পাতা:বিশ্বকোষ দশম খণ্ড.djvu/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিম [ ১৩৮ ] * নিম বৃক্ষ হইতে নিমবৃক্ষের এ বিষয়ে গুণ অধিক কি না তাহাতে সন্দেহ আছে। তথাকার লোকের বিশ্বাস যে নিমগাছের গরমীর পীড়া মিলারণের বিশেষ ক্ষমতা আছে। নিমের ডাল দিয়া বাতাস করিলে গরম আরোগ হয়। ইহার এরূপ আশ্চৰ্য্য গুণ থাকায়, ভারতীয় ও যুরোপীয় চিকিৎসকগণ ইহার অনেক ব্যবহার করেন এবং ভারতীয় ঔষধপ্রস্তুতকরণ গ্রন্থে ইহার সন্নিবেশ করিয়াছেন । নিমের ছাল ও পাতা সম্বন্ধে ডাঃ ফ্লকিজার এবং ডাঃ হানবুরি সাহেব যাহা বলিয়াছেন তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ مسيسية: ) نوع م) ১৮৫৬ খৃষ্টাঙ্গে কৰ্ণিম্ সাহেব নিমছাল পরীক্ষা করিয়া বলেন যে, ইহাতে যথেষ্ট ক্ষার পদার্থ আছে । সেই ক্ষার পদার্থকে তিনি ‘মায়গোসাইন’ নাম দিয়াছেন। তিনি অতি অল্প পরিমাণে সাদা লম্বা লম্ব আকৃতিবিশিষ্ট ক্ষার বহির্গত করিয়াছিলেন। পরীক্ষা দ্বারা দেখা গেল যে, ইহাতে মারগোসাইন এবং সোডা আছে । বিভিন্ন লোকের মত ।—অখচিকিৎসায় নিমতৈল ঘায়ের একট উৎকৃষ্ট ঔষধ। নিমতৈলে উকুন নষ্ট করে। এতদ্ব্যতীত ইহা আমবাত এবং পাম। রোগে ফলপ্রদ । হাপানি কাশে ও ণেচনী, মূৰ্চ্চ প্রভৃতিতে নিমতৈল আন্তরিক প্রয়োগ হইয়৷ থাকে, যাহা প্রয়োগে ইহা তাপিণতৈলের স্যায় কাৰ্য্য করে। বসন্তরোগে নিমতৈল গাত্রে মালিশ করিলে বিশেষ ফল দর্শে। কুকুরের গায়ে গোস উঠা ও পোক। নষ্টের নিমিত্ত ইহা অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ । নিমপাতা বাটিয়া স্তনোপরি প্রয়োগ করিলে দুগ্ধক্ষরণ নিধারণ করে । ক্ষতরোগে অস্ত্যা ঔষধে উপকার না পশিলে ও নিমপাতায় বেশ ফল দশে। চৰ্ম্মরোগে ইহা বিশেষ উপকারী। নিমপাত ঘুতে ভাজিয়া মোমের সহিত মিশ্রিত করিলে ঘায়ের অতি উৎকৃষ্ট মঞ্চম প্রস্বত হয় । ভাঞ্জা নিমপাতা পিত্তনাশক বলিয়া অনেক সময় লোক থাইয়া থাকে । নিমের ছাল পোড়াইয়। সেই ভষ্ম পামারোগে ব্যবহৃত হয় । ছালের কপি মাথাধরারোগে উপকারী । নিমের সরু ডালে দস্তু ধাবন করিলে শরীরে রোগ হইতে পারে না, এবং পবিষ্কার ও গন্ধবিহীন হয় । এদেশে এমন বিশ্বাস আছে যে, এক ক্রমে স্বাদশ বৎসর কাল নিম বৃক্ষের তলায় শয়ন করিলে কুণ্ঠবাধি পৰ্য্যন্ত আরোগা হয় । লাহোরের সিভিল সার্জন আর গ্রে বলিয়াছেন যে, কোন কোন পুরাতন নিম গাছ হইতে এক প্রকার সাদা রস নির্গত হয়। এই রস অতি উৎকৃষ্ট রক্তপরিষ্কারক ও বলকারক । নিমত্রণ ফোড়া প্রভৃতিতে কিছু