পাতা:মহর্ষি মনসুর - মোজাম্মেল হক.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

২৭ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ বায়তাল্লা অৰ্থাৎ ধৰ্ম্মমন্দির কা'বা মসজিদের সন্মুখভাগে সমস্ত দিবস প্ৰচণ্ড সেীর-রশ্মি-তলে অকাতরে স্থিরভাবে দণ্ডায়মান থাকিতেন । শরীরে অাচ্ছাদন মাত্ৰ দিতেন না, প্রখর সূৰ্য্যের অগ্নিকণা সদৃশ অসহ্য কর-প্রভাবে তাহার শরীর বহিয়া সহস্ৰধারে স্বেদ-ধারা বিগলিত হইয়া ভূমিতল কৰ্দমাক্ত করিয়া ফেলিত এবং তাহার সৰ্ব্বাঙ্গ দগ্ধ কাষ্ঠখণ্ডের ন্যায় গাঢ় কৃষ্ণবৰ্ণ ধারণ করিয়াছিল । কষ্টের অবধি ছিল না ; কিন্তু তাহাতেও তিনি এক মুহূৰ্ত্তের জন্যও বিচলিত হন নাই । তাহার বদনমণ্ডল প্ৰফুল্ল, িচত্ত বিকারহিত ও উচ্চশির গিরি সদৃশ অদম্য, আচল ও অটল ; মুখে আহা শব্দটীও বহিৰ্গত হইত না । দিবানিশি কেবল প্ৰস্তর-প্রতিমাবৎ স্থিরভাবে দণ্ডায়মান থাকিতেন । সেই সময়ে এক খণ্ড রুটীর সামান্য অংশ মাত্ৰ ভঁাহার দৈনিক তাহার ছিল । এইরুপ কঠোর তপস্যায় মহাতপা৷ মনসুর পূৰ্ণ এক বৎসর কাল অতিবাহিত করেন । কি অবিচলিত অসাধারণ অধ্যবসায় । ইহা ভাবিয়া দেখিলেও মস্তক বিবৰ্ণিত ও সৰ্ব্বাঙ্গ কণ্টকিত হইয়া উঠে ; এরপ অপূৰ্ব্ব সহিষ্ণুতা প্ৰকৃত সাধক ব্যতীত অপরের পক্ষে কখনই সম্ভবপর নহে । মহৰ্ষি মক্কা অবস্থানকালে একদা আরাফাতের প্রান্তরে প্ৰাৰ্থনা করিতে গমন করেন । তথায় প্ৰাৰ্থনাকালে বলেন, “হে করুণাময় জগৎপতে ! হে বিশ্বপ্ৰাণ ! হে প্ৰেমময় দীনবন্ধো ! আমার কাৰ্য্যকলাপের দ্বারা জগৎ যদি আমাকে মহাপাপী ধৰ্ম্মভ্ৰষ্ট বলিয়াই পরিগণিত করিয়া থাকেন, তবে হে