পাতা:বিশ্বকোষ একাদশ খণ্ড.djvu/৩০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাশ্বনাথ r এমন সময় একজন লোক আসিয়া তাহাকে নমস্কার করিয়া বিণীতভাবে বলিতে লাগিল, “দেব ! সৰ্ব্ববিধ সমুদ্ধিসম্পন্ন সুরমা হৰ্ম্মশালী কুশস্থল নামে একট পরম রমণীয় নগর আছে। তথtয় নরব" নামে একজন নৃপতি আছেন, তিনি তেজস্বিতীয় মধ্যাহাকালীন প্রভাকরের স্তায় সৰ্ব্বোপরি বিরাজমান। তিনি ধৰ্ম্মের প্রবর্তক বলিয়। মাশ্রম সমুদায়ের গুরু, সৰ্ব্বদাই ঞ্জিনধৰ্ম্মে রত এবং নীতিপূর্বক রাজ্যশাসনে তৎপর, তাহার সত্যবাদিত ও সাধুশুশ্রীষণ জগদ্বিখ্যাত, সম্প্রতি তিনি রাজ্যভার পরিত্যাগ করিয়া প্রবজ্য অবলম্বন করিয়াছেন । র্তাহার পুত্র প্রসেনজিৎ এক্ষণে রাজা হুইয়াছেন। রাজা প্রসেনজিৎও একজন পরমদয়ালু ও ধাৰ্ম্মিক। র্তাহার তনয়ার নাম প্রভাবতী। প্রভাবতী সম্প্রতি যুবতী হইয়া সত্য সত্যই প্রভাবতী হইয়াছেন। তাহার রূপে ও গুণে জাগতিক সমস্ত ऊं९ङ्कहे दक्षहे श्रृंब्राउ ट्हेग्रोप्छ् । “সেই ত্রিভুবনন্বন্দরী প্রভাবতী একদিন সখীদিগের সহিত রমণীয় উদ্যানমধ্যে ভ্রমণ করিতেছিলেন। এমন সময় কিল্লরীগণ সঙ্গীতপ্রসঙ্গে পাশ্বনাথের রূপগুণের উল্লেখ করিয়া যথেষ্ট প্রশংসা করিল এবং বলিল, এই জগতে পাশ্বনাথ যে রমণীর পাণিগ্রহণ করিবেন, সেই রমণী রমণীকুলের শিরোমণি হইবে । প্রভাবতী ঐ কথা শুনিবামাত্র তৎক্ষণাৎ পাশ্বনাথে মন প্রাণ অর্পণ করিলেন। প্রভাবতী তদবধি লজ্জা ভয় ত্যাগ করিয়া তদেকতানমনে সততই পাশ্বনাথকে ধ্যান করিতে লাগিলেন এবং নামসম্বলিত গান শুনিতে লাগিলেন ।

  • প্রভাবতী দিন দিন কুসুমধমুর কুমুমশরে আহত হইয়া নিতান্ত অধীর হইয়া পড়িলেন। সখীগণ প্রভাবতীর মদনতাপ দুর করিবার জন্তু চন্দনাদি নানাবিধ শীতল বস্তু আনিয়া প্রভাবতীর গাত্রে লেপন করিতে লাগিল এবং রাজা ও রাণীর নিকট প্রভtবতী সম্বন্ধীয় সমুদায় বৃত্তান্ত নিবেদন করিল। রাজা এবং রাণী এই কথা শুনিবামাত্র নিতান্ত সন্তুষ্ট হইলেন এবং বলিতে লাগিলেন, ভালই হইয়াছে, আমাদের কল্প প্রভাবতী আজ অনুরূপ বরেই অনুরাগিণী হইয়াছে। সত্য সত্যই এই ত্রিভুবনে পাশ্বনাথের স্থায় যোগ্য বর আর নাই । রাজা প্রসেনজিৎ এই কথা কহিয়া কন্সার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া দেখিলেন, কস্ত প্রভাবর্তী পাশ্বনাথের চিন্তায় বড়ই বিধুর হইয়াছে। তখন তিনি নিশ্চয় করিলেন, শীঘ্রই আমি প্রভাবতীকে পাশ্বনাথের উদ্দেশে স্বয়ম্বরে প্রেরণ করিব । রাজা এইরূপ নিশ্চয় করিতেছেন, ইতিমধ্যে কলিঙ্গদেশের অধিপতি যবননামক একজন উদ্ধত প্রকৃতির রাজা প্রসেনজিতের অভিপ্রায় বুঝিতে পারিয়া ক্রুদ্ধ হইয়া বলপূৰ্ব্বক প্রভাবতীকে হরণ করিবার নিমিত্ত বহুসংখ্যক

