পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/৪৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্গদেশ ( মোগলশাসন ) ১৭•৭ খৃঃ অশো স্বীয় পুত্র ফরুখসিয়রকে প্রতিনিধি রাখিয়া আজিম উসসান দিল্লীতে প্রত্যাগমন করেন এবং তাহার অর্থ ও সৈম্ভবলে পর বৎসর তাছার পিতা শাহ জাল বাহাদুর শাহ নাম ধারণ করিয়া মোগল-সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন। ফরুখসিয়র মুরশিদাবাদ রাজপ্রাসাদেই থাকিতেন, তিনি মুরশিদকুলি খাঁর কোন কার্ঘ্যে বাধা দিতেন না । সুতরাং ১৭১৬ খৃ: অন্ধ হইতে প্রকৃতই মুরশিদ এদেশে দেওয়ান ও নাজিম পদের সমুদয় কাৰ্য্যই করিতে আরম্ভ করেন। প্রায় এই সময়েই সৈয়দ আৰ ছল্লা খান জালাহাবাদের এবং সৈয়দ হুসেন আলী খান বেহারের শাসনকৰ্ত্ত ছিলেন । ১৭১২ খৃঃ অধো বাহাদুর শাহের মৃত্যু হয় ; আজিম উসসান বাদশাহ হইবার চেষ্টা করিয়া নিহত হন এবং ফরুখসিয়র বাঙ্গালা পরিত্যাগ করিয়া দিল্লীতে যাইয়া সম্রাট হন। ফরুখসিয়র বাদশাহ হইয়া মুরশিদ কুলি খাকে বাঙ্গালা ও উড়িষ্যার নাজিমী পদ প্রদান করেন ( ১৭১৩ ) । ১৭১৮ অব্দে মুরশিদ বেহার প্রদেশের ও নাজিম ও দেওয়ান হন । মুরশিদ দেওয়ান ও নাজিম হইয়া অন্ত লোকের কাছে যেরূপ বাণিজ্যের মাশুল পাইতেন, ইংরাজদিগের নিকটেও তদ্রুপ মাশুল চাহিলেন। ইংরাজের সম্রাটু সমীপে দূত পাঠাইলেন। সম্রাটু ফরুখ দিয়র তখন পীড়িত ছিলেন । ঐ দূতদলের মধ্যে ডাক্তার হামিণ্টন সাহেবের সুচিকিৎসায় মুস্থ ইষ্টলে, তিনি সস্তুষ্ট হইয় তাহাদিগের প্রার্থনায়ুযায়ী সনন্দ দিলেন । এই সনন্দ দ্বারা স্থিরীকৃত হইল যে, (১) ইংরাজ কোম্পানি বিন মাশুলে বাঙ্গালায় বাণিজ্য করিতে পরিবেন ; (২) তাহার কলিকাতার নিকটবৰ্ত্তী ৩৮ মৌজা ক্রয় করিতে পরিবেন ; (৩) মুরশিদাবাদের টাকশালে সপ্তাহে তিন দিন তাহাদিগের জন্ত টাকা মুদ্রিত হইবে ; (৪) যাহারা ইংরাজদিগের কাছে ঋণী, নবাবের কৰ্ম্মচারিগণ তাহাদিগকে ইংরাজদিগের হস্তে সমর্পণ করিবেন। ইংরাজের এই সনন্দ লইয়া আসিলে সুবাদার ক্ষুণ্ণ হইলেন এবং কলিকাতার সমীপস্থ জমিদারদিগকে ইংরাজদিগের নিকটে জমি বিক্রয় করিতে নিষেধ করিলেন । কিন্তু অপর তিনটা সৰ্ব সম্বন্ধে তিনি কোন ৰাধা দেন নাই। সনন্দ দ্বারা ইংরাজদিগের বাণিজ্যের অনেক সুবিধা হইল এবং কলিকাতার সমৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। মুরশিদ কুলি খী বাঙ্গালার রাজস্বের যে নূতন হিসাব প্রস্তুত করেন (১৭২২ খৃ: ),তদ্বারা বাৰ্ষিক রাজস্ব ১,৪২,৮৮,১৮৫ টাকা নিৰ্দ্ধারিত হয়। তিনি বঙ্গভূমিকে ১৩ চাকলা, ৩৪ সরকার ও ১৬৬. পরগণায় ৰিভক্ত করিয়াছিলেন । সুবাদার জমিদার