পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


శివీ: दिङ्कडि-ब्रानांदर्नौ অভিজ্ঞতায় জানে। স্বতরাং আষাঢ় মাসের গুমট গরমে বেলা এগারোটা পৰ্য্যন্ত তাকে অস্নাত অবস্থায় থাকতে হোল । এগারোটার পর কলের জল কখন চলে গেল। যখন সে নাইতে গেল, তখন চৌবাচ্চায় ইঞ্চি চারেক মাত্র জল। কাকের মুখ থেকে তার মধ্যে পড়েচে ভাত। এই সময়ে একদিন যন্ধুবাবু এলে বললেন, ওগো শোনে, একটা সন্ধান পেয়েচি । রাণাঘাট থেকে নেমে যেতে হয় প্রায় এগারো মাইল উত্তরে, বল্লভপুর বলে পাড়াগা । সেখানে কলকাতার এক বড়লোকের জমিদারি কাছারি ছিল, বিক্রি করে ফেলেছে। মাঝে মাঝে যেতো বলে কাছারিবাড়ীর সংলগ্ন দোতলা বাড়ী তৈরি করেছিল, ওপরে নিচে পাচখানা ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর, নাইবার ঘর সব আছে। দশ বিঘে জমির ওপর কাছারি বাড়ী, তাতে আম, কঁঠালের গাছ, কলাগাছ আছে । বাড়ীর সেই জমির নিচে দিয়ে একটা ছোট নদী বয়ে যাচ্চে, তাতে জমিদার বাধানে ঘাটলা করে দিয়েচেন, বাড়ীর মেয়েরা যখন গিয়ে থাকতে তাদের নাইবার সুবিধার জন্তে । সবসুদ্ধ তিন হাজার সাড়ে তিন হাজার টাকা হোলে বাড়ীটা পাওয়া যায়—জমিমৃদ্ধ–কিনবো ? প্রভিড়েন্ট ফণ্ডের টাকা সব যদি তুলে নিই— —অত কমে হবে ? —পাড়াগা। কে সেখানে খদের হচ্চে ? যদর শুনলাম, চাষা গ। গায়েও অত টাকা দিয়ে কেনবার লোক নেই । —টাকা দেবে কোথা থেকে ? —প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা সব তুলে নিই। তোমার গহনা কিছু দাও আর ইনসিওরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে কিছু ধার করি। আমার কাছেও সামান্য কিছু আছে । শু্যামলীর মন নেচে উঠলো। কতদিন সে পাড়াগায়ের মুখ দেখে নি । বাপের বাড়ী ছিল হুগলী জেলার তারকেশ্বর লাইনে দাসপুর গ্রামে। সে বংশে বাতি দিতে কেউ নেই। জ্ঞাতি কাকারা পর্য্যন্ত উঠে এসে কলকাতায় বাস করচেন, ঘোর ম্যালেরিয়া, চলে না সেখানে থাকা । যদি এ সম্ভব হয় । ভগবান কি এত দয়া করবেন ? তা কি তার কপালে সম্ভব হবে ? শু্যামলী বললে—কিন্তু তুমি কোথায় থাকবে ? —কেন, সেখালে । —আপিস ? —চাকুরি ছেড়ে দেবো। একঘেয়ে হয়ে গিয়েচে এ জীবন। আর ভাল লাগে না। স্বাস্থ্য যেতে বসেচে। একটু সাহস করে দেখি, যা আছে কপালে । ওখানে জায়গা জমি নিয়ে চাষবাস করবো । --ছেলে দুটোর লেখাপড়া ? —রাণাঘাটে বোর্ডিংয়ে থাকবে । সে ব্যবস্থা হয়ে যাবে এখন। আর এ যা লেখাপড়া