[ JDс о l J পাশ্বনাথ সৈন্যসহ সহল কুশস্থলপুরী অবরোধ করিয়াছে। এই বৃত্তাত্ত আপনার নিকট নিবেদন করিবার নিমিত্তই আমি প্রেরিত হইয়াছি, অতএব ইহা শুনিয়া আপনার যাহা অভিরুচি হয় করুন।” বারাণসীপতি অশ্বসেন এই কথা শুনিবামাত্র ক্রুদ্ধ হইলেন এবং বলিলেন, কোন চিন্তা নাই। আমি এক্ষণই সসৈন্তে কুশস্থলে যাত্রা করিয়া হ্রাত্মা যবনকে বিদূরিত করিব। এই বলিয়। রণভেরী বাজাইয়া সমুদায় সৈন্তসমিস্ত একত্র করিতেছেন, এমন সময় পুত্র পাশ্বনাথ ক্রীড়াগৃহ হইতে পিতার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিতে লাগিলেন, পিতঃ ! এই জগতে আপনার সমকক্ষ লোক কেহই নাই ; অতএব হঠাৎ আপনি কাহার প্রতি এরূপ ক্রুদ্ধ হইয়া যুদ্ধ করিতে উদ্যত হইলেন। রাজা অশ্বসেন পুত্রের নিকট সমুদায় ঘটনা বিবৃত করিলেন । পুত্র পাশ্বনাথ ইহা শুনিয়া নিজেই যুদ্ধে যাইবার জন্ত পিতার নিকট প্রার্থনা করিলেন । পিতা পুত্রের বাহুবল বুঝিতে পারিয়া যুদ্ধে যাইতে অমুমতি দিলেন। পাশ্বনাথ গজারূঢ় হইয় অশ্বারোহী গজারোহী প্রভৃতি ভূপালবৰ্গ এবং নানাবিধ সৈন্তসমুহ সমভিব্যাহারে কুশস্থলে যাত্রা করিলেন। কুশস্থলে উপস্থিত হইবামাত্ৰ সৰ্ব্বাগ্রে দূত পাঠাইয়া যবনরাজকে কুশস্থল হইতে চলিয়া যাইতে আদেশ করিলেন। ঘবন প্রথমে-দূতের কথা উপহাস করিয়া উড়াইয়া দিল এবং পাশ্বনাথের নাম শুনিয়া নানাবিধ দৰ্পকথা প্রয়োগ করিল। পরে বৃদ্ধমন্ত্রীর মুথে পাশ্বনাথের মাহাত্ম্যকথা শুনিতে পাইয়া শশব্যস্তে র্তাহার নিকট উপস্থিত হইল এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করিয়া পাশ্বনাথের নানা প্রকার স্তব করিল। পাশ্বনাথ তুষ্ট হইয়া তাহাকে বলিলেন, তুমি এ স্থান হইতে চলিয়া যাও, এইরূপ কাৰ্য আর কখন করিও না । এই কথা বলিয়া সৎকার করিয়া যবনকে বিদায় দিলেন । রাজা প্রসেনজিৎ এই বৃত্তান্ত অবগত হইয়া মনে মনে পাশ্বনাথকে যথেষ্ট প্রশংসা করিলেন এবং মন্ত্রীসহ তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া স্বীয় কষ্ট প্রভাবতীর পাণিগ্রহণ করিবার নিমিত্ত পাশ্বনাথকে অনুরোধ করিলেন। পাশ্বনাথ পিতার আজ্ঞা ভিন্ন পাণিগ্রহণে অসন্মত হইলে প্রসেনজিৎ কল্প। প্রভাবতীকে সঙ্গে লইয়া পাশ্বনাথের সহিত কাশী যাইত্তে মনন করিলেন । পাশ্বনাথও অগ্রে অগ্রে সৈন্তসমবায় প্রেরণ করিয়া কুশস্থলপতি প্রসেনজিতের সহিত স্বীয় পুরী বারাণসীধামে উপস্থিত হইলেন । বারাণসীপতি অশ্বসেন পুত্রের আগমনে অতিশয় সত্ত্বই হইলেন এবং পুত্র পাশ্বনাথকে ও তৎসমভিব্যাহারী রাজা প্রসেনজিৎকে কুশলপ্রশ্নে সম্ভাষণ করিলেন। পরে প্রসেন