পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্গদেশ ( মোগল-শাসন ) [ 8á२ ] বঙ্গদেশ ( মোগল-শাসন ) নবাবের সহিত কোম্পানীর বিবাদ বাধে। একটা খণ্ডযুদ্ধের পর ইংরাজগণ সন্ধি করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। ইংরাজের হিজলী হইতে সুতানুটীতে প্রত্যাবৃত্ত হইলেন। কোম্পানীর সদস্তের পুনরায় যুদ্ধার্থ প্রস্তুত হইলে, নবাব নানারূপে ইংরাজদিগকে নিজ্জিত করেন। এই সময়ে ইংরাজসৈন্তকর্তৃক বালেশ্বর যুষ্ঠিত হয়। ইংরাজদিগকে মোগল-সাম্রাজ্য হইতে বহিষ্কৃত করিবার জন্ত সায়েস্তা খ দিল্লী হইতে পরওয়ানা আনাইয়া ছিলেন। উহার কিছু পরে তিনি বাঙ্গালার শাসনকর্তৃত্ব ত্যাগ করেন । [ সায়েস্তা খ ও ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী দেখ। ] তদনন্তর ১৬৮৯ খুঃ অঃ নবাব ইব্রাহিম থ বাঙ্গালার শাসনকর্তৃপদে নিযুক্ত হন। পর বৎসর তিনি সম্রাট, অরঙ্গজেবের নিকট হইতে ইংরাজদিগকে এদেশে প্রত্যাবৰ্ত্তন করিবার অনুমতি আনাইয় দেন। ইহার কারণ এই যে, ইংরাজের মোগলদিগের কয়েকথান জাহাজ হস্তগত করেন এবং মুসলমানদিগকে জলপথে ভারতবর্ষ হইতে মক্কায় যাইতে দেন নাই । ইব্রাহিম খণর আহবানে চাণক স্বদলবলে প্রত্যাগমন করেন ( ১৬৯০ খৃ: ) । অনন্তর সম্রাটের হুকুম আসিল যে, বাণিজ্যার্থ ইংরাজদিগের বার্ষিক ৩০ • • টাকার অধিক শুষ্ক দিতে হইবে না ( ১৬৯১ ) । ইহার পরে বাদশাহ দুইবার ইংরাজদিগের বাণিজ্য বদ্ধ করিতে আদেশ দেন ; ইব্রাহিম খণর অনুগ্রহে তাহাদিগের কোন বিপদ ঘটে নাই। ১৬৯৬ খৃঃ অব্দে শোভাসিংহ নামে বৰ্দ্ধমানের একজন জমিদার, বদ্ধমানাধিপতি রাজা কৃষ্ণরামের বিরুদ্ধে অস্ত্ৰধারণ করেন এবং রহিম থ' নামে একজন পাঠান দলপতির সঙ্গে যোগ দিয়া রাজাকে নিহত ও চতুষ্পাশ্ববৰ্ত্তী দেশ লুণ্ঠন করিলেন। হুগলী তাহাদিগের হস্তগত হয় ; চুচুড়ায় ওলন্দাজেরা, চন্দননগরে ফরাসির এবং কলিকাতায় ইংরাজের আত্মরক্ষা করিতে নবাবের অনুমতি পান । এই সুযোগে ইংরাজের “ফোর্ট উইলিয়ম” দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিতে আরম্ভ করেন । ওলন্দাজদিগের সাহায্যে ইব্রাহিম থ' হুগলী পুনরধিকার করেন । শোভাসিংহ বদ্ধমান রাজকুমারীর ধৰ্ম্মনাশ করিতে গিয়া তাহারই অস্ত্রাঘাতে প্রাণ বিসর্জন দেন । এই রাজ্য বিপ্লবের সময়ে সম্রাট, অরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম উসসান বাঙ্গালা, বেহাব ও উড়িষ্যার শাসনকৰ্ত্ত হইয়া আগমন করেন । সুবাদারের পুত্ৰ জবরদস্ত থ" রাজমহলের নিকট রহিম থাকে পরাজিত করেন (১৬৯৮ খৃ: ) । পর বৎসর বদ্ধমানের নিকট সংগ্রামে রহিম ণর মৃত্যু ঘটে এবং তদীয় অমুচরগণের মধ্যে কিয়দংশ নিহত এবং কিয়দংশ মোগলদলভুক্ত হয়। আজিম উসসানের নিকট হইতে ইংরাজের সুতানুটী, গোবিনাপুর এবং কলিকাতা - عیبیعی مجموعه এই কয়েকট মৌজা ক্রয় করিবার অনুমতি পান ( ১৬৯৮ খৃ: )। এই সময়ে ভারতবর্ষের সহিত বাণিজ্য করিবার নিমিত্ত আর একটা ইংরাজ কোম্পানি স্থাপিত হয়। পুরাতন এবং নুতন এই দুই কোম্পানির পরম্পর বিবাদে উভয়ের স্বার্থহানি হয় দেখিয়া, কোম্পানিদ্বয় মিলিত হইল ( ১৭.