পাতা:বিষাদ-সিন্ধু - মীর মোশার্‌রফ হোসেন.pdf/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৫
মহরম পর্ব্ব—একবিংশ প্রবাহ

করিবে। তাহার উপায় কৌশল, সমুদয়ই কাসেদকে বিশেষরূপে বলিয়া দিলাম।”

 ওত্‌বে অলীদ বলিলেন, “আর বেশী বিস্তারের আবশ্যক নাই, শীঘ্র পত্র লিখিয়া কাসেদকে প্রেরণ করা কর্ত্তব্য।”

 লিখিবার উপকরণ লইয়া মারওয়ান লিখিতে বসিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ওত্‌বে অলীদ আবার বলিলেন, “একটি কথাও যেন ভুল না হয়, অথচ গোপন থাকে, এই ভাবে পত্র লেখা উচিত।”

 মারওয়ান পত্র লিখিতে লাগিলেন। এক জন সৈনিকপুরুষের সহিত এক জন কাসেদ আসিয়া যাথায়ীতি নমস্কার করিয়া করজোড়ে দণ্ডায়মান হইল। মারওয়ান পত্র রাখিয়া কাসেদকে গোপনে লইয়া গিয়া তাহাকে সমস্ত কথা বলিলেন। অনন্তর মারওয়ান পত্রখানি শেষ করিতে বসিলেন। কাসেদ করজোড়ে কহিতে লাগিল, “ঈশ্বরপ্রসাদে এই কার্য্য করিতে করিতেই আমি বৃদ্ধ হইয়াছি, যাহা বলিবেন, অবিকল তাহাই বলিব। কেবল শহরের নামটি আর একবার ভাল করিয়া বলুন, কুফার না কুফা?” মারওয়ান রীতি মত পত্র লেখা শেষ করিয়া কাসেদের হস্তে পত্র দিয়া বলিলেন, “কুফা”।

 কাসেদ বিদায় লইল। মারওয়ান এবং অলীদ উভয়ে নির্দ্দিষ্ট স্থানে গমন করিলেন।

একবিংশ প্রবাহ

 দিনরাত অবিশ্রান্ত পর্য্যটন করিয়া কয়েকদিন পরে মারওয়ান-প্রেরিত মদিনার কাসেদ দামেস্ক নগরে পৌঁছিল। এজিদ যথাসময়ে কাসেদের আগমন সংবাদ পাইলেন;—সভাভঙ্গ করিয়া কাসেদকে নির্জ্জনে লইয়া গিয়া সমুদয় অবস্থা শুনিলেন। মারওয়ানের পত্রপাঠে অনেক চিন্তা করিয়া মহারাজ এজিদ তৎক্ষণাৎ আবদুল্লাহ জেয়াদকে একখানি পত্র লিখিলেন। পত্র শেষ করিয়া কোষাধ্যক্ষের প্রতি আদেশ করিলেন,—তিন লক্ষ টাকা, তদুপযোগী বাহন এবং ঐ অর্থ রক্ষার্থে কয়েকজন সৈনিকপুরুষ, এই কাসেদ সমভিব্যাহারে