পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●)● বিভূতি-রচনাবলী তার মনে হচ্ছে, চল্লিশ বছর যেন কেটে যায় নি, যেন তিনি নব্য যুবকই আছেন, জলরক্ষক ওঙ্ক আছে তার, যেন তিনি ক্লাভপ্রেসারে ভূগচেন না আজ দু বছর, যেন তার বাত হয় নি সেবার আশ্বিন মাসে এবং বাতে কিছুদিন শয্যাশায়ী হয়ে ছিলেন না—যেন রাতুলপুরের আম শিমুল জাম কাটালের ঘন ছায়ানিকুঞ্জে চিরযৌবনা নিরুপমা আজও কিশোরী, তারই আশায় পথ চেয়ে शान चांtछ् । গাছতলার সেই যুবকটি কিছু দূরে একটা বেঞ্চির ওপর হতাশ ভাবে বলে পড়েচে । বেচারী ! সেই রাত্রেই রায় বাহাদুর মনে মনে ঠিক করে ফেললেন। তিনি রাতুলপুরে যাবেনই। কাল সকালে উঠেই যাবেন। ছোট মেয়ে স্থমিত এসে বললে—বাবা, রাত্রে কি খাবে ? বৌদিদি বলে পাঠালেন— রায় বাহাদুর মুখ খিচিয়ে বললেন—কেন তিনি কি জানেন না আমি রাতে কি খাই ? যাওঁ পর্যাটা তুলে দাও— 颯 স্বমিতা মুখের অপূৰ্ব্ব ভঙ্গি করে চলে গেল। রায় বাহাদুরের দোতলার দক্ষিণমুখী বসবার ঘর। সামনের দেওয়ালে সবই জানালা। জানালার পর্দা খুলে দিয়ে চলে গেল । পুরু গদিজাটা গিন্টি কোঁচে বসে শেড দেওয়া লম্বা ডালের আলোতে রায় বাহাদুর অস্তমনস্ক ভাবে একখানা বাংলা মাসিক পত্রিকার পাতা ওলটাচ্ছিলেন। এসব পত্রিকা-টত্রিকা এনেচে মেয়ে ৰ৷ বৌমারী, তিনি এসব পড়েন না। বড় পুত্রবধু প্রতিমা রূপের হিল্লোল তুলে ঘরে ঢুকে বললে—আমায় ডেকেচেন ? —হঁ্যা। আমি কি খাবো জিজ্ঞেস করে পাঠিয়েচ কেন ? আমি কি খাই ? প্রতিমা জানে শ্বশুর বৃদ্ধ হয়ে ইদানীং খিটখিটে হয়ে পড়েচেন । সে সাত্বনার স্বরে বললে— না, সে জন্তে না । আপনি দুদিন কিছু খাচ্চেন না রাত্রে, বলেন সাবু করে দাও। তা আজও কি সাৰু খাবেন, না লুচি খানকতক গরম গরম করে আনবো । ভালো মাগুর মাছ আছে কি না, তাই বলে পাঠালুম— —মাগুর মাছের কথা কেউ আমাকে তো বলে নি। সবাই হয়েচে– —তা হলে স্থখানা লুচিই আনি গে ভেজে । —ষ্ঠ্য, রাত তিনটে কোরো,— —দশ মিনিটের মধ্যে আনচি বাবা । না, এ সংসারে মুখ নেই। র্তার মুখের দিকে কেউ তাকায় না । গিন্ধি কি এতই ব্যস্ত যে একবার এসে তার খাওয়ার খোজ নিতে পারেন না 7 জাজ शक्-ि প্রতিমা একটু পরেই রূপোর খালায় লুচি সাজিয়ে ও একটা খুরো বসানো ছোট রুপোর ৰাটিতে মাছের ঝোল নিয়ে ঘরে ঢুকলো। রায় বাহাদুর বললেন—তোমার শাশুড়ী কি . কল্পচেন ?