দিগের নিকট এবং জমিদারের প্রজাদিগের নিকট হইতে টাকা XVII > b 8 [ 849 ) বঙ্গদেশ ( মোগলশাসন ) আদায় করিতেন ; রাজস্ব-সংগ্রহের জন্ত মুরশিদ জমিদারদিগকে অনেক কষ্ট দিতেন । র্তাহার বৈকুণ্ঠের কথা কাহারও অবিদিত নাই। রাজশ্ববিভাগের কৰ্ম্মচারিগণ প্রায় সকলেই হিন্দু ছিলেন। মুরশিদ কুলি খান এমন প্রতাপাস্থিত হইয়াছিলেন যে ত্রিপুর, আসাম, কোচবেহার ও বিষ্ণুপুরের স্বাধীন রাজারাও র্তাহার নিকটে উপঢৌকন পাঠাইতেন । [ মুর্শিদ কুলি খা দেখ । ] २१२४ ५: श्रएक ऊँशिंद्र भृङ्गा नभग्न डिनि शैग्न cमोश्णि সরফরাজ খাকে বাঙ্গালার প্রতিনিধিত্বে উত্তরাধিকারী বলিয়া যান। ঐ সময়ে সরফরাজ খাঁর পিতা নবাব মোতিমন উল মুলক স্বজা উদ্দীন মহম্মদ খান মুজউদৌল আহ্মদ জঙ্গ বাহাদুর মুরশিদকুলি থার অধীনে উড়িষ্যার শাসনকার্য্যে নিযুক্ত ছিলেন ; তিনি সম্রাট মহম্মদ শাহের নিকট হইতে গোপনে বাঙ্গাল ও উড়িষ্যার শাসনাধিকাৰ হস্তগত করিতে চেষ্ট পান। মুরশিদ কুলি খণর মৃত্যু হইলে তিনিই প্রথমে তৎপদ অধিকার করেন এবং পুত্র সরফরাজ খাকে বাঙ্গালার দেওয়ানী পদে রাখিয়া তাহার ক্রোধ শাস্তি করিলেন । এই সময়ে বাদশাহ নসরৎ থাকে বেহারের শাসনভার প্রদান করেন। তদনন্তর তিনি তৎপদে ফখর উদ্দৌলা নামক এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করিয়াছিলেন। রাজস্ব বন্ধ করা দোষে যে সকল জমিদার কারারুদ্ধ হইয়াছিলেন, দয়াপরবশ মুজা তাহাদিগকে মুক্তি দেন এবং আলমৰ্চাদ নামক একজন হিন্দুকে সহকারী দেওয়ান করিয়া তাহার জন্ত দিল্লী তইতে রায়-রায়া’ উপাধি আনান। আলমৰ্চাদ, জগৎশেঠ এবং হাজি আঙ্গদ ও আলিবর্দী পান নামক দুইজন আত্মীয়, এই চারি জন লইয়া সুজা একটি মন্ত্রিসভা গঠিত করেন। তিনি ঐ সভার পরামর্শ গ্রহণপূর্বক রাজকাৰ্য্য নিৰ্ব্বাহ করিতেন । এই সকল কারণে নবাব সুজা প্রথমে হিন্দুদিগের বিশেষ ভক্তিভাজন ছিলেন। মুরশিদ কুলীর দোদও প্রতাপে বাঙ্গালী সশঙ্কিত ছিল। তখন বাঙ্গালার সৈন্তসংখ্যা অনেক কম ছিল । সুজা বাঙ্গালার সৈন্তসংখ্যা বৃদ্ধি করেন ; এতদ্ভিন্ন তিনি অন্তান্ত জাকজমকেও মত্ত ছিলেন। তিনি মুরশিদ কুলি থার স্তায় নিয়মিতরূপে দিল্লীতে রাজস্ব পাঠাইতেন। বৃথা আড়ম্বরপ্রিয়তায় তাহার ব্যয় অত্যন্ত বাড়িয়া যায়। এই নিমিত্ত তিনি নির্দিষ্ট রাজস্বের অতিরিক্ত আবওয়াৰ নামক কব সংগ্ৰহ করিতে বাধ্য হন। আবওয়াৰ তাহার সময়ে প্রায় ২২ লক্ষ হইয় উঠে। আলিবন্দী ও মীরকাশিমের শাসনকালে উহা ক্রমশঃ পরিবৰ্দ্ধিত হইতে থাকে। যখন কোম্পানি বাহাদুর স্বহস্তে বাঙ্গালার দেওয়ানী গ্রহণ করেন (১৭৬৫ খৃঃ), তখন ৰাঙ্গালার মোট রাজস্ব আড়াই কোটিরও श्रशिक श्शि ।