পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬ বিভূতি-রচনাবলী যদুবাৰুর আজ মোটে বিশ্রামের অবকাশ নাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরিয়া খাটুনি চলিতেছে, দুইজন শিক্ষক আসেন নাই, তাহীদের ঘণ্টাতেও থাটিতে হইতেছে। একটা ঘন্টার শেষে মিনিট পনেরো সময় চুরি করিয়া যদুবাৰু তেওলায় শিক্ষকদের বিশ্রাম-কক্ষে ঢুকিলেন, উদ্বেগু ধূমপান করা। গিয়া দেখিলেন, হেডপণ্ডিত ও ক্ষেত্রবাবু বসিয়া আছেন। তেতলার এই ঘরটি বেশ ভাল, বড় বড় জানাল চারিদিকে, চওড়া ছাদ, ছাদে দাড়াইলে সেন্ট পলের চূড়া, জেনারেল পোস্ট আপিসের গম্বুজ, হাইকোটের চূড়া,ভিক্টোরিয়া হাউস প্রভৃতি তো দেখা যায়ই,বিশাল মহাসমূত্রের মত কলিকাতা নগরী অসংখ্য ঘরবাড়ীর ঢেউ তুলিয়া এই ক্ষুত্র স্কুল-বাড়ীকে যেন চারিধার হইতে ঘিরিয়াছে মনে হয় ; নীচে ওয়েলেসলি স্ট্রীট দিয়া অগণিত জনস্রোত ও গাড়ীঘোড়ার ভিড়, ট্রামের ঘন্টাধ্বনি, ফিরিওয়ালার হাক-বিচিত্র ও বৃহৎ জীবনযাত্রার রহস্তে সমগ্র শহর আপনাতে আপনি-হারা—থমথমে দুপুরে যদুবাৰু মাঝে মাঝে বিড়ি খাইতে খাইতে শিক্ষকদের ঘরের জানালা দিয়া চাহিয়া দেখেন। ক্ষেত্রবাবু বলিলেন, কী যন্থদা, বিশ্রাম নাকি ? —না ভাই, পরিশ্রম। একটা বিড়ি খেয়ে যাই । —আমাকেও একটা দেবেন। হেডপণ্ডিতের দিকে চাহিয়া যদুবাবু বলিলেন, কাল একটা ছুটি করিয়ে নাও না দাদা, সাহেবের কাছ থেকে। কাল ঘণ্টাকর্ণপুজো— হেডপণ্ডিত হাসিয়া বন্সিলেন, হ্যাঃ, ঘণ্টাকর্ণপূজোর আবার ছুটি—তাই কখনও দেয় । —কেন দেবে না ? তুমি বুঝিয়ে বোল, তুমিই তো ছুটির মালিক। —না না, সে দেবে না । —বলেই দেখ না দাদা। বল গিয়ে, হিন্দুর একটা মন্ত বড় পরব। —ভাল, তোমাদের কথায় জনেক কিছুই বললুম। তোমরা শিখিয়ে দিলে যে, রামনবমী আর পুজো প্রায় সমান দরের পরব। রাস, দোল, ষষ্ঠপূজে, মাকালপুজো—তোমরা কিছুই বাদ দিলে না। আবার ঘণ্টাকর্ণপুজোর জন্যে ছুটি চাই,—কী বলে— —যাও যাও, বলে এস, তুমি বললেই হয়। ক্ষেত্রবাৰু ছাদের এক ধারে চাহিয়া বলিয়া উঠিলেন, ওহে, খুকীর বর কাল এলে গেচে । যন্ধুবাবু ও হেডপণ্ডিত একসঙ্গে বলিয়া উঠিলেন, সত্যি ? এপে গেচে ? —ওই দেখুন না, বসে আছে। -ষাক, বাচা গেল। আহা, মেয়েটা বড় কষ্ট পাচ্ছিল ! এই উচু তেতলার ছাদের ঘরে বলিয়া চারিপাশের অনেক বাড়ীর জীবনযাত্রার সঙ্গে ইহাঙ্গের প্রত্যক্ষ পরিচয়। বাড়ির মালিকের নাম-ধাম পর্যন্ত জানা নাই—অথচ ক্ষেত্রবাৰু জানেন, ওই হলদে রঙের তেতলা বাড়ীটার বড় ছেলে গত কাত্তিক মাসে মারা গেল, ৰেশ