এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দস্যু কেনারামের পালা
২৩৩
“আজি হতে গেল এই চম্পকের বাহার।
বাগান করিয়া খালি গেল পম্পসার॥
সোনার মন্দির দেখ আন্ধাইর করিয়া।
সন্ধ্যাকালের বাতি যেন গেলরে নিবিয়া॥”
মরা পতি লইয়া কন্যা যায় দেবপুরে।
তাহা দেখি রাজ্যের লোক হাহাকার করে॥
গজ কান্দে অশ্ব কান্দে কান্দে পশুপাখী।
ছয় ভাইয়ের বউয়ে কান্দে “কেমনে ঘরে থাকি॥”[১]
(৬)
কেনারামের জীবনে পরিবর্ত্তন
যখন গাইলা পিতা বেহুলা ভাসান।
ফেলিয়া হাতের খাণ্ডা কান্দে কেনারাম॥
“গুরুগো কি গান শুনাইলা গুরু ফিরে কও শুনি।
শুনিয়া পাগল হইল পাষণ্ডের প্রাণী॥
কিবা ধন দিব গুরু কোন ধন আছে।
তোমারে যে দিব ধন আইস মোর কাছে॥
বড়া ভরা ধন আমি রাখিয়াছি লুকাইয়া।
সাত পুরুষ খাইবা তুমি গৃহেতে বসিয়া॥
মনুষ্য মারিয়া আমি কামাইয়াছি ধন।
জীবন ভরিয়া যত করছি উপার্জন॥
সেই সব ধন আমি দিব যে তোমায়।
অন্তকালে স্থান গুরু দিও রাঙ্গা পায়॥
30—1918 B.T.
- ↑ এই (পঞ্চম) অধ্যায়টি নারায়ণদেব, বংশীদাস, কোটীশ্বর দাস, রাবণ পণ্ডিত প্রভৃতি কবির রচিত মনসা-মঙ্গল হইতে সংগৃহীত। ইহা পালা-গায়কেরা কেনারামের প্রসঙ্গে গাহিয়া থাকে। কেনারামের আখ্যায়িকার এরূপ দীর্ঘ মনসা-মঙ্গল কতকটা অপ্রাসঙ্গিক, এই জন্য ইহার অতি সংক্ষিপ্ত সারাংশ ইংরাজীতে দিয়াছি। তবে এই অধ্যায়ের কয়েকটি ছত্র চন্দ্রাবতীর রচিত, সেই ছত্রগুলির প্রথম অক্ষরের সম্মুখ ভাগে নক্ষত্র-চিহ্ন দিয়াছি। বলা বাহুল্য, পূর্ব্ববর্ত্তী ও পরবর্ত্তী অধ্যায় সমস্তই চন্দ্রাবতীর রচনা।