পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রোম-সাম্রাজ্য জীয় জন নিজসূতগণের সাহত রেগুলাসকে রোমে পাঠাইল এবং কহিল, যদি তিনি সন্ধিস্থাপন করিতে না পারেন, তবে তিনি পুনরার কার্থেজের কারালে ফিরিঙ্গ আসিবেন । মির্তীক রেগুলাস সন্মত হইলেন। রেগুলাস বন্দী হইয়াছেন বলিঙ্গ প্রথমে রোমক নগর প্রাচীরের অভ্যন্তরে বাইতে ইচ্ছা করেন মাই। বীরপ্তদয় রেগুলাসৰে ফিন্ধিয়া পাইবার জন্ত রোমক cসনেট কার্থেজীয়দিগের সহিত সন্ধিবৰ্জ্জুনে সন্মত হইলেন। কিন্তু রেগুলাস উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, “আমাকে পাইৰার জন্ত সদ্ধি করিয়া রোমের গোরব নষ্ট করবেন না, রোমের গৌরবেই আমার গৌরব।” সেনেটের সভ্যগণ রেগুলাসকে কার্ধেজে ফিরিয়া যাইতে নিষেধ করিলেন এবং সহস্ৰ সহস্ৰ লোকে কহিল, “বিদেশে বলপূৰ্ব্বক গৃহীতের শপথপালন না করিলে পাপ হয়না।” কিন্তু সত্যসন্ধ স্বদেশবৎসল রেগুলা নিজের অমানুষিক দুর্দশ জানিয়াও অবিচলত ভাবে কাথেজে গমন করিলেন। কার্থেজায়গণ বিরক্ত হইয় তাহাকে নৃশংসভাবে নিহত করিল। প্রথমে চক্ষের পাত কাটয় তাহাকে ভীষণ রৌদ্রে ফেলির রাথিত। পরে একটা বাক্সে শত শত তীক্ষুমুখস্থচ বিদ্ধ করিয়া র্তাহাকে তাহার ভিতরে প্রবেশ করাইত। স্বদেশবৎসল রেগুলাস্ অম্লানবদনে এই নিষ্ঠুর নির্য্যাতন সহ করিয়া প্রাণ হারাইলেন। এই নিষ্ঠুরতার বীভৎস কাহিনী শুনিয়া রোমকগণ কার্থেজের ধ্বংস সাধনে কৃতসঙ্কল্প হইল এবং অবিলম্বে সসৈন্তে সিসিলির অন্তর্গত কাথেজীয় নগর লিলিবিয়াম্ অবরোধ করিল। অদ্যদিকে রোমক কন্সল ক্লডিয়াস জলপথে ড্রেপানান নামক স্থানে কার্থেজীয় রণতরী আক্রমণ করিলেন। প্রথম যুদ্ধে রোমক সৈন্ত জয়লাভ করলেও জলযুদ্ধে ক্লডিয়াসের নির্বন্ধিতায় রোমকসৈন্ত পরাজিতপ্রায় হইল। আটিনিয়াস কালাটিনাস্ তাহার পরিবর্তে রোমক কন্সল নিযুক্ত হইলেন। অন্যতর কন্সল সি জুনিয়া ১০০টা রণতরী লইয়া লিলিবিয়ামে রোমকসৈম্ভের সাহায্যার্থ গমন করিতেছিলেন। পথিমধ্যে ভীষণ ঋটকায় রণতরী সমূহ বিধ্বস্ত হইল। কেবল ছুইখানি জাহাজ বৃক্ষ পাইয়াছিল। এই প্রকার দৈবচুৰ্ব্বিপাকে ৩ বার রোমক- | রণতরীসমূহ নষ্ট হয়। তখন রোমকগণ জলযুদ্ধ-সঙ্কল্প পরিত্যাগ করিয়া স্বগযুদ্ধে মনোনিৰেশ করিল। এই সময়ে কার্থেজে একজন বীরপুরুষের আবির্ভাব হইল। ইহার নাম হামিলকার বার্ক। ইনিই ইতিহাসপ্রসিদ্ধ হানিবলের জনক। ২৪৭ খৃঃ পূঃ, যখন তিনি মিলিলিতে কার্থেজীয় সৈম্ভের সেনাপতি হুইয়া গমন করিলেন, তখন তিনি অতি তরুণ বয়স্ক । তিনি সোজাসুজি যুদ্ধক্ষেত্রে