পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লাখনৌ উপনিবেশ ঘটে এবং তাহারা ক্রমশ: এক একটস্থান অধিকার করিয়া তত্ত্বদ বিভাগের স্বত্বাধিকারী বলিয়া গৃহীত হয়। স্থানীয় প্রবাম্ব হইতে জানা যায় যে, রাজপুত ও মুসলমান ঔপনিবেশিকগণের পূৰ্ব্বে এখানে ভর, অরথ ও পাশী নামক নিম্নশ্রেণীর কএকটা জাতির বাস ছিল। অযোধ্যায় সুর্য্যবংশী রাজগণের প্রভাব বিলুপ্ত হইলে, ভরগণ এই প্রদেশ লুণ্ঠন করে। এখানকার গহন অরণ্যে আর্য্যঞ্চষিগণ তপস্তায় নিরত থাকিতেন, এইজন্ত কোন কোন বন স্থানীয় লোকের নিকট পরম পুণ্যস্থান বলিয়া কথিত হইত, ঐ সকল ঋষিগণ যে যে স্থানে বাস করিতেন,তাহ এখন নগররূপে পরিণত হইলেও সেই সেই ঋষির নামে সাধারণে প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। মণ্ডিওয়াওন-মওল ঋষির নামে, মোহন—মোহনগিরি গোস্বামীর নামে, জগৌর জগদেব যোগীর নামে এবং দেব-দেবল ঋষির নামে খ্যাত হয় । ভরদস্থ্যগণ সেই সকল ঋষির আশ্রম লুণ্ঠন করিয়া খৃষ্টীয় ১২শ শতাদে সই নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূভাগে শাসনদও পরিচালিত করিয়াছিলেন । ইহারা কিরাত নামক পৰ্ব্বত্যজাতির দ্যায় তরাই প্রদেশ হইতে এখানে আগমন করে । এখনও ভরডিহির ভগ্নাবশেষ এথানকার নাম গ্রামে নিপতিত রহিয়াছে । কনোজ-রাজবংশ অধঃপতনের পূৰ্ব্বে ভরদিগকে উৎসাদন করিতে প্রয়াস পাইয়াছিলেন । রাজা জয়চাঁদ অলা, উদন ও বণাফর রাজপুত জাতির সাহায্যে বিজনৌরের নিকটস্থ নাথবন মাক্রমণ করেন। তিনি এখানকার পাসীরাজ বিগ্লীকে পরাজিত করিয়া সসবি ও সেবা পৰ্য্যস্ত অগ্রসর হন। পাসী ও অরখ গণ মলিহাবাদ এবং কাকোরী ও বিজনৌরের দক্ষিণে সইতীরবর্ত্তী সাসৈন্দী পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করিয়াছিল। ইহারই পূৰ্ব্বে ভরজাতির অধিকার ও প্রভাব বিস্তৃত ছিল । পাসা ও অরথ্যগণ এখানকার আদিম অধিবাসী। ইহার ছদ্ধর্ষ ও মদ্যপ । অন্যান্ত অধিবাসীকে মদ্যপানে ভুলইয়া তাহাদের সর্বস্ব অপহরণ করিত। ভরজাতির সম্বন্ধেও পূৰ্ব্বাপর ঐরূপ একটা কিংবদন্তী প্রচলিত অাছে। ৯১৮ খৃষ্টাব্দে রাজা তিলকচাদ হইতেই এখানে ভররাজবংশের প্রভাব বিস্তৃত হয় । বরাইচ নগরে তাহার রাজধানী ছিল । তিনি দিল্লীপতিকে পরাভূত করিয়া দিল্লী অদিকার করেন। তাহার বংশে ৯ জন রাজা দিল্লী হইতে অযোধ্যার পর্বতপ্রাস্ত পর্য্যস্ত রাজ্যশাসন করিয়ছিলেন। এই বংশের রাজা গোবিন্দ চাদের মহিষী ভীমদেব রাজ্যশাসন করিয়া ১০৯৩ খৃষ্টাব্দে মৃত্যু সময়ে স্বীয় সম্পত্তি আপন ধৰ্ম্মগুরু হরগোবিন্দকে দান করিয়া