পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নক্ষত্ৰলোক জিনিসই ছিল গ্যাস। কোটি কোটি বছর ধরে কালে কালে তা ঠাণ্ড হচ্ছে । তাপ কমতে কমতে গ্যাস থেকে ছোটো ছোটো টুকরে। ঘন হয়ে ভেঙে পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক কণা তারার আকারে জোট বেঁধে নীহারিক গড়ে তুলছে । যুরোপীয় ভাষায় এদের বলে নেবুলা, বহুবচনে নেবুলে । আমাদের সূর্য আছে এই রকম একটি নীহারিকার অন্তর্গত হয়ে । আমেরিকার পর্বতচূড়ায় বসানো হয়েছে মস্ত বড়ে৷ এক তৃরবীন, তার ভিতর দিয়ে খুব বড়ো এক নীহারিকা দেখা গেছে । সে আছে অ্যাণ্ডোমীড নামধারী নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যে । ঐ নীহারিকার আকার অনেকটা গাড়ির চাকার মতো । সেই চাকা ঘুরছে। একপাক ঘোর শেষ করতে তার লাগে প্রায় ঢুকোটি বছর। নয় লাখ বছর লাগে এর কাছ থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছতে। আমাদের সবচেয়ে কাছের যে তারা, যাকে আমাদের তারা-পাড়ার পড়শি বললে চলে, সংখ্যা সাজিয়ে তার দূরত্ব বোঝাবার চেষ্টা করা বৃথা । সংখ্যা-বাধা যে পরিমাণ দূরত্ব মোটামুটি আমাদের পক্ষে বোঝা সহজ, তার সীমা পৃথিবীর গোলকটির মধ্যেই বদ্ধ, যাকে আমরা রেলগাড়ি দিয়ে মোটর দিয়ে স্টীমার দিয়ে চলতে চলতে মেপে যাই । পৃথিবী ছাড়িয়ে নক্ষত্র-বসতির সীমানা মাড়ালেই সংখ্যার ভাষাটাকে প্রলাপ 8ፃ