পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৭১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অহিফেন [ ৬৯০ ] অহিফেন উত্তম রূপ ঘন হইতে কমবেশী এক মাস লাগে। তাহার পর সমস্ত আফিম কুড়াইয়া মাটীর পাত্রে রাখিয়া দের। আফিম প্রস্তুত হইলে কৃষকেরা তাহা গভর্ণমেণ্টের গুদামে আনিয়া দেয়। আফিম ওজন করা হইলে কুলির তাহা একটা চৌবাচ্ছার ভিতরে জমা করিয়া রাখে। তাহার পর কুলার বারকোসের উপরে আফিম চট কাইয়া তাল বাধে। সেই তালের উপরে আফিমের পাতার রুট ঢাকা দিয়া তাহাতে লেওয়া মাথাইয়া দেয়। লেওয়া আটার মত। নিকৃষ্ট আফিম দিয়া ইহ। প্রস্তুত করিতে হয়। পাতার রুট ঢাকা দেওয়া হইলে ঐ সকল তাল টিন পাত্রে রাখিয়া দেয়। ঐ টিন পাত্রের নাম তগর। তগরগুলি র্যাকের উপরে তোলা থাকে। সেই খানে বালকেরা উহ নাড়া-চাড়া করে, তাহাতে আফিম ক্রমে বায়ুতে শুকাইয়া যায়। ভারতবর্ষে, চীনে, ব্রহ্মদেশে এবং মলক্কাতে কঁাচা আফিম এবং পাক করা চণ্ডু ও গুলি খাইবার জন্য লোকে ইহা ক্রয় করে । ইউরোপে আফিম হইতে ঔষধ প্রস্তুত করা হয়। ভারতবর্ষের অনেক স্থানের লোক পোস্তের বীজে বড় করিয়া থায় । আফিম বাহির করা হইলে চেড়ী শুকাইয়া যায়। তখন পশ্চিম দেশের দরিদ্র বালকের তাহা হইতে বীজ বাহির করিয়া কাচাই খাইয় থাকে। পোস্তের ঢেঁড়ী জলে সিদ্ধ করিয়া সেই জলে বেদন স্থানে স্বেদ দিলে যন্ত্রণার লাঘব হইয়া থাকে। আফিম দেখিতে কটাবর্ণ। গ্রীষ্মকালে কঠিন হয়, বর্ষাকালে অপেক্ষাকৃত পাতলা ও চটচটে হয়। ইহা তিক্ত ও এক প্রকার বিশেষ গন্ধযুক্ত। ইহা অগ্নিতে দগ্ধ হয়। জল, স্বরা এবং জলমিশ্র দ্রাবক দ্বারা ইহার ধৰ্ম্ম গৃহীত হইয়া থাকে। লিটমস্ কাগজে ইহার জলীয় দ্রাবক লাগাইলে আরক্তিম বর্ণ হয়। আফিমে যে কয়েকটী পদার্থ অাছে তাহীদের বিবরণ এই,— ১। আফিমে মেকোনিক এসিড নামে এক প্রকার অল্প আছে। ঐ অন্ন পাতলা, দানাযুক্ত, আঁইসের স্তার এবং মুক্তার মত শুভ্র স্বচ্ছবর্ণ। উহা জলে গলিয়া যায়। লৌহ ঘটিত পার্সান্টের সঙ্গে উহা মিশাইলে রক্তবর্ণ হয়। চুণ, বেরাইট, লৌহ এবং সাঁস ধাতুর সঙ্গে মিশাইলে এক প্রকার লৰণ প্রস্তুত হয়, তাহা জলে গলিয়া যায় মা । ২ । আফিমের প্রধান বীৰ্য্যের নাম মফিয়া । ইহা শ্বেতবর্ণ এবং ইহার জন্তাই আফিম থাইলে নেসা হয়। ৩। অন্ত একটা বীৰ্য্যের নাম কোডাইরী । ইহা চতুঃপ্রদেশ বা অষ্টপ্রদেশ দানাযুক্ত। সুরা, ইথর এবং ফুটিত জলে মিশাইলে ইহা গলিয়া যায়। ৪ । আর একটা বীৰ্য্যের নাম পেপেবেরিন । ইহা স্থচের মত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানাযুক্ত ; গন্ধক দ্রাবকের সঙ্গে মিশাইলে নীলবর্ণ হয় । ৫। থিবাইয়া বা ব্যারেমফিয়া আর একটা বীৰ্য্য। ইহ চেপ্টা ও চতুষ্কোণ দানাযুক্ত, দেখিতে রূপার ন্যায় উজ্জ্বল । ৬। নার্কোটন, আফিমের সমক্ষায়াম লবণ। {ইং। তিন প্রদেশ যুক্ত, উজ্জ্বল এবং সুর, ইথর ও দ্রাবকে গলিয়া যায়। এতদ্ভিন্ন, নার্সিয়া, মেকোনাইন প্রভৃতি আরও কয়েকটী পদার্থ আছে। উত্তম আফিমে শতকরা ৪—৮ মেকোনিক এসিড আছে ; ৪—১২ মফিয়া ; ১ অংশের কম কোডিয়া ; থিবাইয়। ঐ ; পেপেধারিন ঐ ; ৬—১০ নার্কোটন ; ৬—১৩ নাসির ; ৪—৬ কোচেক ; ২–৪ গদ ; অন্তান্ত পদার্থ ৪০–৫০ পর্য্যন্ত । আফিম মস্তিষ্কের উত্তেজক ; মাদক ; নিদ্রাকারক ; ধারক ; স্বেদজনক ; বেদনা নিবারক ; স্পৰ্শহীরক এবং পর্য্যায় নিবারক । ইহার ক্রিয়া মস্তিষ্কেই অধিক প্রকাশ পায়। আর আর ঔষধের অভাবে অন্ত কোন দ্রব্য ব্যবস্থা করা যাইতে পারে, কিন্তু আফিমের সদৃশ দ্বিতীয় পদার্থ আর নাই। শিশু এবং স্ত্রীলোকদের পক্ষে আফিম ঘটিত ঔষধ তেমন প্রশস্ত নহে। নিতান্ত আবশুক হইলে অতি সাবধানে প্রয়োগ করিবে। কিন্তু শিশুদিগকে ইহ। প্রয়োগ করা অবিধেয়। শিশুদের কোমল শরীরে আফিম ঘটিত ঔষধ দ্বারা মর্দন করিলেও বিষক্রিয়া করিতে পারে। আফিম খাইলে কোন কোন যন্ত্রে কিরূপ ক্রিয়া প্রকাশ পায় নিয়ে তাহার বিবরণ লিখিত হইতেছে,— স্নায়ুমণ্ডল –পূর্ণমাত্রায় আফিম থাইলে ১০। ১৫ মিনিট পরে প্রথমে মাথায় একটু ভার বোধ হর। তাহার পর শরীর সুস্থ ও সবল এবং প্রফুল্ল হইয় উঠে। মুখ অল্প শুকাইতে থাকে। ক্রমে মুখমণ্ডল অল্প উজ্জল ও কনীনিক কুঞ্চিত হয়। কিছুক্ষণ পরে এই রূপ উত্তেজনা কমিয়া যায়, তখন মুনিদ্রা জালে। ৮। ১০