যান। উক্ত হরগোবিন্দের বংশ ১৫শ পুরুষ পৰ্য্যন্ত এখানে রাজত্ব করেন । { ১৯৪ } লাখনৌ লাখ নে নগর ও সেনাবাস, কাকোরী, মলিহাবাদ ও অমেঠী এখানকার প্রধান নগর ও বাণিজ্যকেন্দ্র । রবি, খারিফ ও হৈমস্তিকাদি নানা শক্ত এখানে উৎপন্ন হইয়া থাকে। নৌকাপথে এখানকার বাণিজ্য বড় চলে না । অধিকাংশই রেলপথে ও পাকা রাস্তায় গোশকটে পরিচালিত হইতেছে। সীতাপুর, ফৈজাবাদ ও কাণপুর যাতায়াতের জন্য যে পাকা রাস্ত আছে, উহ! প্রায় ৫ শত মাইল লম্বা, এতদ্ভিন্ন কুসী, দেবা, সুলতানপুর, গোঁসাইগঞ্জ ও আমেঠী হইয়া সুলতানপুর ; মোহনলালগঞ্জ হইয়া রায়বরেলী ; সই নদীর সুন্দর সেতু পার হইয়া মোহন ও উণাও জেলার রমুলাবাদ ও মলিহাবাদ হইতে হাদেৰ্শই জেলার শাণ্ডিল্য নগর পর্য্যন্ত বিস্তৃত। এই সকল রাস্ত ধরিয়া লাথ নেী নগরে আসা যায়। এতদ্ভিন্ন কএকটী রাস্তা এখান হইতে অন্যান্ত জেলার প্রধান প্রধান নগরে গিয়াছে। তন্মধ্যে মহোনা হইতে কুলী ও দেব অতিক্রম করিয়া বারাবান্ধী পৰ্য্যন্ত, গোঁসাইগঞ্জ ও মোহনলালগঞ্জ হইয়া কাণপুরের রাজবক্স পর্য্যন্ত বনি সেতু হইতে মোহন ও ঔরস্ পর্য্যস্ত, সই নদীর পাকা পুল পার হইয়া মোহন-ঔরসের উত্তর হইতে রহিমাবাদ পর্য্যন্ত এবং লাধনীে হইতে বিজনের পর্য্যন্ত কয়ট রাস্তা প্রধান। জেলার উপরোক্ত কয়টা রাস্তাই উত্তমরূপে ধাধান । বর্যাকালে পথ খারাপ হয় না। সকল স্থানেই নদীর উপর পাকা সেতু নিৰ্ম্মিত আছে । অযোধ্যা-রোহিলখণ্ড-রেলপথ এই জেলার মধ্যে বিস্তৃত । ইহার তিনটী শাখা পুৰ্ব্ব-দক্ষিণপশ্চিম ও উত্তরপূৰ্ব্বে গিয়াছে। একট লীগ নে হইতে বারাবান্ধী ও খর্বর-তীরব বহরমঘাট পৰ্য্যস্তু গিয়া ফৈজাবাদ হইতে বারাণসী পর্য্যন্ত আসিয়াছে । অপর একট লাখনে হইতে কাণপণ এবং শেষোক্তটা কাকোরী ও মলিহাবাদ নগর হইয়া হাদোই নগর অতিক্রমপুৰ্ব্বক শাহজাহানপুর, বরেণী ও মোরাদাবাদ পৰ্য্যস্ত গিয়াছে। এখানকার বাণিজ্যের লখনে নগরই সবিশেষ প্রসিদ্ধ। অপরাপর নগরে সামান্ত বাণিজ্যকাৰ্য্য পরিচালিত হইয়া থাকে। লগনে সহর ব্যতীত কাকোরী, মলিহাবাদ, আমেঠ, বিজনেীর, চিনহাটু, আমানীগঞ্জ, ইতোপ্পা ও গোঁসাইগঞ্জ নগরে মিউনিসিপালিটী স্থাপিত হওয়ায় নগরের শ্ৰীবৃদ্ধি সাধিত হইয়াছে। ১৭৬৯, ১৭৮৪-৮৬, ১৮৩৭, ১৮৬১, ১৮৬৫-৬৬, ১৮৬৯, ১৮৭৩, ১৮৭৭-৭৪ প্রভৃতি বৎসরে এখানে জলাভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ২ উক্ত জেলার অন্তর্গত একটী উপবিভাগ। অক্ষা, ২৬°৩৮৩০% হইতে ২৭% ১৫ উঃ এবং দ্রাঘি• ৮৯°৪২′ হইতে ৮১-৮৩০′ পূঃ মধ্য। লাখনৌ, বিজনের ও কাকোরী পরগণা ষ্টচার অন্তভূক্ত।