পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3 ব্যঙ্গকৌতুক “বলিলে অপরাধ হয় না, কিন্তু তোমার দিব্য, বলি নাই ।” ভ্রাতার অপমানে ব্রাহ্মণী পিতার ঘরে যাইবেন বলিয়া শাসাইতেছেন । জমিদার পশুপতিবাবু থাকিয়া থাকিয়া রাগে তাহার গোফ জোড়া বিড়ালের ন্যায় ফুলাইয়া তুলিতেছেন। তিনি বলেন, তাহাকে শুালক সম্বোধন করিয়া অনধিকার চর্চা করিয়াছি এবং লোকসমাজে তিনি আমার সম্বন্ধে যে সকল আলোচনা করিতেছেন তাহা সুশ্রাব্য নয়। এদিকে পাকড়াশি বাড়ির জগৎবাবু চা থাইতে খাইতে আমার প্রবন্ধ পড়িয়া অট্টহাস্তের সঙ্গে মুখভ্রষ্ট চায়ের ও রুটির কণায় বজ্রবিদ্ব্যদর্ষ্টির কৃত্রিম দৃষ্টান্ত রচনা করিতেছিলেন এমন সময় যেমনি পড়িলেন “জগংটা পশুশালা” অম্নি হাস্তের বেগ হঠাৎ থামিয়া গিয়া গলায় চা বাধিয়া গেল ; লোকে ভাবিল, ডাক্তার ডাকিবার সবুর সহিবে না । পাড়ামৃদ্ধ লোকের ধারণ যে, আমার প্রবন্ধে আমি তাহাদেরই পরমপূজনীয় জ্যাঠা, খুড়শ্বশুর অথবা ভাগ্নিজামাই সম্বন্ধে কোনো-না-কোনো সত্য আভাস দিয়াছি ; তাহারাও আমার ক্ষণভঙ্গুর মাথার খুলিটার উপরে লক্ষ্যপাত করিবে এমন কথা প্রকাশ করিতেছে । আমার প্রবন্ধের গভীর অভিপ্রায়টি যে কী তৎসম্বন্ধে আমার কথা তাহার। বিশ্বাস করিতেছে ন, কিন্তু আমার প্রতি তাহদের, অভিপ্রায় যে কী তৎসম্বন্ধে তাহাদের কথা অবিশ্বাস করিবার কোনো হেতু আমার পক্ষে নাই। বস্তুত তাহদের ভাষা উত্তরোত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে। মনে করিয়াছি, বাসা বদলাইতে হইবে— আমার রচনার ভাষাও বদলান আবশ্যক। আর যাহাই করি লোককে হাসাইবার চেষ্টা করিব না। > २ 3२