“না দেখে মানুষ জন বনের পশুপাখী।
যার ধন তার কাছে লুকাইয়া রাখি॥”
“কার ধন কার কাছে রাখ লুকাইয়া।”
অবাক্যি[১] হইলা ঠাকুর একথা শুনিয়া॥
কেনা কহে “এ ধন সকলি মাটীর।
মাটীতে লুকাইয়া রাখি যুক্তি করি স্থির॥
মাটীতে মিশিয়া ধন যাউক মাটী হইয়া।
মানুষ যে নাহি পায় সে ধন খুজিয়া॥
ভাবিয়া দেখহ ঠাকুর যত টাকাকড়ি।
কেবলি লোভের চিহ্ন জগতের বৈরী॥”
ঠাকুর কহেন “বল লাভ তাহায়।
ধন লইয়া কোন জন মাটীতে লুকায়॥
ভোগ নাহি কর ধন রাখ লুকাইয়া।
এ ধনে কি ফল আছে অর্জন করিয়া॥”
কেনারাম বলে “ঠাকুর ভোগের লাগিয়া।
ধন নাহি লই আমি পথিকে ভারাইয়া॥
দেশে যত ধনী আছে তাহাদের ধনে।
ভিক্ষুক লোকের আসে কোন প্রয়োজনে॥
থাকিয়া ভাণ্ডারের ধন ভাণ্ডারেতে ক্ষয়।
এ ধনেতে সংসারের কোন কার্য্য হয়॥
কথায় কথায় ঠাকুর অনেকক্ষণ গেল।
বেলা ফুরাইয়া দেখ সন্ধ্যা যে হইল॥”
খাণ্ডা তুলিরা ধরে কেনারাম কয়।
"শীঘ্র করি মারি সবে দেরী নাহি সয়॥”
- ↑ অবাক্যি=অবাক্।