ফুটে উঠলো হ্রদের বুকে । ধবধবে জ্যোৎস্না-কৃষ্ণ দ্বিতীয়ার। ছুদিন মাত্র আগে হেমন্তপূর্ণিমা চলে গিয়েচে—যত রাত বাড়ে, তত শীত নামে। গতের মুখে বালি-হাস আসবার সময়—কিন্তু কই একটাইসিও আজ নামচে না কেন ? বুদ্ধ ভৗলের কথা মনে পড়লোঠাকুরদাদার। হাসের দল যদি নামে তবে সে-রাজি বিপদহীন বলে জানবেন —যদি না নামে তবে কিসের বিপদ ? বাঘ জল খেতে আসে পাহাড় থেকে ? রাত্রি ক্রমে গভীর হ’ল। অপূৰ্ব্ব জ্যোৎস্নালোকে হ্রদের জল, মরুভূমির নোমা বালি