পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোলাপ ফুলের রঙ বার করে নেয়। গোলাপ ফুলের রঙ কি করে বার করে মা ? শিউলী বোটার রঙ কি করে বার করে দেখিস নি ? সেদ্ধি করে, না ? ईTा । তুমি আলতা পর কেন মা ? পরতে হয় রে, নইলে লোকে নিন্দে করে যে। কেন ? এ কোেনর অন্ত থাকে না । বিধানের প্রকৃতির আর একটা অদ্ভুত দিক আছে, পশুপাখির প্রতি তার মমতা ও নিমমিতার সমন্বয়। কুকুর বিড়াল আর পাখির ছানা পুষিতে সে যেমন ভালবাসে, এক এক সময় পোষা জীবগুলিকে সে তেমনি অকথ্য যন্ত্রণা দেয়। একবার সন্ধ্যার সময় ঝড় উঠিলে একটি BD DLDD Kt DD BBDBD BB OBDS বিধান ছানাটকে কুড়াইয়া আনিয়াছিল, আঁচল দিয়া পালক মুছিয়া লণ্ঠনের তাপে সেঁক দিয়া তাহাকে বঁাচাইয়াছিল শ্যাম। পরদিন থাচা আসিল । বিধান নাওয়া খাওয়া ভুলিয়া গেল। ক্ষুদ্র বন্দী জীবটি যেন তাহারই সম্মানীয় অতিথি । হরদম ছাতু ও জল সরবরাহ করা হইতেছে, বিধানের দিন কাটিতেহে খাঁচার সামনে। কি তাহার গভীর মনোযোগ, কি ভালবাসা । অথচ কয়েকদিন পরে, এক দুপুরবেলা পাখিটিকে সে ঘাড় মটকাইয়া মারিয়া রাখিল । শুষ্ঠামা আসিয়া দেখে, মরা পাখির ছানাটিকে আগলাইয়া বিধান যেন পুত্ৰশোকেই আকুল হইয়া কঁাদিতেছে। ও খোকা, কি করে মরাল বাবা, কে মারলে ? বিধান কথা বলে না, শুধু কঁাদে । সত্যভামা আজও এ বাড়িতে কাজ করে, সে উঠানে বাসন মাজিতেছিল, বলিল, নিজে গল টিপে মেরে ফেললে মা, এমন দুরন্ত ছেলে জন্মে দেখিনি, -স্বন্দোর ছ্যানাট ශf;! তুই মেরেছিল ? কেন মেরেছিস খোকা ? শ্যাম বারবার জিজ্ঞাসা করিল, বিধান কথা বলিল না, আরও বেশি। করিয়া কঁদিতে লাগিল। শেষে শ্যামা রাগিয়া বলিল, কঁাদিস নে মুখপোড়া ছেলে, নিজে মেরে আবার কান্না কিসের ? মরা পাখিটাকে সে প্রাচীর ডিঙ্গাইয়া বাহিরে ফেলিয়া দিল । রাত্রে শু্যামা শীতলকে ব্যাপারটা বলিল । এসব দেখিয়া শুনয় তাহার বড় ভাবনা হয় । কেমন BDD S Lz SDBBDS S BT D BB BDL DDDDD উপর । খেলের এই দুর্বোধ্য কীৰ্তি লইয়া খানিকক্ষণ আলোচনা করিয়া তাহারা দুজনেই ছেলের মুখের দিকে বলিল,

      • SA

চাহিয়া রহিল, বিধান তখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল। এরকম রহস্যময় প্রকৃতি ছেলেটা পাইল কোথা হইতে ? ওর দেহ-মন তাদের দুজনের দেওয়া, তাদের চোখের সামনে হাসিয়া কঁাদিয়া থেলা করিয়া ও বড় হইয়াছে, ওয়া মধ্যে এই দুর্বোধ্যতা কোথা হইতে আসিল ? শুষ্ঠামা বলে, তোমায় এ্যাদিন বলিনি, মাঝে মাঝে গম্ভীর হয়ে ও কি যেন ভাবে, ডেকে সাড়া পাইনে। শীতল গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়া বলে, সাধারণ ছেলের মত হয়নি । শুষ্ঠামা সায় দেয়, কত বাড়ির কত ছেলে তো দেখি, আপনি মনে খেলাধুলো করে, খায় দায় ঘুমোয়, এ যে কি ছেলে হয়েছে, কারো সঙ্গে মিল নেই। কী বুদ্ধি দেখেছে ? শীতল বলে, কাল কি হয়েছে জানি, জিগ্যেস করেছিলাম, দশ টাকা মণ হলে আড়াই সেরের দাম কত, সঙ্গে সঙ্গে বললে দশ আনা। কতদিন আগে বলে দিয়েছিলাম, যত টাকা মণ আড়াই সের তত আনা, ঠিক মনে রেখেছে। বাড়িতে একটা পোষা বিড়াল ছিল, রাণী । একদিন দুপুরবেলা গলায় দড়ি বাধিয়া জানালার শিকের সঙ্গে, ঝালাইয়া দিয়া কঁাপিতে কঁাপিতে বিধান তাহার মৃত্যু যন্ত্রণা দেখিতেছিল। দেখিয়া শ্যামা সেদিন ভয়ানক রাগিয়া, গেল। রাণীকে ছাড়িয়া দিয়া ছেলেকে সে বেদম মার মারিল। বিধানের স্বভাব কিন্তু বদলাইল না। পিপড়ে দেখিলে সে টিপিয়া মারে, ফড়িঙ ধরিয়া পাখা ছিড়িয়া দেয়, বিড়ালছানা কুকুরছানা পুযিয়া হঠাৎ একদিন যন্ত্রণা দিয়া মারিয়া ফেলে। বারো তেরো বছর বয়স হওয়ার আগে । তাহার এ স্বভাব শোধরায় নাই। এখন শীতলের আয় কিছু বাড়িয়াছে। পিতার আমল হইতে তাহদের নিজেদের প্রেস ছিল, প্রেসের কাজ সে ভাল বোঝে, তার তত্ত্বাবধানে কমল প্রেসের অনেক উন্নতি হইয়াছে। প্রেসের সমস্ত ভার এখন তাহার, মাহিনীর উপর সে লাভের কমিশন পায়, উপরি আয়ও কিছু কিছু হয়। সেটা এই রকম। ব্যবসায়ে অনেক কিছুই চলে, অনেক কোম্পানীর যে কৰ্মচারীর উপর ছাপার কাজের ভার থাকে, ফম পিছু আট টাকা দিয়া সে প্রেসের দশ টাকার বিল দাবী করে, এরকম বিল দিতে হয়, প্রেসের মালিক কমল ঘোষ তাহা জানে। তাই খাতাপত্রে দুশ টাকা পাওনা লেখা থাকিলেও আট অথবা দশ। কত টাকা ঘরে আসিয়াছে, সব সময় জানিবার উপায় থাকে না। জানে শুধু সে, প্রেসের ভার থাকে যাহার উপর। শীতল অনায়াসে অনেক দশ টাকা পাওনাকে আট টাকায় দাড় করাইয়া দেয়। প্রেসের মালিক কমল ঘোষ হয়ত । মাঝে মাঝে সন্দেহ করে, কিন্তু প্রেসের ক্রমোন্নতি দেখিয়া । दिछू दल न। শীতলের খুব পরিবর্তন হইয়াছে। কমল প্রেলে টাকা পাওয়ার আগে সে দেড় বছর বেকার বসিয়াছিল, কেমন হয়। Y. v, ন্ম-me = s