ভিক্ষা না করিও আর বাড়ী বাড়ী ঘুরি।
জীবনের কামাই যত দিবাম ঘড়া ভরি॥”
ঠাকুর কহিছে “আমার ধনে কার্য্য নাই।
যে ধন পাইয়াছি আমি তোমাকে জানাই॥
সে ধনের কাছে দেখ এই সব ধন।
মানিকের কাছে দেখ ছিসেরছ[১] মতন॥
এধন লইয়া মোর কোন কার্য্য নাই।
তোমার কাছে থাকুক ধন আমার কার্য্য নাই॥
ভিক্ষা করিয়া আমি পাই চাউল কড়ি।
ভরিয়া পাপের বোঝা ডুবাই কেন তরী॥
মানুষ মারিয়া তুমি করিয়াছ পাপ।
জীবনান্তে পাবে কেনা তার অনুতাপ॥
চউরাশি নরককুণ্ডে রহিবে ডুবিয়া।
যখন হানিবে যম শিরে দণ্ড দিয়া॥”
আকাশ পাতালে কেনা চাহে বারে বার।
চেয়ে দেখে দশ দিক ঘোর অন্ধকার॥
চারিদিক চাইয়া দেখে না দেখে কাহারে।
“থাক কেহ দেখা দেহ এই অন্ধকারে॥
জন্মিয়া না দেখছি মায় না দেখছি বাপে।
সংসার ছাড়িয়াছি আমি কত অনুতাপে॥
কেউ না আছিলা মোর ডাইকা জিজ্ঞাস করে।
কেউ না আছিল হেন শিক্ষা দেয় মোরে॥
আগেতে মরিলা মাও বাপ গেলা ছাড়ি।
বিপাকে পড়িয়া আমি গেলাম মামার বাড়ী॥
দুরন্ত আকালে মামা কোন কার্য্য করে।
জানিয়া পরের পুত্ত্র বেচিল আমারে॥
পাচ কাঠা শালি ধান কিম্মতক[২] আমার।
কুসঙ্গে মজিয়া হইছি হেন দুরাচার॥
পাতা:মৈমনসিংহ গীতিকা (প্রথম খণ্ড) - দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/২৮৮
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩৪
মৈমনসিংহ-গীতিকা