পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সঙ্গে দেখা করে টাকা পয়সা দিয়ে যাব। তারপর দু’চার বছর কেটে গেলে বাড়িটা বিক্রি করে তোমরা এদিক ওদিক কিছু দিন ঘুরে ফিরে আমি যেখানে থাকব। সেইখানে চলে যাবে। ছ হাজার টাকার তো মামলা, কে আর অতদিন মনে করে রাখবে, কমলবাবুও ভুলে যাবে, পুলিসেও খোজটোজ আর নেবে না। KK DBDS DBD DDB BDD D DBB DBD DB CVSf3 Cf | এতক্ষণে শীতল একটু হাসিল, বলিল, সে আমি তোমায় কবে দান করে দিয়েছি, খুকি হবার সময় আমার একবার অসুখ হয়েছিল না ?--সেইবার। আমার বাড়ি হলে কমলবাবু এতক্ষণ বাড়ি বিক্রি করে টাকা আদায় করে নিত । শ্যামার মনে হয়, শীতলকে সে চিনিতে পারে নাই। মাথায় একটু ছেট আছে, ঝোঁকের মাথায় হঠাৎ যা তা করিয়া বসে, কিন্তু বুকখানা স্নেহ-মমতায় ভরপুর। ঘটা দুই পরে সাব ইনসাপেক্টর রজনী ধর আসলেন। ভারি অমায়িক লোক । হাসিয়া বলিলেন, না মশাই না, দেশে দেশে আপনাকে আমরা খুজে বেড়াইনি, যত বোকা ভাবেন আমাদের, অত বোকা আমরা নই, বি-এ এম-এটা আমরাও তো পাশ করি ? আপনার বাড়িটাতে শুধু একটু নজর রেখেছিলাম-আমি নই, আমি মশায় থানায় ঘুমোচ্ছলাম। --অন্য লোক। আপনি একদিন আসবেন তা জানতাম,-সবাই আসে, স্ত্রী পরিবারের মায়া বড় মাম। মশায়। টাকাগুলো আহে নাকি পকেটে ? দেখি একবার হাতড়ে। না থাকে তো নেই, টাকার চেয়ে আপনাকেই আমাদের দরকার বেশি, আপনাকে পাওয়া আর দু'শোটি টাকা পাওয়া সমান। কিনা। জানেন না বুঝি ? আপনার জন্যে কমলবাবু যে দু’শো টাকা পুরস্কার জমা দিয়েছেন।-নইলে এই শীতের রাত্রে বিছানা ছেড়ে উঠে এসেও আপনার সঙ্গে এমন মিষ্টি মিষ্টি কথা কই ? শ্যামার কান্না, ছেলেমেয়ের কান্না, সর্বসমেত পাঁচটি প্ৰাণীর কান্নার মধ্যে শীতলকে লইয়া সাব-ইন্সপেক্টর চলিয়া গেল। মামা বলিল, কঁাদিসনে শ্যামা, কাল জামিনে খালাস করে আনব। তারপর চুপি চুপি খলিল, কি মুখ্য দেখলি ? টাকাগুলো পকেটে করে নিয়ে এসেছে। নিজেও গেলি छेकिN3 ciल,-60ाल ऊ ? শীতলের জেল হইয়াছে দু’বছর। শু্যামা একজন ভাল উকিল দিয়াছিল। শীতলের এই প্ৰথম অপরাধ। টাকাও কমলবাবু প্ৰায় সব ফিরিয়া 智利布 পাইয়াছিলেন,--শ্যামা যে হাজার টাকা লুকাইয়া ফেলিয়াছিল। আর শীতল যে শ’তিনেক খরচ করিয়াছিল, সেটা ছাড়া । জেল শীতলের ছ’মাস হইতে পারিত, এক বছর হওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু শীতলের কিনা মাথায় ছিট আছে, - বিচারের সময় হাকিমকে সে যেন একদিন কি সব বলিয়াছিল, -যেসব কথা মানুষকে খুসি করে না। তাই শীতলকে হাকিম কারাবাস দিয়াছিলেন আঠার মাস আর জরিমানা করিয়াছিলেন দু'হাজার টাকা-অনাদায়ে আরও দশ মাস কারাবাস। জরিমানা দিলে কমলবাবু অধোক পাইতেন, অধোক যাইত সরকারী তহবিলে। এই জরিমানার ব্যাপারটা শ্যামাকে ক'দিন বড় ভাবনায় ফেলিয়াছিল । মামা না থাকিলে সে কি করিত বলা যায় না, বকুলকে শীতল যেদিন গভীর রাত্রে ফিরাইয়া দিতে আসিয়াছিল, সেদিন দু’টি ঘণ্টা সময়ের মধ্যে তাদের যেন একটা অভূতপূর্ব ঘনিষ্ঠতা জন্মিয়া গিয়াছিল, দুই যুগ একত্র বাস করিয়াও তাহদের যাহা আসে নাই : স্বামীর জন্য সে রাত্রে বড় মমতা হইয়াছিল শ্যামার। কিন্তু মামা তাহাকে বুঝাইয়া দিয়াছিল, জরিমানার টাকা দেওয়াটা বড় বোকামির কাজ হইবে, বিশেষত বাড়ি বাধা না দিয়া যখন পুরা টাকাটা যোগাড় হইবে না-টােক কই শ্যামার ? হাজার টাকার নম্বর দেওয়া নোটগুলি তো এখন বাহির করা চলিবে না। বাহির করা চলিলেও আরেক হাজার টাকা ?--কাজ নাই ওসব দুবুদ্ধি করিয়া। আঠার মাস যাকে কয়েদ খাঁটিতে হইবে, সে আর দশ মাস বেশি কাটাইতে পারিবে না জেলে । দশ মাসই বা কেন ? বহুরে ক’মাস জেল যে মকুব হয়। তারপর, শেষের চার ছ'মাস জেলে থাকিতে কয়েদীর কি আর কষ্ট হয় ? তখন নামে মাত্র কয়েদী, সকালে বিকালে একবার নাম ডাকে, বাস তারপর কয়েদীর যেখানে খুসি যায়, যা খুসি করে, --রাজার হালে থাকে। বাড়িতেও তো আসতে পারে, তবে এক আধা ঘণ্টার ଔC୭ ? না, তা পারে না-জেলের বাইরে যেতে আসতে দেয়, দুদণ্ড দাড়িয়ে এর ওর সঙ্গে কথা বলতে দেয়, তাই বলে নজর কি রাখে না একেবারে ? তাছাড়া কয়েদীর পোষাক পরে কোথায় যাবে ?-কেউ ধরে এনে দিলে তো শেষ পৰ্যন্ত দাড়াবে, পালিয়ে যাচ্ছিল - আবার দেবে ছ'মাস ঠাকে ! জেলের কাণ্ডকারখানার কথা আর বালসনে শ্যামা, মজার জায়গা জেল,-শীতল যত । কষ্ট পাবে ভাবছিস, তা সে পাবে না, ওই প্ৰথম দিকে একটু যা মনের কষ্ট। উৎসাহের সঙ্গে গড়গড় করিয়া মামা বলিয়া যায়, অবাধ অকুণ্ঠ ! কত অভিজ্ঞতাই জীবনে মামা সংগ্ৰহ করিয়াছে ! শ্যামা সজল, চোখে বলিয়াছিল, এত খবরও, তুমি জান