না যাইয়া হার্কটে ৰামক পৰ্ব্বতের পাদদেশ দিয়া সৈন্তচালনা করিলেন। এইস্থানে [ ३२ ] রোম-সাম্রাজ্য তিনি এমন কৃহরচনা করিয়া ৰৎসরকাল অবস্থান করি, লেন যে, শক্রমিত্ৰ সকলেই সেই অদ্ভুত কৌশলে ৰিস্থিত হইয়গেল। এই স্বরক্ষিত ব্যুহ হইতে তিনি ক্রমে ক্রমে রোমকসৈম্ভের অভিমুখে ধাবিত হইলেন। রোমক সৈন্ত র্তাহাকে বাধা দিতে পারিল না। হামিলকার অগ্রসর হইলেন এবং ড্রেপানামের নিকটবৰ্ত্তা এরিন্স নামক স্বরক্ষিত পাৰ্ব্বত্যনগর অধিকার করিলেন। কুইবৎসর অক্লাশু চেষ্টায় রোমক-সৈন্ত ছামিলকারকে এক পদও বিচলিত করিতে পারিল না। রোমকগণ এক্ষণে বুঝিতে পারিলেন যে, জলযুদ্ধে প্রাধান্ত লাভ না কল্পিতে পারিলে তাহার কার্থেজের সহিত প্রতিযোগিতা করিতে পারিবেন না। ২৪২ খৃঃ পূঃ কন্সল লুটাটিয়াস্ কেটা, ২০• রণতরী লইয়া যুদ্ধযাত্রা করিলেন। হানে। নামক সেনাপতি কার্থেজীয় রণতরীর অধ্যক্ষ ছিলেন। ইগেটস নামক দ্বীপের নিকটবঙ্গ যুদ্ধে রোমকগণ জয়লাভ করিলেন। এই যুদ্ধে রোমকগণ সৰ্ব্ববিষয়ে সুবিধা প্রাপ্ত হইলেন । কারণ জলপথ বন্ধ করিতে পারিলে কার্থেজ হইতে আর কোন সাহায্য আসিতে পরিবে না, অগত্যা হামিলকারকে সসৈন্তে অনাহারে প্রাণত্যাগ করিতে হইবে। কার্থেজীয়গণ নিরুপায় হইয়া হামিগকারকে রোমের সহিত সন্ধি করিতে পত্র লিখিল। ২৪১ খৃঃ পূঃ সন্ধি স্থাপিত হইল। তস্থার কার্থেজীয়গণ সিসিলির প্রভুত্ব এবং নিকটবর্তী দ্বীপপুঞ্জের আধিপত্য পরিত্যাগ করিলেন। তাহারা যুদ্ধে ধৃত বনিগণকে ফিরাইয়া দিলেন এবং প্রস্তাব হইল যে, কার্থেজ ১০ বৎসরের মধ্যে রোমকে ৩২•• তেল স্বর্ণ ক্ষতিপূরণ স্বরূপ প্রদান করিবেন। কর্সিকা ও সার্ডিনিয়া রোমের অধিকারভুক্ত হইল । রোমের সেনেট কি প্রকারে সিসিলি শাসিত হইবে, তাহার উপায়চিন্তু করিতে লাগিলেন। রোমের সহিত এক শাসনপ্রণালীতে সিসিলি শাসন অসম্ভব বলিয়া তাহারা সিসিলিতে সম্পূর্ণ নুতন শাসনপ্রণালী স্থাপন করিলেন। রোম হইতে প্রতি বৎসরে নির্বাচিত একজন শাসনকর্ত। স্বারা সিসিলির শাসনকা । চলিতে লাগিল। এইরূপে রোমসাম্রাজ্যের প্রথম ভিত্ত্বিশিলার পত্তন হইল। এদিকে হামিলকার স্বদেশে প্রত্যাগত হইয়া প্রতিশোধ লইবার জন্ত বল পরিপুষ্ট এবং স্পেন দেশে এক বিপুল সাম্রাজ্যপ্রতিষ্ঠার আয়োজন করিতে লাগিলেন । ৰছকাল পরে রোমে শাস্তি বিরাজ করিতে লাগিল। কুমার সময় হইতে এতদিন রণদেবতা জেনাসের মন্দিরজার খোল ছিল । রোমের ইতিহাসে দ্বিতীয় বার এই মন্দিরের স্বার রুদ্ধ হইল। কিন্তু অধিক দিন । থাকিল না। রণভেরীর উন্মাদ আহবানে আবার অনতিবিলঙ্কে