পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


'ම් 8 ব্যঙ্গকৌতুক দেবতাগণ বহুল চিন্তা ও তর্কের পর ষ্ট্যাটিষ্টিক্স দেখিয়া অবশেষে স্থির করিলেন, এখনে সময় হয় নাই । কারণ, এখনো সময়ে সময়ে বারুণীর প্রাথর্য্য নিবারণের জন্য দুৰ্ব্বল মানব বরুণের সহায়তা প্রার্থনী করিয়া থাকে । তখন ধৰ্ম্ম বলিলেন, “লোকাচারকে আমার অধীনস্থ কৰ্ম্মচারী বলিয়৷ জানিতাম, কিন্তু সে তো আমার সঙ্গে পরামর্শমাত্র না করিয়া আপন ইচ্ছামত যাহ-তাহ করে, তবে সেই ছোড়াটাকেই সিংহাসন ছাড়িয়া দিলাম।” বায়ু কহিলেন, “পৃথিবীতে এখন উনপঞ্চাশ দিকে উনপঞ্চাশ বায়ু বহিতেছে, চাই কি, এখন আমি অবসর লইতে পারি ” আদিত্য কহিলেন, “মানবসমাজে বিস্তর খণ্ঠোত উঠিয়াছে, তাহারা মনে করিতেছে, সূৰ্য্য ন হইলেও আমরা একল কাজ চালাইতে পারি, জগৎ আলোকিত করিবার ভার তাহাদের উপর দিয়া আমি অস্তাচলে বিশ্রাম করিতে ইচ্ছা করি।” ভগবান চন্দ্রম শুক্লপ্রতিপদের ক্লশমূৰ্ত্তি ধারণ করিয়া কহিলেন, “নরলোকে কবির তাহাদের প্রেয়সীর পদনখরকে অামা অপেক্ষ দশগুণ প্রাধান্য দিয়া থাকেন, অতএব, যে পর্য্যন্ত কবিরমণীমহলে পাদুকার সম্পূর্ণ প্রচলন না হয়, সে পৰ্য্যন্ত আমি অন্তঃপুরে যাপন করিতে চাই । এমন কি,ভোলানাথ শিব অৰ্দ্ধনিমীলিত নেত্রে কহিলেন, “আমা অপেক্ষা বেশি গাজী টানে পৃথিবীতে এমন লোকের তে অভাব নাই, সেই সমস্ত সংস্কারকদিগের উপর আমার প্রলয়কাৰ্য্যের ভার দিয়া আমি অনায়াসে নিশ্চিন্ত থাকিতে পারি। এমন কি, আমি নিশ্চয় জানি, আমার ভূতগুলারও কোনো প্রয়োজন হইবে না !” সৰ্ব্বশেষে যখন শুভ্ৰবসন অমলকমলাসন সরস্বতী উঠিয়া বীণানিন্দিত মধুরস্বরে দেবসমাজে তাহার নিবেদন আরম্ভ করিলেন, তখন দেবগণ দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিলেন এবং মহেন্দ্রের সহস্ৰ চক্ষুর পল্লব সিক্ত হইয়া উঠিল ।