৬ খৃ: ) এবং উভক্টের যোগে ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গে ১৩৯ জন যুরোপীয় সৈনিক রক্ষিত হইল । আজিম উসসানের শাসনকালে মুরশিদকুলি খান বাঙ্গালার দেওয়ান হইয় আসেন ( ১৭১১ খু: ) । তিনি দরিদ্র ব্রাহ্মণসস্তান ছিলেন। পরে পারস্তদেশীয় বণিক্‌ হাজি সুফিয়া কর্তৃক ক্রীত ও মুসলমানধৰ্ম্মে দীক্ষিত হয়েন। ইহার পূৰ্ব্বে আকবর শাহের সময় হইতে বাঙ্গালায় দেওয়ান ও নাজিমের পদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি নিযুক্ত ছিলেন । দেওয়ান রাজস্ব আদায় করিতেন এবং আয়ব্যয়ের প্রতি দৃষ্ট রাখিতেন। নাজিমের প্রতি দেশরক্ষা ও শান্তিরক্ষার ভার ছিল, এবং তাহার অধীনে সৈন্ত ও শান্তিরক্ষকগণ থাকিত। তিনি সরকারী কার্য্যের জন্ত পত্রদ্বারা যখন যে টাকা চাহিতেন, দেওয়ান তাহা দিতে বাধ্য ছিলেন, কিন্তু টাকা ব্যয়ের দায়ী নাজিম থাকিতেন । ৰাদশাহের ইহাই আদেশ ছিল যে, বড় বড় কার্য্যে উভয়ে একমত হইয়া চলিবেন। নাজিমের অধীনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে প্রদেশীয় শাসনকৰ্ত্ত স্বরূপ এক একজন ফৌজদার ছিলেন। মুরশিদকুলি খাঁ দেওয়ান হইলে তদীয় পরামর্শানুসারে সম্রাট, বাঙ্গালার জায়গীরদারদিগের ভূমি খাস করিয়া লইয়া তাহার সম পরিমাণ ভূমি উড়িষ্যা প্রভৃতি বেবন্দবস্তী প্রদেশে জায়গীরস্বরূপ প্রদান করিলেন । এইরূপে ও অন্যান্য উপায়ে এদেশের রাজস্ব বৃদ্ধি করিয়া মুরশিদ বাদশাহের প্রিয় হইয়া উঠিলেন । কিন্তু বায়বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক হওয়াতে এবং যুদ্ধবল জায়গীরদারদিগকে অসন্তুষ্ট করাতে, তিনি নাজিমের বিষদৃষ্টিতে পড়িলেন। আজিম উসসান একবার তাহাকে মারিয়া ফেলিবার চেষ্টা করিলেন ; কিন্তু তাহাতে কৃতকাৰ্য্য হইতে পারিলেন না। অনস্তুর মুরশিদ কুলি খাঁ ঢাকায় রাজধানী রাখা সুবিধা নহে বুধিয়া, মুক্কুদা বাদে স্বীয় বাসস্থান স্থির করিয়া আপনার নামানুসারে উক্ত নগরের নাম মুরশিদাবাদ রাখিলেন । এই সকল সংবাদ সম্রাটের নিকটে পৌছিলে তিনি আজিম উসসানকে ভৎসনা করিয়া পত্র লিখিলেন এবং বাঙ্গালা পরিত্যাগ করিয়া বেহার যাইবার আদেশ দিলেন। পর বৎসর মুরশিদ দক্ষিণাপথে যাইয়া সম্রাটের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া আয়ব্যয়ের হিসাব প্রদান করিলেন। তাহার কার্য্যদক্ষত দেখিয়া বাদশাহ এরূপ সন্ধঃ হইলেন যে, তাহাকে বাঙ্গাল ও উড়িষ্যার দেওয়ানী এবং সহকারী নাজিমপদে নিযুক্ত করিলেন।