পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধারের কোন উপায় হইল না, সে জন্য তিনি খুব দুঃখিত। তবুও চেষ্টায় আছেন। বছবাবুর স্ত্রী বেচারীর খোটা খাইতে খাইতে প্রাণ যাইতেছে। সে বেচারী লিখিল, পরের বাড়ী এমন করিয়া ফেলিয়া রাখা কি তাহার উচিত হইতেছে । কবে তিনি আসিয়া লইয়া যাইবেন ? আর সে এক দণ্ডও এখানে থাকিতে চায় না। যদুবাৰু স্ত্রীর পত্রের কোন উত্তর দিলেন না। যন্থবাৰুরও খুব দোষ দেওয়া যায় না। স্কুল খুলিবার পর প্রত্যেক মাস্টার মাত্র পনেরো টাকা করিয়া পাইলেন ছুটির মাসের দরুন। তাহার মধ্যে মেলখরচ করিয়া আর হাতে কিছু থাকে না। এদিকে পুরাতন বাড়ীওয়ালা স্কুলে আসিয়া তাগাদ দিয়া গায়ের ছাল ছিড়িয়া খাইবার উপক্রম করিতেছে। হেডমাস্টারের সঙ্গে দেখা করিবার ভয় দেখাইয়া গিয়াছে, কেমন ভদ্রলোক সে দেখিয়া লইবে । চায়ের দোকানের মজলিসে বসিয়া মাস্টারের দল পয়সাকড়ির টানাটানির কথা রোজই আলোচনা করে। কারণ, অবস্থা সকলেরই একরূপ। জ্যোতিৰ্ব্বিনোদ বললেন, সামান্ত ত্রিশটে টাকা, তাও দু মাস বাকি। সাহেবের কাছে বলতে গেলাম, সাহেব আজ ছু টাকা দিলে মোটে। ক্ষেত্রবাৰু বলিলেন, আমাদেরও তো তাই, সংসার অচল। যদুবাৰু বলিলেন, আমার দুর্দশা তো দেখতেই পাচ্ছ। ছ বেলা শাসিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেত্রভায়া, তোমার ছেলেমেয়ে কোথায় এখন ? —রেখেছিলাম আমার শাশুড়ীর কাছে দু মাস। এখন আবার এনেছি। নারাণবাৰু বলিলেন, আহ, বউমার কথা ভাবলে কী কষ্ট যে পাই মনে। লক্ষ্মীস্বরূপিণী ছিলেন। আমি যেন তার বাবা, তিনি মেয়ে—এমন ব্যবহার করতেন আমার সঙ্গে। উপস্থিত সকলেই ক্ষেত্রবাৰুর স্ত্রী-বিয়োগের কথা স্মরণ করিয়া দুঃখ প্রকাশ করিলেন। ক্ষেত্রবাবু অস্বস্তি বোধ করিতে লাগিলেন। তাহার নিগৃঢ় কারণও ছিল। এই গ্রীষ্মের ছুটিতে তিনি বৰ্দ্ধমানে তাহার জাঠতুতে ভাইয়ের কাছে গিয়াছিলেন। জাঠতুতে ভাই বৰ্দ্ধমানে রেলে কাজ করেন। বউদিদি সেখানে তাহার জন্য একটি পাত্রী ঠিক করিয়া রাখিয়াছেন। পাত্রী-পক্ষ এজন্য র্তাহাকে অনুরোধও করিয়া গিয়াছে। তিনি এখনও মত দেন নাই বটে, কিন্তু এ শনিবার হঠাৎ তাহার মন বৰ্দ্ধমানে যাইতে চাহিতেছে কেন ! চায়ের দোকান হইতে বাহির হইয়া টুইশানিতে যাইবার পূৰ্ব্বে ক্ষেত্রবাবু ওয়েলেসলি খোয়ারে একটু বসিলেন। বেঞ্চিখানাতে আর একজন কে বসিয়া ছিল, তিনি বসিতেই সে উঠিয়া গেল। ক্ষেত্রবাবু একটু অন্যমনস্ক । পুনরায় বিবাহ করিবার অবশু তাহার ইচ্ছা নাই। করিবেনও না। তবে আর একটা কথাও ভাবিয়া দেখিতে হইবে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বিশেষ কষ্ট। সেই কোন সকালে তিনি স্থলে চলিয়া আসিয়াছেন। বড় মেয়েটার উপরে সব ভার—তার বয়স এই মাত্র সাড়ে সাত। সে-ই রান্নাবান্না, ছোট ভাইবোনদের খাওয়ানো-মাখানোর ঝুকি ঘাড়ে লইয়া গৃহিণী সাজিয়া বসিয়া আছে। কিন্তু আজ