চতুর্বর্গের ফল বিচার
আসে, তার জন্যে ঢাকঢাক গুড়গুড় লাগে না। গুণ আরোপ করে, দোষ চাপা দিয়ে তবে ভক্তি আনতে হয়; বিগ্রহে যেমন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে, স্তবস্তুতি দিয়ে বাড়িয়ে না তুললে তার পুজো চলে না। এইজন্যে মা-বাপ সম্বন্ধে ছেলেপিলের যে স্বাভাবিক ভাব, তার নাম “ভক্তি” দিতে আমরা নারাজ। যাঁদের আত্মসম্ভ্রমবোধ আছে এমন কোন্ মা-বাপ ছেলেদের কাছে মেকি দেবতা সেজে থাকতে চান। পাকা বুদ্ধি বা উদার হৃদয়ের গুণে কোনো মা-বাপ যদি ছেলেদের শ্রদ্ধা পান, ভালোই; না পেলেই বা কী। নিজেদের দোষে না খোয়ালে, সব মা-বাপ নিশ্চয়ই ভালোবাসার অধিকারী। ভালোবাসায় যার কুলোয় না, ভালোবাসা কী সে তা জানে না।
এত কথার পর বলাই বাহুল্য আমরা যে প্রেমের কথা বলছিলাম, ভক্তির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
এবার আসল কথায় আসা যাক। যে স্বাভাবিক টানে যুবকযুবতী প্রজনার্থ পরস্পরকে চায়, তার নাম দেওয়া যাক প্রণয়। এই প্রণয়ের সহজ রাস্তায় সকারণে অকারণে মানুষ নানা বাধাবিঘ্ন এনে ফেলেছে,— সমাজের বিধিনিষেধ, দুই পক্ষের মা-বাপের ইচ্ছে অনিচ্ছে, টাকাকড়ি নিয়ে টানাটানি, আরও কত কী। ফলে, সমাজের মধ্যে স্বাভাবিক প্রণয় অনুসারে পরিণয় বড়ো একটা ঘটে না, বিয়ের পর যেটুকু প্রণয় গজায় তাই নিয়েই দম্পতিকে ঘর করতে হয়। প্রণয়ের স্বাভাবিক স্থান গৃহের মধ্যে, ওর স্বাভাবিক আয়ু গৃহস্থাশ্রমেই শেষ। স্বস্থানে ওকে না রাখলে এক পত্তন ফ্যাসাদের সৃষ্টি হয়; তার উপর ওকে ফেনিয়ে ফাঁপিয়ে ওর মধ্যে যা নেই তা আদায়ের চেষ্টা করলে, শরীর মনের স্বাস্থ্য তো নষ্ট হয়ই, তার উপর যেটা ছিল মাত্র ফ্যাসাদ সেটা সমস্যা হয়ে ওঠে।
১৬২