বেশী ব্যবহৃত হয়। নিমপাতাভস্ম স্কৃতসহ বক্ষাবরক ক্ষতরোগে বাহ প্রয়োগ করা হইয়া থাকে। প্রানার্থে অনেকে নিমপাতাসিদ্ধ জল ব্যবহার করিয়া থাকেন। ইহাতে জল বিশুদ্ধ হয়। নিমপাতার ঝোল ও বেগুণের সহিত নিমপাত চড়চড়ী রক্ত পরিষ্কারের জন্ত অনেকে খাইয়া থাকে । শিশুদিগকেও সময় সময় নিমপাত খাওয়ান হয় । নিমকাঠের বাকলের রং ধূসর বর্ণ। সারাংশের বর্ণ লাল । নিমকাঠ অতি দৃঢ় এবং মুন্দর। এই কাঠে প্রায়ই পোক৷ ধরিতে পায় না । ইহাতে গাড়ী ও কৃষিকার্যোর যন্ত্র নিৰ্ম্মিত হয়। ভারতের দক্ষিণাংশে ইহাতে গৃহের আসবাব প্রস্তুত হয়। সিন্ধুদেশের স্ত্রীলোকের গন্ধের নিমিত্ত এবং উকুন মারিবার জন্ত নিমতৈল ব্যবহার করিয়া থাকে । কাপড় কাগজ পুস্তকাদি পোকায় কাটিতে ন পারে, এই নিমিত্ত নিমপাত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় ; কিন্তু এই পাতা মধ্যে মধ্যে পরিবর্তন করিয়া আবার নূতন পাতা দিতে হয়। এ বিষয়ে ইহারা প্রায় কপূর অথবা স্তাপূপালিনের সমতুল্য। ইহার উষ্ণ গন্ধে উই বা অদ্যাস্ত কাটাদি পুস্তক কাটিতে পারে না । হিন্দুরা নিম গাছকে বেলগাছ প্রভৃতির ন্তায় পবিত্র বৃক্ষ বলিয়া মান্য করে । তাহদের বিশ্বাস, যখন পৃথিবী হইতে দেবগণের ব্যবহারার্থ স্বর্গে অযুত লইয়া যাওয়া হয়, তখন কএক ফেঁাটা নিম গাছের উপর পড়িয়াছিল । এই নিমিত্ত শকের প্রথম দিনে তাহারা নিমপাতা ভক্ষণ করিয়া থাকে । তাহার উদেহু এই যে, এইরূপ ভক্ষণে তাহার আর কোন রোগ হইবে না। বুকান সাহেব তাহার মহিমুরভ্রমণবৃত্তান্তের মধ্যে লিথিয়াছেন যে, ২৩ বৎসর অন্তর কোন গ্রামের লোক একত্র হইয়া একটা পিস্তলের পাত্রে পাঁচটী ডাল এবং একটা নারিকেল স্থাপিত করে । পরে ফুল, চন্দন ও গঙ্গাজল দ্বারা নিমের পূজা করিয়া থাকে। কোন অস্থায়ী মণ্ডপ মধ্যে ইহা রাখিয়া তিন দিন পর্যন্ত পূজা করা হয় ; এই সময়ে শিবকস্তা "মরিয়া’র নিকট ছাগ, মেষ ও মহিষাদি বলিদান এবং আমোদপ্রমোদ, আহারাদিও যথেষ্ট হইয়া থাকে। অনন্তর ঐ পাত্রট ধরিয়া জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। বাঙ্গালী প্রভৃতি কোন কোন হিন্দুজাতি শবদহিনাস্তে শোক প্রকাশ করিয়া তিক্তাস্বাদ নিমপাত মুখে দিয়া থাকে অথষা শবদাহের পর নিমপাত, খুড়ের দাল ও চিনি মুথে দিয়া অগ্নিস্পর্শদ্বারা ७६ ह्युम्न । আমাদের দেশের সাধারণ লোকের বিশ্বাস যে নিমের হাওয়া স্বাস্থ্যজনক এবং ইহা গৃহে থাকিলে পরিবার মধ্যে জরাদি হয় না। চলিত প্রবাদ এই ;–পনম নিশিনা যেখানে,