দরিদ্রনারায়ণের মোহভঙ্গ
রব উঠল—“বেটাদের যেমন বুদ্ধি ভোঁতা, তেমনি নজর ছোটো, খালি নিজেদের খুচরো এটা ওটা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, দেশহিতৈষণা কাকে বলে তা জানেও না; দেশের এত বড়ো লাভের সম্পত্তি জংলী প্রজারা কি না বেকায়দা আটকে রাখতে চায়।”
ফলে প্রজাদের স্বত্ব ছুটে গেল, জঙ্গল সব বেঁটে দেওয়া হল জমিদারদের মধ্যে। সে বেচারীদের তো সদাই খাঁক্তি, বাড়িটা গাড়িটা আসবাবটা-আসটা পুরোপুরি না রাখলে মানই থাকে না, আরামটুকু তো পরের কথা। তাই, যেমন-তেমন করে জঙ্গল কাটলে আখেরে লোকসান, সে কথা জানা থাকলেও মস্ত মস্ত পুরোনো গাছের দাম, আবাদী জমির উপস্বত্ব, এ সব নগদ আদায় হাত পা গুটিয়ে ব’সে খোয়ানো কি তাদের প্রাণে সয়। পরের ভাবনা পরে যারা আসবে তারা ভাববে।
জঙ্গল কাটতে কাটতে গাদা-করা কাঠের দাম প’ড়ে গেল, আবাদ বাড়াতে বাড়াতে জলের দরে রাশ রাশ ফসল বাজারে ছাড়তে হল, তখন প্রভুরা ক্ষান্ত হলেন। কিন্তু তার মধ্যেই দেশের দফা হল নিকেশ, পড়ে গেল অনাবৃষ্টির পালা। প্রথমটা চার পাঁচ বছর অন্তর, শেষে তিন বছর দু’বছর অন্তর, দুর্বৎসর ঘনিয়ে আসতে লাগল।
ফসল অজন্মা বলে রাজা তো প্রজাকে ছাড়ে না—“চুক্তি অমান্য করা, তা কি হয়!”
ওদিকে স্বাধীনভাবে চাষের অধিকার পেতে যে-সেলামী লাগে তাই কুলোয় না, প্রজায় খাজনা দেবে কোত্থেকে, খাবেই বা কী। শেষে স্ত্রী ছেলেপিলে আত্মীয়বাড়ি রেখে, তারা দলে দলে মজুরি খাটতে বেরল।
অনেকে গেল শহরে। সেখানে দশ-জন-থাকা ঘরে বিশ-ত্রিশ-জন ঠাসাঠাসি করে থেকে রোগ বাধাল, রোগ ছড়াতে লাগল, কর্তারা
১৮