পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৫৭
১৫৭
বেতালপঞ্চবিংশতি

ধবলবর্ণ রাশীকৃত কি বস্তু দৃষ্ট হইতেছে। মিত্রাবসু কহিলেন মিত্র পূর্ব্বকালে গরুড়ের সহিত নাগগণের ঘোরতর যুদ্ধ হইয়াছিল। কিয়ৎ কাল পরে নাগেরা সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত হইয়া সন্ধিপ্রার্থনা করিলে গরুড় কহিলেন যদি তোমরা আমার আহারের নিমিত্ত প্রত্যহ এক এক নাগ উপহার দিতে পার তাহা হইলে আমি তোমাদের প্রার্থনায় সম্মত হই নতুবা অদ্যই ভক্ষণ করিয়া নাগলোক নিঃশেষ করিব। নিরুপায় নাগেরা তাহাতেই সম্মত হইয়া আপন আপন আলয়ে গমন করিল। তদবধি প্রতিদিন এক এক নাগ পাতাল হইতে আসিয়া ঐ স্থানে উপস্থিত থাকে গরুড় মধ্যাহ্নকালে আসিয়া ভক্ষণ করেন। এই রূপে ভক্ষিত নাগগণের অস্থি দ্বারা ঐ পর্ব্বাতাকার রাশি প্রস্তুত হইয়াছে।

শ্রবণমাত্র জীমূতবাহনের অন্তঃকরণ কারুণ্যরসে পরিপূর্ণ হইল। তখন তিনি মনে মনে বিবেচনা করিলেন মধ্যাহ্নকাল আগতপ্রায় অবশ্যই এক নাগ গরুড়ের সন্তোষার্থে পর্য্যায়ক্রমে উপস্থিত হইবেক আমি আপন প্রাণ দিয়া তাহার প্রাণ রক্ষা করিব। অনন্তর কৌশলক্রমে শ্যালককে বিদায় করিয়া ক্রমে ক্রমে অস্থিরাশির নিকটবর্ত্তী হইয়া রোদনশব্দ শ্রবণ করিলেন এবং ত্বরায় সেই রোদনস্থানে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন এক বৃদ্ধা নাগিনী শিরে করাঘাতপূর্ব্বক হাহাকার